Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মার্কিন চাপে সীমিত জলবায়ু চুক্তি সই : বহু দেশের প্রত্যাখ্যান

ডেস্ক রিপোর্ট
শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে সীমিত এক জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো কোপেনহেগেনে। উন্নয়নশীল বিশ্বের মুষ্টিমেয় কিছু দেশের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। তাই অনেকে এই চুক্তিকে অসম্পূর্ণ এবং পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এএফপি, টাইম অনলাইন, এনডিটিভি, বিবিসি
অনেক আশা-ভরসা আর স্বপ্ন-কল্পনা নিয়ে যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে তা শেষ পর্যন্ত সীমিত এক বিতর্কিত চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে শেষ হলো। গতকাল সর্বসম্মতভাবে এই চুক্তি অনুমোদিত না হওয়ায় এটিকে শুধু একটি নোট হিসেবে বিবেচনা করছে জাতিসংঘ। তবে তারা বলছে, এটি একটি বড় কাজের সূচনা। বিশ্বের জাতিসমূহের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটলেও অনেকটা বাধ্য হয়েই মার্কিন চাপের মুখে ভারত, ব্রাজিল, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ইইউ বিরোধিতা না করলেও তারা এতে স্বাক্ষর করেনি। তেমনি রাশিয়াও। তবে তাদেরকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। সম্মেলনের শেষ দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোপেনহেগেনে যান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে। বিশ্ববাসী আশা করেছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ত্যাগী মনোভাব নিয়ে সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু সম্মেলনে তিনি যে ভাষণ দেন তাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেছেন। তিনি দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি কোনো সহানুভূতি প্রদর্শন না করে উল্টো তাদের সমালোচনা করে বলেন, তাদের অনড় অবস্থানের কারণে জলবায়ু সম্মেলনে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। কোনো দেশ যা চায় তা সবটুকু পায় না। তাই সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কিন্তু তার বক্তব্যে কোনো সাড়া দেয়নি উন্নয়নশীল দেশগুলোসহ ইইউ, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা প্রভৃতি শিল্পোন্নত দেশ। কিন্তু ওবামা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বড় দেশ চীন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাদেরকে একটি যেনতেন চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি করান এবং কোপেনহেগেনে একেবারে শেষ মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্লাস ফোর বা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভারত, চীন, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা তড়িঘড়ি করে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। তবে চুক্তির শর্তগুলো বাধ্যতামূলক নয়। চুক্তিতে সম্মেলনের মূল এজন্ডা ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্ব তাপমাত্রা দুই ডিগ্রির নিচে ধরে রাখা এবং দরিদ্র বিশ্বের জন্য ২০২০ সাল পর্যন্ত বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার সহায়তা তহবিল গঠন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সহায়তা বাবদ ৩ হাজার কোটি ডলার দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কিয়োটো প্রটোকলকে অনুসরণের কথাও চুক্তিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কিউবা, বলিভিয়া, ভেনিজুয়েলা, কোস্টারিকা, সুদান, নিকারাগুয়াসহ দরিদ্র বিশ্বের আরও কিছু দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় কোপেনহেগেন চুক্তি একটি মার্কিন প্রভাবিত সীমিত চুক্তি হিসেবেই গণ্য হবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়াকে চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে বলে জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেছেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা একটি চুক্তিতে উপনীত হতে পেরেছি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। (আরও খবর ৫-এর পাতায়)
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?