আমার দেশ সম্পাদককে হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত
স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা প্রকাশ্য জনসভায় আমার দেশ সম্পাদককে হুমকি দেয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীরা। গতকাল পৃথক বিবৃতিতে তারা হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা বলেন, পত্রিকার সম্পাদককে মন্ত্রীদের এ ধরনের হুমকি সরকারের একদলীয় বাকশালী স্বৈর মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এ হুমকি সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে।
হুমকির ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক দল : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পত্রিকার সম্পাদককে এ হুমকি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী ও বাকশালী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে চায়। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন, উন্নয়ন-অগ্রগতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অপরিহার্য। আওয়ামী লীগ অতীতেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। তাদের এ হুমকি গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার পরিপন্থী। আওয়ামী লীগের এহেন আচরণে দেশের জনগণ ’৭৫ সালে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণে তাদের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য তিনি আওয়ামী লীগ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অপরাধে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে কত নৃশংস, কত ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী এ ঘটনার মাধ্যমে তা আবার নতুন করে দেখিয়ে দিল। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের জন্য প্রধান শর্ত হলো সত্য, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোনোদিনই তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা সহ্য করতে পারে না, তা সত্য আর বস্তুনিষ্ঠ হোক। তাদের বাকশালী আমলে যেমন সব গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরেছিল, বর্তমানে আমার দেশ যখন স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বৈরাচারী শাসকদের সব পাপাচার, অন্যায়, অত্যাচার ও দুর্নীতির চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরতে শুরু করেছে তখন পত্রিকাটির কণ্ঠরোধ করে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে চাচ্ছে। যা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান এমপি ও মহাসচিব শামীম আল মামুন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সম্পাদককে হুমকি প্রদানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় বলে আবার প্রমাণ হলো। বহুল প্রচারিত পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রতিহত করার যে ঘোষণা দেয়, এতে প্রমাণিত হয় তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বাকশালী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়।
যুবদল সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সম্পাদককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে জাতিকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা। এ ধরনের প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছে গোটা জাতি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীদের প্রকাশ্য সমাবেশে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটা স্বৈরাচারী শাসকের নমুনা।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ এমপি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, এই হুমকি ও হামলার মাধ্যমে শাসক দলের ফ্যাসিবাদী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
এছাড়া খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব নেজামউদ্দীন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, ইসলামী ছাত্র মজলিস সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন ও সেক্রেটারি শাইখুল ইসলাম পৃথক বিবৃতিতে আমার দেশ সম্পাদককে মন্ত্রীদের হুমকি প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন : জাবি প্রতিনিধি জানান, শাসক দলের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দুজন মন্ত্রী ও একজন নেতার প্রকাশ্যে হুমকি দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। ৬৭ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এ হুমকির মাধ্যমে শাসক দলের ফ্যাসিবাদী মনোভাব উত্কটভাবে বেরিয়ে পড়েছে। এই ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সচেতন জনগণ এবং সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা। বিবৃতিদাতা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক এনামুল হক খান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল আহসান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম প্রমুখ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসুল হক হায়দারী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি এসএমএ কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আনিসুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এইচএম আলাউদ্দিন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মহিদুল ইসলাম মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মির্জা সেলিম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার এক যুক্ত বিবৃতিতে মাহমুদুর রহমানের ওপর হুমকি প্রদানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান ও মহাসচিব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর খানসহ ১০১ জন শিক্ষক নেতা এক বিবৃতিতে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে সবার। কেউ কোনো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হতে পারে। কিন্তু তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করলে রাস্তায় বের হওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হুমকি কোনো সভ্য সমাজ প্রত্যাশা করে না। বিবৃতিদাতারা হলেন জোট নেতা অধ্যক্ষ ইসহাক হোসেন, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, আলহাজ আবদুল বাতেন, মহিউদ্দিন আল মামুন, কেএম মোশাররফ হোসেনসহ ১০১ জন।
হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন জাতীয়তাবাদী গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহাদত হোসেন, ‘কমল’ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সভাপতি আতাউর রহমান চৌধুরী, জিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন ও মহাসচিব এম গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।
