Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ২১ ডিসেম্বর ২০০৯, ৭ পৌষ ১৪১৬, ৩ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

টেকনাফে উপকূলীয় কেওড়া বাগান উজাড় করে তৈরি হচ্ছে চিংড়ি ঘের

এএইচ সেলিম উল্লাহ, উখিয়া (কক্সবাজার)
টেকনাফে উপকূলীয় কেওড়া বাগান উজাড় করে চিংড়ি ঘের তৈরি হচ্ছে। টেকনাফের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় সবুজ বনায়ন ঝাউবাগান উজাড়ের পর এবার ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে কর্তনকৃত গাছের মুথা (শেকড়) উপড়ে ফেলছে প্রভাবশালী মহল। পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতের জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে। এসব কেওড়া ও ঝাউ বন নিধনযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও রহস্যজনক এসব কাজ থেমে নেই। টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের ঝাউ বন নিধনের ঘটনায় পৃথক পৃথক ৫টি মামলা করার পরও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী চক্র ওই মামলার আলামত নষ্ট করতে এ অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঝাউবাগান নিধনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও এসব কিছু তোয়াক্কা না করে শাসক দলের নেতাকর্মীরা আবারও টেকনাফ উপকূলীয় কেওড়া বন উজাড় করে চিংড়ি ঘের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে উপকূলীয় বন বিভাগ আবারও ১টি অভিযোগ দায়ের করেছে টেকনাফ থানায় ।
অভিযোগে প্রকাশ, বন উজাড়কারীরা শাসক দলের লোক হওয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না, বরং পুলিশ বলছে, ওরা পলাতক। নিধনকৃত ঝাউগাছের মুথা উপড়ে ফেলায় সাগরের করাল গ্রাসে বিলীন হতে যাচ্ছে শত শত একর জমি। এছাড়া উপকূল রক্ষার্থে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করলেও জনগণের কোনো উপকারে আসছে না। এতে সরকারের শুধু অর্থ অপচয় হচ্ছে না। নিধন করা গাছের মুথা উপড়ে ফেলায় বর্তমানে সমুদ্রের ঢেউ সরাসরি বেড়িবাঁধে আঘাত হানছে। বন নিধনের ব্যাপারে মামলা হওয়ার ৩ মাস পরও নিরীহ গুটি কয়েক ব্যক্তি ছাড়া ওই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান হোতাদের রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করেনি টেকনাফ থানা পুলিশ। কিন্তু আসামিদের নির্ভয়ে প্রতিনিয়ত টেকনাফ থানার সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঝাউ বন নিধন মামলার বাদী শাহ পরীর দ্বীপ বিট কর্মকর্তা হাসান আল তারিক জানান, ঝাউ বন নিধনকারীরা জমি দখলের পাঁয়তারা ও মামলার আলামত নষ্ট করার জন্য নিধনকৃত বাগানের গাছের মুথা উপড়ে ফেলছে। এ ঘটনা নিয়েও গত ১ ডিসেম্বর টেকনাফ থানায় সাধার ডায়েরি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দুর্বৃত্তের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী জড়িত। টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ থেকে কক্সবাজারের কলাতলী পর্যন্ত গত ৮ মাসে অন্তত ৩৫ শতাংশ গাছের শেকড় ছাড়া কোনো অংশ নেই । আর এসব শেকড় বা মুথা এখন ঝাউবন নিধনকারী চক্র ও লাকড়ি কুড়ানি লোকজন উপড়ে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সাগরের জোয়ারের পানির ধাক্কায় বিধ্বস্ত হচ্ছে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ।
বন বিভাগ জানায়, ঝাউগাছ নিধনের ঘটনায় উপকূলীয় বন বিভাগ মামলা করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তদের আটক না করায় উপকূলীয় বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরও জানান, ১২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৯৯৫ সালে টেকনাফ সমুদ্র উপকূলীয় শাহ পরীর দ্বীপ থেকে বাহাড়ছড়া পর্যন্ত প্রায় ৭শ’ একর বালুচর জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার্থে ঝাউবাগান সৃজন করেছিল। তখন থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ অরণ্যের হাজার হাজার ঝাউগাছ উপকূল রক্ষার দেয়াল হিসেবে গড়ে উঠেছিল। অথচ শাসক দলের লোকজন উপকূল রক্ষার সেই সবুজ বেষ্টনী একের পর এক নিধন করে যাচ্ছে। তবে নিধনের বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ করলে নাজেহাল ও বদলির হুমকি দিয়ে থাকে শাসক দলের নেতাকর্মীরা। যার কারণে বন বিভাগ এ ঘটনা জেনেও না জানার ভান করে বসে আছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?