Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

৩৮ বছরেও কলারোয়ার গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ হয়নি

কেএম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা)
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৩৮ বছর পার হলেও কলারোয়ার অনেক গণকবর ও বধ্যভূমি আজও অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রতিবছর ডিসেম্বর আসলেই শহীদের আপনজনরা তাদের কথা স্মরণ করে নীরবে ফেলেন চোখের জল। ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে কলারোয়াবাসীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। এ যুদ্ধে ২ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করে। লড়াই ও মুক্তিকামী মানুষের সহযোগিতায় একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনীর তাণ্ডবলীলা থেকে মুক্ত হয় কলারোয়া। ৯ মাসে ৬/৭টি সম্মুখযুদ্ধে পাকবাহিনীর কাছে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন। কলারোয়া উপজেলার ৯টি গণকবরের অস্তিত্ব আছে। সেগুলো হলো—শ্রীপতিপুরের পালপাড়ায় ৯ জন, কলারোয়া ফুটবল মাঠের দক্ষিণে ৫ জন, বালিয়াডাঙ্গা বাজারে ৭ জন, ভাদিয়ারিতে ৪ জন, গয়ড়া বাজারে ২ জন, সোবাড়িয়া মোড়ে ৩ জন, সোনাবাড়িয়া মঠমন্দির এলাকায় ৩ জন, বামনখালীর ঘোষপাড়ায় ৩ জন এবং কলারোয়ার পার্শ্ববর্তী শার্শা থানার জামতলা নামক স্থানে ৭ জন। ৭১-এর ৩০ এপ্রিল কলারোয়ার শ্রীপতিপুরের পাল পাড়ায় প্রথমে ব্রাশফায়ার চালিয়ে গণহত্যা করা হয় বৈদ্যনাথ নাথ পাল, রঞ্জন পাল ও বিমল পালসহ ৯ জনকে। পরে পাক সেনারা তাদের একই গর্তে ফেলে মাটিচাপা দিয়ে চলে যায়। বধ্যভূমিটি আজও সংরক্ষণ করা হয়নি। কলারোয়ার বালিয়াডাঙ্গা বাজারের গণকবরে হাফিজ, জাকারিয়া, ইমাদুলসহ ৭ জন, ভাদিয়ালী গ্রামের সীমান্ত নদীর তীরে ইউসুফসহ ৪ জন, বামনখালী ঘোষ পাড়ার গণকবরে রাজেন্দ্র ঘোষ, খগেন্দ্র ঘোষসহ ৩ জন, সোনাবাড়িয়া মঠমন্দির সংলগ্ন গণকবরে হাজরা গাঙ্গুলীসহ ৩ জন চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন। লতাপাতা ও আগাছায় ঢাকা পড়ে থাকা এ গণকবরের খবর রাখে না স্থানীয় অনেকেই। তবে গয়রা বাজারে শহীদ মিনারের পেছনে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন শহীদ নূর মুহাম্মদ ও এলাহী বক্স। এ ২ মুক্তিযোদ্ধার কবরটি স্থানীয় উদ্যোগে মোটামুটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। কলারোয়ার মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে খুলনা থেকে আসা ৫ ছাত্রকে হামিদপুর থেকে আটক করে থানার পেছনে দাঁড় করিয়ে পাকবাহিনী ব্রাশফায়ারে হত্যা করে সেখানেই গর্তে তাদের পুঁতে ফেলা হয়। এ গণকবরটিও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এছাড়া কলারোয়া উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অনেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর। কলারোয়ার খোরদো পাকুড়িয়া গ্রামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেনের কবর রয়েছে। খোরদো এলাকায় খোঁজ নিলেও অনেকেই কবরটির সন্ধান দিতে পারেনি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?