সরকারি পেটোয়া বাহিনীর তাণ্ডব : ঢাকায় সাংবাদিক এম আবদুল্লাহর প্রাণনাশের চেষ্টা সম্পাদককে দেখে নেয়ার হুমকি, জিডি নেয়নি থানা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সরকারের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহীর বিরুদ্ধে গ্যাস কম্প্রেসর স্থাপনের জন্য বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ দিয়ে ৫ মিলিয়ন ডলার (৩৫ কোটি টাকা) ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কিত খবর প্রকাশের পর মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকির বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকারি পেটোয়া বাহিনী। তাদের নানামুখী তাণ্ডবে আক্রান্ত দৈনিক আমার দেশ। গতকাল ঢাকায় সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের ওপর হামলা চালিয়ে তার প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়েছে তারা। বনানীতে আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহ সরকারি সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা ভেঙে দিয়েছে তার গাড়ি। পিছু ধাওয়া করে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে তাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। কুষ্টিয়ায় আমার দেশ সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ করে নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। জয়ের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করার প্রতিবাদ জানিয়ে সিলেটে আমার দেশ সম্পাদককে ফাঁসি দেয়ার দাবি জানিয়েছে যুবলীগ। খুলনায় আমার দেশ পত্রিকার কপি জ্বালিয়ে দিয়েছে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও নানাভাবে সরকারি দলের নেতারা আমার দেশ-এর বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
এম আবদুল্লাহ তার ওপর হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলেও পুলিশ সে জিডি গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত অবধি চলে নাটক। পুলিশ প্রথমে জিডি গ্রহণ না করে অভিযোগপত্রটি থানায় রেখে আসতে বলে। কিন্তু এর কারণ জানতে চেয়ে দেনদরবারের একপর্যায়ে একটি রিসিভ কপি দেয়া হয়। তবে কপিটিতে কোন জিডি নম্বর ছিল না। বলা হয়, রাত ১১টা নাগাদ নম্বর পাওয়া যাবে। রাত ১১টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, থানার খাতায় আমার দেশ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহর জিডিটি নথিভুক্ত হয়নি। পুলিশের এসআই ওবায়দুল ইসলাম এ ঘটনায় তার মতো করে একটি জিডি করেছেন। যার নম্বর ১৫১৪।
গত বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর আমার দেশ-এ ‘তৌফিক এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের দিনই আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের আলোচনায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আমার দেশ সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের রাস্তায় বের হতে না দেয়ার হুমকি দেন। এছাড়াও বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে রিপোর্টের প্রতিবেদক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহকে হুমকি দেয়া হয়। ওইসব ফোন থেকে বলা হয়—আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। আপনাকে দেখে নেয়া হবে। তিনি কারও সঙ্গে কথা কাটাকাটি না করে ফোনের লাইন কেটে দেন।
প্রকাশ্য সভায় মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি এবং টেলিফোনে অব্যাহত হুমকির ধারাবাহিকতায়ই গতকাল এ হামলা চালানো হলো। যদিও পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের ব্যাপারে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবাদলিপি ও প্রতিবেদকের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে গতকালই আমার দেশ-এ প্রকাশিত হয়েছে। আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার জন্য আমার দেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে সরকারের পেটোয়া বাহিনী অতীতের মতো ফ্যাসিস্ট আচরণের পথ বেছে নিয়েছে। অতীতে যেমন তারা একদলীয় বাকশাল কায়েম করে সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করে দিয়েছিল, এখনও তারা একইভাবে ফ্যাসিস্ট আচরণের মাধ্যমে তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে খবর প্রচার না করার জন্য সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।
সাংবাদিক এম আবদুল্লাহর প্রাণনাশের চেষ্টা : আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহ ‘তৌফিক এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিপোর্টটি করেছিলেন। গতকাল বিকালে তিনি টঙ্গীর বাসা থেকে অফিসে আসার সময় জিয়া বিমানবন্দর সড়কে আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমার মতো কিছু একটা ছুড়ে মারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এতে বিকট শব্দে প্রাইভেট কারের পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। প্রথম দফা ওই হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু তার গাড়ির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পরই কাকলি সিগন্যালে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারা হয়। ইটের আঘাতে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান। তিনি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে একটি চলন্ত বাসে উঠে আত্মরক্ষা করেন। মোটরসাইকেল আরোহী যুবকরা গাড়ির চালক মোঃ আক্কাস আলীকে বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশ বিধ্বস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়।
