Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উপকূলবর্তী কৃষি উত্পাদনে ধস : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব

সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
জলবায়ুর পরিবর্তন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলবর্তী অঞ্চলের কৃষি উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চাষযোগ্য কৃষি জমি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি অনুকূল পরিবেশের অভাবে এ অঞ্চলের কৃষি উত্পাদনে ধস নেমে আসছে। এতে কৃষি শ্রমিকরা যেমন বেকার হচ্ছে, তেমনি প্রান্তিক চাষীরা জমি হারিয়ে ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে।
অব্যাহত নদীভাঙন এবং কৃষি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও সেচ ব্যবস্থার অপ্রতুলতাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা কারণে গত দুই দশকে সুন্দরবন উপকূলবর্তী উপজেলা শ্যামনগরে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর চাষযোগ্য কৃষি জমি কমে গেছে। ফলে কৃষি উত্পাদনও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং স্থানীয় কৃষকরা কৃষি ক্ষেত্রে এমন বিরূপ অবস্থার নেপথ্য কারণ হিসেবে জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করে চূড়ান্ত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে গত কয়েক দশকে কৃষি উত্পাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বঙ্গোপসাগর বিধৌত সমতল ভূমিতে গড়ে ওঠা এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চাষযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। অনুকূল পরিবেশের অভাবে প্রতি বছর কৃষি উত্পাদন কমে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের এক জরিপে দেখা যায়, শ্যামনগর উপজেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫৭০ হেক্টর। ১৯৯০-৯১ সালে উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলায় ৩০ হাজার ৭৭৭ হেক্টর চাষযোগ্য কৃষি জমি থাকলেও এক দশকের ব্যবধানে তা ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টরে নেমে এসেছে। বর্তমানে (২০০৯-১০ সাল) চাষযোগ্য কৃষি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টরে। গত কয়েক দশকে নদীভাঙন এবং লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি চাষের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ নানা কারণে উপকূলবর্তী এ উপজেলায় চাষের জমির পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এছাড়া কৃষি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, সেচের পানির তীব্র সঙ্কট ও লবণ সহিষ্ণু প্রজাতির ধানের অভাবসহ নানাবিধ কারণে ফসল উত্পাদনও কমে যাচ্ছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনকে কৃষি উত্পাদন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে এ অঞ্চলের কৃষকসহ সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার হায়বাদপুর গ্রামের শেখ ইমাম হোসেন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রজাতির পরিবর্তে উফশী প্রজাতির ধান চাষ করা হচ্ছে। সময়মত জমিতে পানি না দিতে পারায় আশানুরূপ ফলনও পাওয়া যাচ্ছে না।
পানখালীর প্রমথ মহালদার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে ধানের জমিতে এখন বাধ্য হয়ে লবণ চাষ করছেন।
সাধুপাড়ার সুরেশ রায় জানান, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উফশী প্রজাতির ধান লাগিয়েও তিনি গত কয়েক বছর আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন না। আর এ জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি আরও জানান, পরিবেশের বৈরী আচরণের কারণে কৃষি ও পরিবেশ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে স্পষ্টত প্রভাবিত করছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর আইলার কারণে ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হলেও শ্রাবণ মাসের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। আর্শ্বিন-কার্তিক মাসে কোনো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আরও ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাত্র সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল কৃষকরা ঘরে উঠাতে পেরেছেন, যদিও কৃষি বিভাগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ঘরে তোলা ফসলের পরিমাণ সরকারি হিসাবেরও অর্ধেক বলে তাদের দাবি। সরকারি এক হিসাবে দেখা যায়, উপজেলায় ভূমিহীন চাষী, প্রান্তিক চাষী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং বড় চাষী মিলিয়ে সর্বমোট ৬০ হাজার ২০০ কৃষক পরিবার থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে ওইসব কৃষক পরিবারের অনেকেই কৃষি কাজে আগ্রহ হারিয়ে পেশার পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে।
এ অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে অনেকে লবণাক্ত পানি জমিতে প্রবেশ করিয়ে চিংড়ি চাষে জড়িত হলেও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব চিংড়ি শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে অনেকেই চিংড়ি চাষ থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ অঞ্চলের চিংড়ি চাষের পথিকৃেদর অন্যতম তানভীর মঈন এবং সফিকুল ইসলাম দুলু, আছাদুল্লাহ আছুসহ অসংখ্য চিংড়ি চাষী জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনুন্নত রেণু পোনার সরবরাহসহ নানাবিধ কারণে চিংড়ি শিল্পও বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?