Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন নাশকতার হুমকি নেই : মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ‘বচনে’ এখনও নাশকতার আতঙ্কে মানুষ

শামসুস সালেহীন
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হামলা এবং নাশকতার হুমকির ‘বচনে’ জনসাধারণের মধ্যে এখনও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমদ সোহেল তাজ বিভিন্ন সময় চরমপন্থী, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার হুমকির কথা বলে জনগণকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের এসব মন্তব্যের সূত্র ধরে গত ১১ মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার নামে অভিজাত এলাকার শিশুদের স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। নগরীর মোড়ে মোড়ে বসানো হয় চেকপোস্ট। কড়া নজরদারি বাড়ানো হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। দেহতল্লাশি করা হয় পথচারীদের। সরকারের এসব আয়োজনে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই আতঙ্কের ছাপ এখনও মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে। অথচ এখন তাদের মুখে ভিন্ন সুর। গত ১৭ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন, দেশে এখন কোনো হামলা বা নাশকতার হুমকি নেই। তা সত্ত্বেও ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও সতর্কতায় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ও পদত্যাগ করা প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বিভিন্ন সময় দেশে হামলা ও নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে জনসাধারণের প্রতি সাবধান থাকার আহ্বান জানান। এতে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্কণ্ঠা বিরাজ করতে থাকে। আতঙ্কিত অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠানো বন্ধ করে দেন। সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক-উত্কণ্ঠা পিছু ধাওয়া করে। উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সর্বস্তরের মানুষ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন সিঙ্গাপুরে চিকিত্সা শেষে দেশে ফেরার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চরমপন্থীরা এখন দেশের জন্য বড় হুমকি। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ ও র্যাবপ্রধান ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের চরমপন্থী, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের দমন করতেই হবে। এজন্য যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নেবে। এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, চরমপন্থীদের ধরতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুলি খাবে না-কি? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে না। যারা মারা যাচ্ছে, তারা পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধেই মারা যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৈরি করা তালিকা ধরেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী দমনে অভিযান চলছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন গত ১১ অক্টোবর সাংবাদিকদের বলেন, দেশে হামলা ও নাশকতার হুমকি এখনও আছে। এসব হুমকি-ধমকিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকানো যাবে না। ইন্টারপোলের ৭৮তম সাধারণ সভায় যোগ দিতে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সময় জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হবে। নগরীর তেজগাঁও থানা প্রাঙ্গণে গত ১৪ অক্টোবর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল প্রদান অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, এ দেশে জঙ্গিরা একটা বড় হুমকি। দেশ থেকে জঙ্গির মূলোত্পাটনে সরকার বদ্ধপরিকর। এখানে সরকারের গাফিলতি নেই। যতদিন পর্যন্ত চক্রান্ত অব্যাহত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত জঙ্গি নির্মূলে সরকারের পদক্ষেপ চলবে।
গত ২৬ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু আবারও হামলা ও নাশকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ব্যাহত করতে অপশক্তি হামলা ও নাশকতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু দেশে হামলা ও নাশকতার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গত ১৪ নভেম্বর নগরীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বৃহত্তর পাবনা জেলা সমিতির আলোচনায় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমরা উদ্বিগ্ন। নাশকতা এড়াতে জাতিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশ নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু গত ১১ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সন্ত্রাসীরা দেশের মানুষের জন্য বড় হুমকি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চলবে। তাদের কীভাবে দমন করা যায় সেসব বিষয় নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করছি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ে চরমপন্থীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তারা এখন অবাধে চাঁদাবাজি এবং মানুষ হত্যা করছে।
গত ২৩ জুন ‘মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ সাময়িক সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ’ সংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন তার অফিসে সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের একের পর এক হুমকি দেশের নিরাপত্তায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সময় জাতির জনকের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবার নিরাপত্তা আইন-২০০৯’ আইন হওয়া দরকার বলে দেশের মানুষ মনে করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে বিভিন্ন সময় হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের মানুষ মনে করে, তাদের নিরাপত্তার জন্য আইন হওয়া দরকার। এজন্য সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
গত ২৬ মে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ ও চাঁদাবাজরা মানুষকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মোবাইলে সন্ত্রাসীরা চাঁদার জন্য দেশের মানুষকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাদের হুমকির হাত থেকে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। সন্ত্রাসীরা এখন মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। ওদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ব্যবসায়ীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। এদের ধরার কৌশল অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামছে। পাশাপাশি মোবাইল সন্ত্রাস বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি যৌথ সেল গঠন করা হবে।
দেশের সব মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেন, সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। এদের দমন করতে নতুন আইন করা হবে। মোবাইল ফোনে হুমকি, চাঁদা দাবি বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের নিরীহ মানুষকে দেশ-বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাদের খুঁজে বের করার জন্য ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেয়া হবে। মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) কার্যকরী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমদ সোহেল তাজ বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ এখন বড় সমস্যা। জঙ্গিরা একের পর হামলা ও নাশকতার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। জঙ্গিদের মোকাবিলা করার সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যারা ধর্মকে জিম্মি করে রাজনীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে তত্কালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেন, দেশের গার্মেন্ট শিল্পে জঙ্গি হামলা হতে পারে। এনজিও ছদ্মবেশে জঙ্গিরা নাশকতামূলক হামলার জন্য তত্পর রয়েছে। তারা গার্মেন্টগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবসের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বলেন, শুধু একুশে ফেব্রুয়ারিই নয়, দেশে যে কোনো সময় যে কোনো নাশকতামূলক হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে। হামলার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সবসময় সতর্ক রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন তেজগাঁও থানা কম্পাউন্ডে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজে দেশ ছেয়ে গেছে। তারা মানুষকে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের আরও কঠোর হতে হবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?