Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়ে আজ বিদায় নিচ্ছেন পিনাক রঞ্জন

বশীর আহমেদ
তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী মন্তব্যগুলো অনেক দিন ধরে মনে রাখবে এ দেশের মানুষ। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যিনি বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, সেই আলোচিত-সমালোচিত কূটনীতিক ভারতের হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে আজ ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় দায়িত্ব নেন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। তার দায়িত্ব নেয়ার ২/৩ দিন পরেই বাংলাদেশে ঘটে যায় সেই বহুল আলোচিত ১/১১-র ঘটনা। ১/১১-র ঘটনার নেপথ্যে যেসব বিদেশি কূটনীতিক কলকাঠি নেড়েছিলেন পিনাক তাদেরই একজন। বিগত তিন বছর দায়িত্ব পালনকালে ভারতীয় এই কূটনীতিকের বিভিন্ন মন্তব্যে তার বাংলাদেশ বিরোধিতারই প্রমাণ মেলে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডরের পর বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ভারতের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। তিনি ঢাকায় পৌঁছেই ঘোষণা দেন, ভারত বাংলাদেশে ৫ লাখ টন চাল রফতানি করবে। তবে এই চাল রফতানি নিয়ে রীতিমত নাটক করে ভারত সরকার। একের পর এক মূল্য বাড়ানো হয়। নানা অজুহাত দেখিয়ে চাল রফতানিতে ঘটানো হয় বিলম্ব। আর এসব বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, আমরা না খেয়ে তো আপনাদের খাওয়াতে পারি না। তার এ মন্তব্যে হতবাক হয় পুরো দেশবাসী। কারণ, কোনো শত্রুও প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করতে পারে না। বাংলাদেশ ভারতের কাছে কোনো অনুদান চায়নি। ভারত নিজের আগ্রহেই চাল রফতানি করতে চেয়েছিল।
টিপাইমুখ ইস্যু বাংলাদেশের জন্য একটি জীবন-মরণ সমস্যা। বাংলাদেশের মানুষ যখন টিপাইমুখের বিরুদ্ধে সোচ্চার, ঠিক তখনই বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কে পিনাকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য অবাক করে গোটা দেশবাসীকে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞদের সম্পর্কে বলেন, তথাকথিত এসব বিশেষজ্ঞ টিপাইমুখ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের কোনো ধারণা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি পিনাক রঞ্জন। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ভারতবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে কোনো কোনো দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। এতে তাদের কোনো লাভ হবে না। পিনাক রঞ্জন মাঝে মাঝেই এ ধরনের শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশ ও এদেশের মানুষকে কটাক্ষ করেছেন। তার বিরুদ্ধে সমালোচনাও কম হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যাহারের দাবি পর্যন্ত জানানো হয়। তার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হয়েছে মিছিল-সমাবেশ। তাতেও তিনি দমে যাননি কখনও। অব্যাহত রেখেছেন নিজের বক্তব্য।
এরপর এক মাস যেতে না যেতেই আবারও আলোচনায় আসেন বিতর্কিত এই কূটনীতিক। ভারতের ভিসা প্রার্থীদের নানা হয়রানি আর বিড়ম্বনার কথা সবারই জানা। গত ২০ জুলাই হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক শীর্ষক সেমিনারে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কোনো রকম কূটনৈতিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে বলেন, ভারতে ভিসাপ্রার্থী ৮০ ভাগ বাংলাদেশীই টাউট। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি গোটা বাংলাদেশকে অপমান করেন। পিনাকের এ বক্তব্যেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে ভারতের এই কূটনীতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির যে কোনো তোয়াক্কা করেননি এসব ঘটনা সে কথাই মনে করিয়ে দেয়। ভারতের বন্ধু বলে পরিচিত আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায়। এই আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিও পিনাকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছেন, ভারতের দূত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা মানেননি। তার বক্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
বিদায়ী এ কূটনীতিকের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশেই। তার জন্মও এখানে। তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, গত তিন বছর দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে এ দেশের মানুষের মনে শুধু আঘাতই দিয়েছেন এই কূটনীতিক।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?