গাড়িচালক আক্কাস আলী জানান, গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে টঙ্গীর বাসা থেকে কারওয়ান বাজারে আমার দেশ কার্যালয়ে আসছিলেন এম আবদুল্লাহ। দুই মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ৪ যুবক তাদের গাড়িটি অনুসরণ করছিল। গাড়িটি বিমানবন্দর সড়ক হয়ে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে আসা মাত্রই ওই যুবকদের একজন গাড়িটি লক্ষ্য করে হাতবোমা ছুড়ে মারে। বোমাটি গাড়ির পেছনের কাচের ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে কাচটি ভেঙে খান খান হয়ে যায়। এম আবদুল্লাহ চালককে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে চালক দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে কাকলি সিগন্যালে এসে আটকা পড়েন। মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা যুবকরা পেছনে ধাওয়া করে কাকলি সিগন্যালে আসে। তারা মোটরসাইকেল থেকে নেমে গাড়ির ভেতরে এম আবদুল্লাহর মাথা লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে বড় আকারের একটি ইট ছুড়ে মারে। ইটটি এম আবদুল্লাহর পিঠে মেরুদণ্ডে আঘাত করে। এ অবস্থায় এম আবদুল্লাহ দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে একটি চলন্ত বাসে উঠে পড়েন। এসময় ওই যুবকরা তার গাড়ির চালক আক্কাস আলীকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। অনেক দূর থেকেও তার আর্তচিত্কার শোনা যায়। এম আবদুল্লাহ বাসে বসেই বিষয়টি জানান আমার দেশ চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান, উপ-সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদকে। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ কাকলি এলাকা থেকে বিধ্বস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তারা আহত অবস্থায় চালককেও উদ্ধার করে।
দুর্বৃত্তদের ছুড়ে মারা ইট এম আবদুল্লাহর পিঠে পড়ায় তিনি বেশ আহত হয়েছেন। তার পিঠ ফুলে গেছে। মেরুদণ্ড ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তিনি প্রথমে অফিসে পৌঁছান।
পরে ঘটনাস্থলে যায় গুলশান পুলিশ। তারা গাড়িটি উদ্ধার করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। গুলশান জোনের এসি নূরুল আলম জানান, ইটের ভাঙা অংশ দিয়ে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়েছে। গাড়ির ভেতর থেকে তারা দুটি বড় ইটের টুকরো উদ্ধার করেছেন। এগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তারা বলেছেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
ঢাবিতে আমার দেশ সম্পাদককে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ : প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় আমার দেশ সম্পাদককে গ্রেফতার এবং পত্রিকাকে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, আমার দেশ পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক সংবাদ ছাপিয়েছে। এজন্য পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের খবর আবার প্রচার করা হলে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমার দেশ পত্রিকাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন নেতারা। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন বলেছেন, তারেক রহমান ও কোকোর দুর্নীতি আড়াল করতেই কুচক্রী মহল জয়ের বিরুদ্ধে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আড়াল করতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে তার বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। ছাত্রলীগ ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় আমার দেশকে প্রতিহত করতে পারে। ভবিষ্যতে জয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ ও ষড়যন্ত্র বন্ধ না করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ আমার দেশ পত্রিকাকে প্রতিহত করবে।
কুষ্টিয়ায় সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ : কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জানান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় তৌফিক-ই-এলাহী ও জয়ের ঘুষ গ্রহণের সংবাদে ক্ষুব্ধ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ গতকাল বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।
কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী আরজু ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর নেতৃত্বে প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মীর একটি জঙ্গি মিছিল বিকাল ৫টায় স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করে মিছিলটি শহরের এনএস রোড প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া নিউ মার্কেটের সামনে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা চত্বরে এসে বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলের কর্মীরা ‘আমার দেশ পত্রিকা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, আমার দেশের সংবাদ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, মানি না মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। মিছিল শেষে সহ-সভাপতি জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে তাইজাল আলী খান, শ্রমিক নেতা গোলাম মোস্তফা, সেক্রেটারি আজগার আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার দেশ সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
সিলেটে আমার দেশ সম্পাদকের ফাঁসি দাবি : সিলেট অফিস জানায়, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে গতকাল সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবলীগ। মিছিলে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেয়া হয়।
