রফতানি নিষেধাজ্ঞা পাটখাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে : ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা পাচার বাড়বে
সৈয়দ মিজানুর রহমান
কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চোরাপথে প্রতিবেশী একটি দেশে পাচারের পথ খুলে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাট ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, এতে চোরাপথে একটি দেশকে ব্যাপক হারে পাটপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়া হলেও বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে দেশের পাটশিল্পের। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, কাঁচাপাট পাচারের সম্ভাবনা খুব একটা নেই। পাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট সচিব আশরাফুল মকবুল।
কাঁচাপাট রফতানিকারকরা বলছেন, স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি পাটকলগুলোতে বছরে পাটের চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ বেল। প্রতি বেলে পাট থাকে ১৮২ কেজি বা ৫ মণ। তবে বর্তমান মৌসুমে পাট উত্পাদন হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ বেল। রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে ১৩ থেকে ১৪ লাখ বেল পাট পাচার হয়ে যাবে ভারতে। এতে সুবিধা হবে সীমান্তের ওপারে ভারতের কয়েকটি জেলায় গড়ে ওঠা পাটকলগুলোর। এছাড়া হঠাত্ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় কাঁচাপাটের বাজার হারাবে বাংলাদেশ। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পাটখাতে।
জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ১৯ অক্টোবর তত্কালীন এরশাদ সরকার একবার কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তখন সরকারের যুক্তি ছিল, বন্যার কারণে পাটের উত্পাদন কম হয়েছে। প্রায় ২৫ বছর পর গত ৭ ডিসেম্বর হঠাত্ করেই কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এবার সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় মিলগুলো যাতে সহজে পাট কিনতে পারে, সেজন্যই রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পাট অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি মিলগুলোতে বছরে পাটের চাহিদা ৮ লাখ বেল। আর বেসরকারি মিল মিলিয়ে স্থানীয় পাটকলগুলোতে বছরে পাটের চাহিদা আছে প্রায় ৩৭ লাখ বেল। তবে গত বছর পাট মৌসুমে পাটের উত্পাদন হয়েছিল ৫১ লাখ বেল। চলতি মৌসুমে উত্পাদন আরও বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৫৮ লাখ বেল পাট পাওয়া যাবে কৃষকদের কাছ থেকে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ২০টি দেশে কাঁচাপাট রফতানি হয়ে থাকে। দেশগুলোর মধ্যে আছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনেসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি। বাংলাদেশের কাঁচাপাটের ওপর নির্ভর করে চলছে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও জার্মানির মতো কয়েকটি দেশের পাটকল। তবে অবৈধ পথে কেবল ভারতেই পাট পাচারের সুযোগ আছে। রফতানি বন্ধ হলেও ভারতের কোনো ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু স্থায়ীভাবে বাজার হারাতে হবে বাকি দেশগুলোর।
পাট অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮১১ বেল পাট রফতানি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ৫২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে মোট রফতানি ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে গেলেও কাঁচাপাট রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশ কাঁচাপাটের আন্তর্জাতিক বাজার হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন ইপিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কাঁচাপাট রফতানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িক জানিয়ে বস্ত্র ও পাট সচিব আশরাফুল মকবুল গতকাল আমার দেশকে বলেন, সরকারি মিলগুলো গত কয়েক মাস ধরে কেনার জন্য কোনো পাট পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা সব পাট বাজার থেকে কিনে নিয়েছেন। কাঁচাপাট রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে সরকারি ১৬টি মিল চাহিদামত পাট পাবে। পরেই বিবেচনা করা হবে রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে কি-না। তিনি আরও জানান, কাঁচাপাট রফতানি রোধে তার মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করলে পাচার রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ পাট সমিতির চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন গতকাল আমার দেশকে জানিয়েছেন, ১৯৮৪ সালে হঠাত্ কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেউলিয়া হয়ে যায় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। তখন তাদের মজুত পাট কেনা দামের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে। এরপর পাট ব্যবসা ছেড়ে দেন অনেকেই। এতে কমতে থাকে পাটের চাহিদা। কৃষকরাও কম দাম পাওয়ায় উত্পাদন কমিয়ে দেন। তবে দীর্ঘ ২৫ বছর পর যখন আবার বিশ্ববাজারে কাঁচাপাটের চাহিদা বাড়ছে, তখন কৃষকরাও উত্পাদনে ঝুঁকছিলেন। কিন্তু ’৮৪ সালের মতো এবারও একই কায়দায় সরকার পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আগের পরিণতি হবে এই খাতে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দাম ভালো পাওয়ায় চাষীরা আবার পাটচাষে ফিরে আসছিলেন; কিন্তু রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় আগামী মৌসুমে যখন পাটের দাম পড়ে যাবে, তখন পরের বছর আর পাটচাষে কারও আগ্রহ থাকবে না।’
বিজেএর সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, ‘কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ করে দেয়া একটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত। এর ফলে পাটখাত আবার চাঙ্গা হওয়ার যে লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, সেটি আর হয়তো হবে না।’ তিনি বলেন, রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন বলবত থাকলে আগামীতে কেউ আর এ ব্যবসা করবেন না। এতে পাটখাতের উন্নতি তো দূরের কথা, আগামীতে দেশে আর পাটই থাকবে না।