খুলনা অফিস জানায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের হুমকি দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, এম নূরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনি, ফখরুল আলম, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, আনোয়ারুল কাদির খোকন, জলিল খান কালাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, রেহানা আক্তার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, মহানগর জামায়াতের আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপের (এনআইজি) সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ আলম, শিক্ষাবিদ সাইদুল হাসান, অধ্যাপক আমির আলী, অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ আশরাফ, অ্যাডভোকেট কামরুল মুনীর, শেখ দিদারুল আলম, প্রফেসর আবদুল মান্নান, এরশাদ আলী, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ হোসেন, অ্যাডভোকেট এসআর ফারুক, মিনু মমতাজ, শফিকুর রহমান মানিক, অধ্যাপক সামসুদ্দিন দোহা, ড্যাব নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলু, ডা. সেখ মোঃ আখতার উজ জামান, ডা. শওকত আলী লস্কর প্রমুখ। তারা এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, দিনবদলের কথা বলে এ সরকার ক্ষমতায় এলেও তাদের বাকশালি মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতাদেরও আস্ফাালন ’৭৫-এর ১৬ জুনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বলে তারা উল্লেখ করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আমার দেশসহ অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর সরকারি দলের ক্যাডারদের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা অবিলম্বে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় জনগণই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
রাজশাহী অফিস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রিপোর্ট প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রকাশ্যে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী মহানগর ও জেলা ছাত্রদল। সমাবেশ থেকে তারা মাহমুদুর রহমানকে হুমকির পরিণতি শুভ হবে না বলে সরকারকে হুশিয়ার করে দেন।
বেলা ১২টার দিকে কয়েকশ’ নেতাকর্মী নগরীর ভুবনমোহন পার্ক চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন এবং সাহেববাজার মনিচত্বরে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদল রাজশাহী মহানগর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইটের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রায়হানুল আলম রায়হান, শফিকুল ইসলাম সমাপ্ত, মোজাদ্দেদ জামানী সুমন প্রমুখ।
এদিকে গতকাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে দেয়া হুমকির ঘটনায় রাজশাহীসহ দেশব্যাপী সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, বিএনপি নেতা সাহিদ হাসান সাঈদ, তোফাজ্জল হোসেন তপু, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, আলাউদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, ইসাহাক আলী, মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শামীমুল ইসলাম শামীম, সিদ্দিক হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, শাহীন শওকত, মুস্তাফিজুল ইকবাল, কাজী হেনা, শামসুজ্জামান বকুল ও শফিকুল ইসলাম শাফিক পৃথক বিবৃতিতে হুমকির নিন্দা জানান।
এদিকে মাহমুদুর রহমানকে হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর আতাউর রহমান, সেক্রেটারি আবুল কালাম, নগর মহিলা জামায়াতের সভানেত্রী মাহমুদা আকন্দ, সহ-সেক্রেটারি সাবরিনা সারমিন বনি, নগর ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী সিরাজুম মুনিরা ও ফাহমিদা খাতুন।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, হুমকির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি আফজাল এইচ খান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন তালুকদার, জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, সেক্রেটারি আবদুল করিম, শহর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম মাহবুব, কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদ, সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ আমিনুল হক, বিএনপি নেতা কাজী রানা, অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন শাকির, অ্যাডভোকেট মাসুদ তানভীর তান্না, রতন আকন্দ, জেলা (দক্ষিণ) যুবদল সভাপতি শাহ শিব্বির আহমেদ ভুলু, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আকন্দ লিটন, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মোহন, জেলা ছাত্রদল সভাপতি শামীম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন, পাঠক মেলার সভাপতি অধ্যাপক শহীদ খান, সাধারণ সম্পাদক সজল চন্দ প্রমুখ গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল ও তার সংসদীয় এলাকার ৪ উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এক বিবৃতিতে বলেন, আমার দেশ সম্পাদককে বর্তমান সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক নেতার হুমকি প্রদানের ঘটনা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এরা মুখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বললেও আসলে সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরতে চায়। আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও শাস্তি দাবি করছি।
বিবৃতিদাতারা হলেন সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফয়েজ উল্লাহ, পৌর বিএনপি সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, রামু উপজেলা বিএনপি সভাপতি আহমদুল হক চৌধুরী, ঈদগাঁও সাংগঠনিক বিএনপির সভাপতি এম মমতাজুল ইসলাম, সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যান, পৌর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, রামু বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস ও ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন, জেলা যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ, শহর যুবদল সভাপতি পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নেজাম উদ্দিন এবং জেলা মহিলা দলের আহ্বায়িকা রবওয়া বেগম।