বিকালে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মহানগর যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীমের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দৈনিক আমার দেশ ও এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে পত্রিকাটি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অসত্য সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। তারা অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক ও এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে মহানগর যুবলীগের সেক্রেটারি আবদুর রহমান জামিল, মুশফিক জায়গিরদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
খুলনায় আমার দেশ-এ অগ্নিসংযোগ : খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় আমার দেশ পত্রিকায় আগুন দিয়েছে যুবলীগ। গতকাল বিকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষে যুবলীগ নেতারা পত্রিকার কপিতে আগুন দেয়। পাশাপাশি ছাত্রলীগও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় মিছিল থেকে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
প্রথমে যুবলীগ মহানগর ও জেলা কমিটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে আমার দেশ পত্রিকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরপর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তাদের মিছিল পিকচার প্যালেস মোড়ে এসে থামে। সেখানে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করে এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় স্লোগান দেয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি শেখ হারুন অর রশিদ, নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাফেজ মোঃ শামীম, মনিরুজ্জামান সাগর, কামরুজ্জামান জামাল, আখতারুজ্জামান বাবু, বিমান সাহা প্রমুখ।
পরে মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, মোঃ ফারুক আহমেদ, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসান হিটলু, ফয়েজুল হক টিটো, দেবদুলাল বাড়ৈ বাপ্পি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ : বগুড়া অফিস জানায়, গতকাল বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহরের টেম্পল রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে বিকালে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু প্রমুখ।
এম আবদুল্লাহ তার ওপর হামলার ঘটনায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চাইলেও পুলিশ সে জিডি গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত অবধি চলে নাটক। পুলিশ প্রথমে জিডি গ্রহণ না করে অভিযোগপত্রটি থানায় রেখে আসতে বলে। কিন্তু এর কারণ জানতে চেয়ে দেনদরবারের একপর্যায়ে একটি রিসিভ কপি দেয়া হয়। তবে কপিটিতে কোন জিডি নম্বর ছিল না। বলা হয়, রাত ১১টা নাগাদ নম্বর পাওয়া যাবে। রাত ১১টার দিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, থানার খাতায় আমার দেশ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহর জিডিটি নথিভুক্ত হয়নি। পুলিশের এসআই ওবায়দুল ইসলাম এ ঘটনায় তার মতো করে একটি জিডি করেছেন। যার নম্বর ১৫১৪।
গত বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর আমার দেশ-এ ‘তৌফিক এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের দিনই আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের আলোচনায় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ আমার দেশ সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের রাস্তায় বের হতে না দেয়ার হুমকি দেন। এছাড়াও বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে রিপোর্টের প্রতিবেদক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহকে হুমকি দেয়া হয়। ওইসব ফোন থেকে বলা হয়—আপনি বেশি বাড়াবাড়ি করছেন। আপনাকে দেখে নেয়া হবে। তিনি কারও সঙ্গে কথা কাটাকাটি না করে ফোনের লাইন কেটে দেন।
প্রকাশ্য সভায় মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হুমকি এবং টেলিফোনে অব্যাহত হুমকির ধারাবাহিকতায়ই গতকাল এ হামলা চালানো হলো। যদিও পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের ব্যাপারে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রতিবাদলিপি ও প্রতিবেদকের বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে গতকালই আমার দেশ-এ প্রকাশিত হয়েছে। আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলার জন্য আমার দেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে সরকারের পেটোয়া বাহিনী অতীতের মতো ফ্যাসিস্ট আচরণের পথ বেছে নিয়েছে। অতীতে যেমন তারা একদলীয় বাকশাল কায়েম করে সংবাদপত্রের কণ্ঠ রোধ করে দিয়েছিল, এখনও তারা একইভাবে ফ্যাসিস্ট আচরণের মাধ্যমে তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে খবর প্রচার না করার জন্য সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।
সাংবাদিক এম আবদুল্লাহর প্রাণনাশের চেষ্টা : আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি এম আবদুল্লাহ ‘তৌফিক এলাহী ও জয়ের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিপোর্টটি করেছিলেন। গতকাল বিকালে তিনি টঙ্গীর বাসা থেকে অফিসে আসার সময় জিয়া বিমানবন্দর সড়কে আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে তার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমার মতো কিছু একটা ছুড়ে মারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। এতে বিকট শব্দে প্রাইভেট কারের পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। প্রথম দফা ওই হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু তার গাড়ির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পরই কাকলি সিগন্যালে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারা হয়। ইটের আঘাতে তিনি মেরুদণ্ডে আঘাত পান। তিনি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে একটি চলন্ত বাসে উঠে আত্মরক্ষা করেন। মোটরসাইকেল আরোহী যুবকরা গাড়ির চালক মোঃ আক্কাস আলীকে বেধড়ক মারধর করে। পরে পুলিশ বিধ্বস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়।