পাট উত্পাদন ও এর প্রক্রিয়াজাতকরণে দেশের আড়াই কোটি লোক জড়িত। নিজস্ব উদ্যোগে এসব কৃষক পাট উত্পাদন করে থাকে। তথ্যমতে, দেশের ফরিদপুর ও যশোর অঞ্চলে মোট পাটের অর্ধেক উত্পাদন হয়।
কাঁচাপাট রফতানিকারকরা বলছেন, স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি পাটকলগুলোতে বছরে পাটের চাহিদা ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ বেল। প্রতি বেলে পাট থাকে ১৮২ কেজি বা ৫ মণ। তবে বর্তমান মৌসুমে পাট উত্পাদন হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ বেল। রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে ১৩ থেকে ১৪ লাখ বেল পাট পাচার হয়ে যাবে ভারতে। এতে সুবিধা হবে সীমান্তের ওপারে ভারতের কয়েকটি জেলায় গড়ে ওঠা পাটকলগুলোর। এছাড়া হঠাত্ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় কাঁচাপাটের বাজার হারাবে বাংলাদেশ। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পাটখাতে।
জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ১৯ অক্টোবর তত্কালীন এরশাদ সরকার একবার কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তখন সরকারের যুক্তি ছিল, বন্যার কারণে পাটের উত্পাদন কম হয়েছে। প্রায় ২৫ বছর পর গত ৭ ডিসেম্বর হঠাত্ করেই কাঁচাপাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এবার সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় মিলগুলো যাতে সহজে পাট কিনতে পারে, সেজন্যই রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পাট অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারি মিলগুলোতে বছরে পাটের চাহিদা ৮ লাখ বেল। আর বেসরকারি মিল মিলিয়ে স্থানীয় পাটকলগুলোতে বছরে পাটের চাহিদা আছে প্রায় ৩৭ লাখ বেল। তবে গত বছর পাট মৌসুমে পাটের উত্পাদন হয়েছিল ৫১ লাখ বেল। চলতি মৌসুমে উত্পাদন আরও বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৫৮ লাখ বেল পাট পাওয়া যাবে কৃষকদের কাছ থেকে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ২০টি দেশে কাঁচাপাট রফতানি হয়ে থাকে। দেশগুলোর মধ্যে আছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনেসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি। বাংলাদেশের কাঁচাপাটের ওপর নির্ভর করে চলছে ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও জার্মানির মতো কয়েকটি দেশের পাটকল। তবে অবৈধ পথে কেবল ভারতেই পাট পাচারের সুযোগ আছে। রফতানি বন্ধ হলেও ভারতের কোনো ক্ষতি হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু স্থায়ীভাবে বাজার হারাতে হবে বাকি দেশগুলোর।
পাট অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮১১ বেল পাট রফতানি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ৫২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে মোট রফতানি ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে গেলেও কাঁচাপাট রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশ কাঁচাপাটের আন্তর্জাতিক বাজার হারাবে বলে আশঙ্কা করছেন ইপিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কাঁচাপাট রফতানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িক জানিয়ে বস্ত্র ও পাট সচিব আশরাফুল মকবুল গতকাল আমার দেশকে বলেন, সরকারি মিলগুলো গত কয়েক মাস ধরে কেনার জন্য কোনো পাট পাচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা সব পাট বাজার থেকে কিনে নিয়েছেন। কাঁচাপাট রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে সরকারি ১৬টি মিল চাহিদামত পাট পাবে। পরেই বিবেচনা করা হবে রফতানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে কি-না। তিনি আরও জানান, কাঁচাপাট রফতানি রোধে তার মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করলে পাচার রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ পাট সমিতির চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন গতকাল আমার দেশকে জানিয়েছেন, ১৯৮৪ সালে হঠাত্ কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেউলিয়া হয়ে যায় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। তখন তাদের মজুত পাট কেনা দামের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হয়েছে। এরপর পাট ব্যবসা ছেড়ে দেন অনেকেই। এতে কমতে থাকে পাটের চাহিদা। কৃষকরাও কম দাম পাওয়ায় উত্পাদন কমিয়ে দেন। তবে দীর্ঘ ২৫ বছর পর যখন আবার বিশ্ববাজারে কাঁচাপাটের চাহিদা বাড়ছে, তখন কৃষকরাও উত্পাদনে ঝুঁকছিলেন। কিন্তু ’৮৪ সালের মতো এবারও একই কায়দায় সরকার পাট রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আগের পরিণতি হবে এই খাতে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর দাম ভালো পাওয়ায় চাষীরা আবার পাটচাষে ফিরে আসছিলেন; কিন্তু রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় আগামী মৌসুমে যখন পাটের দাম পড়ে যাবে, তখন পরের বছর আর পাটচাষে কারও আগ্রহ থাকবে না।’
বিজেএর সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, ‘কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ করে দেয়া একটি ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত। এর ফলে পাটখাত আবার চাঙ্গা হওয়ার যে লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, সেটি আর হয়তো হবে না।’ তিনি বলেন, রফতানি নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন বলবত থাকলে আগামীতে কেউ আর এ ব্যবসা করবেন না। এতে পাটখাতের উন্নতি তো দূরের কথা, আগামীতে দেশে আর পাটই থাকবে না।
পাট উত্পাদন ও এর প্রক্রিয়াজাতকরণে দেশের আড়াই কোটি লোক জড়িত। নিজস্ব উদ্যোগে এসব কৃষক পাট উত্পাদন করে থাকে। তথ্যমতে, দেশের ফরিদপুর ও যশোর অঞ্চলে মোট পাটের অর্ধেক উত্পাদন হয়।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া