হুমকির ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বিবৃতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক দল : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পত্রিকার সম্পাদককে এ হুমকি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী ও বাকশালী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। তারা হুমকি-ধমকি দিয়ে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করতে চায়। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন, উন্নয়ন-অগ্রগতি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অপরিহার্য। আওয়ামী লীগ অতীতেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। তাদের এ হুমকি গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকার পরিপন্থী। আওয়ামী লীগের এহেন আচরণে দেশের জনগণ ’৭৫ সালে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণে তাদের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার জন্য তিনি আওয়ামী লীগ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অপরাধে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে কত নৃশংস, কত ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী এ ঘটনার মাধ্যমে তা আবার নতুন করে দেখিয়ে দিল। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের জন্য প্রধান শর্ত হলো সত্য, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু আওয়ামী লীগ কোনোদিনই তাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা সহ্য করতে পারে না, তা সত্য আর বস্তুনিষ্ঠ হোক। তাদের বাকশালী আমলে যেমন সব গণমাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরেছিল, বর্তমানে আমার দেশ যখন স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বৈরাচারী শাসকদের সব পাপাচার, অন্যায়, অত্যাচার ও দুর্নীতির চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরতে শুরু করেছে তখন পত্রিকাটির কণ্ঠরোধ করে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে চাচ্ছে। যা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান এমপি ও মহাসচিব শামীম আল মামুন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সম্পাদককে হুমকি প্রদানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় বলে আবার প্রমাণ হলো। বহুল প্রচারিত পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রতিহত করার যে ঘোষণা দেয়, এতে প্রমাণিত হয় তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বাকশালী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়।
যুবদল সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এক বিবৃতিতে বলেন, একজন সম্পাদককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে জাতিকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা। এ ধরনের প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছে গোটা জাতি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমদ এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রীদের প্রকাশ্য সমাবেশে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটা স্বৈরাচারী শাসকের নমুনা।
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ এমপি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, এই হুমকি ও হামলার মাধ্যমে শাসক দলের ফ্যাসিবাদী মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
এছাড়া খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব নেজামউদ্দীন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু, ইসলামী ছাত্র মজলিস সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন ও সেক্রেটারি শাইখুল ইসলাম পৃথক বিবৃতিতে আমার দেশ সম্পাদককে মন্ত্রীদের হুমকি প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন : জাবি প্রতিনিধি জানান, শাসক দলের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দুজন মন্ত্রী ও একজন নেতার প্রকাশ্যে হুমকি দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। ৬৭ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এ হুমকির মাধ্যমে শাসক দলের ফ্যাসিবাদী মনোভাব উত্কটভাবে বেরিয়ে পড়েছে। এই ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে সচেতন জনগণ এবং সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা। বিবৃতিদাতা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক এনামুল হক খান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল আহসান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম প্রমুখ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এমএ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসুল হক হায়দারী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি এসএমএ কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ আনিসুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এইচএম আলাউদ্দিন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মহিদুল ইসলাম মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মির্জা সেলিম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার এক যুক্ত বিবৃতিতে মাহমুদুর রহমানের ওপর হুমকি প্রদানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান ও মহাসচিব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর খানসহ ১০১ জন শিক্ষক নেতা এক বিবৃতিতে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে সবার। কেউ কোনো মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা হতে পারে। কিন্তু তদন্তাধীন কোনো বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করলে রাস্তায় বের হওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার হুমকি কোনো সভ্য সমাজ প্রত্যাশা করে না। বিবৃতিদাতারা হলেন জোট নেতা অধ্যক্ষ ইসহাক হোসেন, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, আলহাজ আবদুল বাতেন, মহিউদ্দিন আল মামুন, কেএম মোশাররফ হোসেনসহ ১০১ জন।
হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন জাতীয়তাবাদী গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহাদত হোসেন, ‘কমল’ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সভাপতি আতাউর রহমান চৌধুরী, জিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকন ও মহাসচিব এম গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।
