Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জেদ্দা বিমানবন্দরে বাংলাদেশী হাজীদের সীমাহীন দুর্ভোগ

মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন, জেদ্দা থেকে ফিরে
হজ শেষে হাজীদের জেদ্দা বিমানবন্দরে সীমাহীন বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। চরম অবহেলায় হজফেরত বাংলাদেশী হাজীদের এক-দু’ঘণ্টা বা একদিন-দু’দিন নয় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত মানবেতর দিন কাটাতে হয়েছে বা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হজ মিশন বা বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো কর্মতত্পরতা নেই বললেই চলে। হজ টার্মিনালে অন্য দেশের মতো বাংলাদেশ হজ মিশনের একটি সাইনবোর্ড ও কয়েকটি পতাকা নজরে পড়লেও হজ শেষে আসার সময় সাইনবোর্ড ও পতাকাসর্বস্ব সেই অফিসটিও দেখা যায়নি। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশের হজ মিশনগুলো এখনও সক্রিয়ভাবে তাদের নিজ নিজ দেশের হাজীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছে। এ প্রতিবেদকও হজ শেষে একরাত একদিন জেদ্দা বিমানবন্দরে চরম উদ্বেগ নিয়ে কাটিয়েছেন। এ সময় প্রায় সাড়ে তিনশ’ হাজী একই বিমানে ঢাকা আসার কথা ছিল। ১০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় জেদ্দা থেকে বিমান ঢাকা যাত্রা করবে। তাই ৯ ডিসেম্বর সকালেই মদিনা থেকে রওনার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। নির্দেশনা মোতাবেক সকাল থেকেই মাল নামিয়ে রাস্তায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করলেও গাড়ি আসে সন্ধ্যায়। রাত ১১টার দিকে জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছার পর হাজীদের এক স্থানে ফেলে রাখা হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছেই আঁচ করা গেল ফ্লাইট সম্ভবত সকাল সাড়ে ৬টায় ছাড়ছে না। কারণ, বেশ কয়েকদিন ধরেই ৪/৫ হাজার বাংলাদেশী হাজী বিমানবন্দরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। অনেকের কাছেই শীতবস্ত্র, খাবার-দাবার বা টাকা-কড়ি কিছুই ছিল না।
এই বিড়ম্বনা ও কষ্ট দেখার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হজ মিশন বা দূতাবাসের কেউ ছিলেন না। এমনকি ট্রাভেল এজেন্সির লোকরা মক্কা বা মদিনায় হাজীদের জেদ্দার বাসে উঠিয়ে উধাও হয়ে যান। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হাজীরা বুঝতে পারেন না তাদের করণীয় কী। অথচ বিশ্বের অন্য সবক’টি দেশের এমনকি মুসলিম দেশের হজ মিশন ও দূতাবাসগুলো তাদের স্বদেশের হাজীদের তাবত্ সমস্যার তাত্ক্ষণিক সমাধান দিয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের হজ মিশনের সামনে হাজীদের কোনো জটলাই দেখা যায়নি। তাদের দেশের হাজীরা বিমানবন্দর পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে কোনো কার্পণ্য করেননি। কোনো কারণে ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হলে হাজীদের হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেদ্দা হজ বিমান টার্মিনালের অর্ধেকের বেশি লোকই বাংলাদেশের। অন্য কোনো দেশের হাজীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশী হাজীদের ব্যাপারে সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশের সরকার এত উদাসীন কেন, তা অন্য দেশের হাজীদেরও প্রশ্ন। অথচ হিন্দুরাষ্ট্র ভারতেও হাজীদের থেকে বিমান ভাড়া নিয়ে থাকে একেবারেই সামান্য। এক্ষেত্রে সে দেশের সরকারকে বেশ লোকসান গুনতে হয় বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বিমান সাধারণ যাত্রী বহন করে লোকসান গুনলেও হাজীদের থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নিয়ে হাজীদের সেবা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অথচ বাংলাদেশে এসে যখন মন্ত্রী-এমপিদের মুখে শোনা যায় এবারের মতো সুন্দরভাবে হজ সম্পাদন অতীতে আর কখনও হয়নি তখন লজ্জা আর বিস্ময়ের অন্ত থাকে না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?