খুলনা অফিস জানায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের হুমকি দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, এম নূরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনি, ফখরুল আলম, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, আনোয়ারুল কাদির খোকন, জলিল খান কালাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, রেহানা আক্তার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, মহানগর জামায়াতের আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপের (এনআইজি) সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহ আলম, শিক্ষাবিদ সাইদুল হাসান, অধ্যাপক আমির আলী, অধ্যক্ষ শেখ মোহাম্মদ আশরাফ, অ্যাডভোকেট কামরুল মুনীর, শেখ দিদারুল আলম, প্রফেসর আবদুল মান্নান, এরশাদ আলী, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ হোসেন, অ্যাডভোকেট এসআর ফারুক, মিনু মমতাজ, শফিকুর রহমান মানিক, অধ্যাপক সামসুদ্দিন দোহা, ড্যাব নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলু, ডা. সেখ মোঃ আখতার উজ জামান, ডা. শওকত আলী লস্কর প্রমুখ। তারা এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, দিনবদলের কথা বলে এ সরকার ক্ষমতায় এলেও তাদের বাকশালি মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতাদেরও আস্ফাালন ’৭৫-এর ১৬ জুনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বলে তারা উল্লেখ করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আমার দেশসহ অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর সরকারি দলের ক্যাডারদের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা অবিলম্বে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় জনগণই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
রাজশাহী অফিস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রিপোর্ট প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে প্রকাশ্যে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকির ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী মহানগর ও জেলা ছাত্রদল। সমাবেশ থেকে তারা মাহমুদুর রহমানকে হুমকির পরিণতি শুভ হবে না বলে সরকারকে হুশিয়ার করে দেন।
বেলা ১২টার দিকে কয়েকশ’ নেতাকর্মী নগরীর ভুবনমোহন পার্ক চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন এবং সাহেববাজার মনিচত্বরে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদল রাজশাহী মহানগর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইটের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রায়হানুল আলম রায়হান, শফিকুল ইসলাম সমাপ্ত, মোজাদ্দেদ জামানী সুমন প্রমুখ।
এদিকে গতকাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রকাশ্যে দেয়া হুমকির ঘটনায় রাজশাহীসহ দেশব্যাপী সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের জনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, বিএনপি নেতা সাহিদ হাসান সাঈদ, তোফাজ্জল হোসেন তপু, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, আলাউদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, ইসাহাক আলী, মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শামীমুল ইসলাম শামীম, সিদ্দিক হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, শাহীন শওকত, মুস্তাফিজুল ইকবাল, কাজী হেনা, শামসুজ্জামান বকুল ও শফিকুল ইসলাম শাফিক পৃথক বিবৃতিতে হুমকির নিন্দা জানান।
এদিকে মাহমুদুর রহমানকে হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর আতাউর রহমান, সেক্রেটারি আবুল কালাম, নগর মহিলা জামায়াতের সভানেত্রী মাহমুদা আকন্দ, সহ-সেক্রেটারি সাবরিনা সারমিন বনি, নগর ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী সিরাজুম মুনিরা ও ফাহমিদা খাতুন।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, হুমকির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ময়মনসিংহ জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি আফজাল এইচ খান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন তালুকদার, জেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, সেক্রেটারি আবদুল করিম, শহর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল আলম মাহবুব, কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম মোঃ ওয়ালিদ, সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোঃ আমিনুল হক, বিএনপি নেতা কাজী রানা, অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন শাকির, অ্যাডভোকেট মাসুদ তানভীর তান্না, রতন আকন্দ, জেলা (দক্ষিণ) যুবদল সভাপতি শাহ শিব্বির আহমেদ ভুলু, সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আকন্দ লিটন, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মোহন, জেলা ছাত্রদল সভাপতি শামীম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন, পাঠক মেলার সভাপতি অধ্যাপক শহীদ খান, সাধারণ সম্পাদক সজল চন্দ প্রমুখ গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন।
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল ও তার সংসদীয় এলাকার ৪ উপজেলার বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এক বিবৃতিতে বলেন, আমার দেশ সম্পাদককে বর্তমান সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক নেতার হুমকি প্রদানের ঘটনা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। এরা মুখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বললেও আসলে সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরতে চায়। আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও শাস্তি দাবি করছি।
বিবৃতিদাতারা হলেন সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফয়েজ উল্লাহ, পৌর বিএনপি সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, রামু উপজেলা বিএনপি সভাপতি আহমদুল হক চৌধুরী, ঈদগাঁও সাংগঠনিক বিএনপির সভাপতি এম মমতাজুল ইসলাম, সদর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যান, পৌর সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মোহাম্মদ আলী, রামু বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস ও ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন, জেলা যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ, শহর যুবদল সভাপতি পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নেজাম উদ্দিন এবং জেলা মহিলা দলের আহ্বায়িকা রবওয়া বেগম।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