গাড়িচালক আক্কাস আলী জানান, গতকাল বেলা সোয়া ৩টার দিকে টঙ্গীর বাসা থেকে কারওয়ান বাজারে আমার দেশ কার্যালয়ে আসছিলেন এম আবদুল্লাহ। দুই মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ৪ যুবক তাদের গাড়িটি অনুসরণ করছিল। গাড়িটি বিমানবন্দর সড়ক হয়ে বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে আসা মাত্রই ওই যুবকদের একজন গাড়িটি লক্ষ্য করে হাতবোমা ছুড়ে মারে। বোমাটি গাড়ির পেছনের কাচের ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে কাচটি ভেঙে খান খান হয়ে যায়। এম আবদুল্লাহ চালককে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে চালক দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে কাকলি সিগন্যালে এসে আটকা পড়েন। মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা যুবকরা পেছনে ধাওয়া করে কাকলি সিগন্যালে আসে। তারা মোটরসাইকেল থেকে নেমে গাড়ির ভেতরে এম আবদুল্লাহর মাথা লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে বড় আকারের একটি ইট ছুড়ে মারে। ইটটি এম আবদুল্লাহর পিঠে মেরুদণ্ডে আঘাত করে। এ অবস্থায় এম আবদুল্লাহ দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে একটি চলন্ত বাসে উঠে পড়েন। এসময় ওই যুবকরা তার গাড়ির চালক আক্কাস আলীকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। অনেক দূর থেকেও তার আর্তচিত্কার শোনা যায়। এম আবদুল্লাহ বাসে বসেই বিষয়টি জানান আমার দেশ চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান, উপ-সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদকে। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ কাকলি এলাকা থেকে বিধ্বস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তারা আহত অবস্থায় চালককেও উদ্ধার করে।
দুর্বৃত্তদের ছুড়ে মারা ইট এম আবদুল্লাহর পিঠে পড়ায় তিনি বেশ আহত হয়েছেন। তার পিঠ ফুলে গেছে। মেরুদণ্ড ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তিনি প্রথমে অফিসে পৌঁছান।
পরে ঘটনাস্থলে যায় গুলশান পুলিশ। তারা গাড়িটি উদ্ধার করে গুলশান থানায় নিয়ে যায়। গুলশান জোনের এসি নূরুল আলম জানান, ইটের ভাঙা অংশ দিয়ে গাড়িটিতে হামলা চালানো হয়েছে। গাড়ির ভেতর থেকে তারা দুটি বড় ইটের টুকরো উদ্ধার করেছেন। এগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তারা বলেছেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
ঢাবিতে আমার দেশ সম্পাদককে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ : প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় আমার দেশ সম্পাদককে গ্রেফতার এবং পত্রিকাকে প্রতিহত করার হুমকি দিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ করে বলেন, আমার দেশ পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক সংবাদ ছাপিয়েছে। এজন্য পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের খবর আবার প্রচার করা হলে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমার দেশ পত্রিকাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন নেতারা। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন বলেছেন, তারেক রহমান ও কোকোর দুর্নীতি আড়াল করতেই কুচক্রী মহল জয়ের বিরুদ্ধে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আড়াল করতে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে তার বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। ছাত্রলীগ ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় আমার দেশকে প্রতিহত করতে পারে। ভবিষ্যতে জয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ ও ষড়যন্ত্র বন্ধ না করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ আমার দেশ পত্রিকাকে প্রতিহত করবে।
কুষ্টিয়ায় সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ : কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জানান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় তৌফিক-ই-এলাহী ও জয়ের ঘুষ গ্রহণের সংবাদে ক্ষুব্ধ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ গতকাল বিকালে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা ও সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে।
কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী আরজু ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর নেতৃত্বে প্রায় ২ শতাধিক নেতাকর্মীর একটি জঙ্গি মিছিল বিকাল ৫টায় স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করে মিছিলটি শহরের এনএস রোড প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া নিউ মার্কেটের সামনে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা চত্বরে এসে বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলের কর্মীরা ‘আমার দেশ পত্রিকা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, আমার দেশের সংবাদ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, মানি না মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। মিছিল শেষে সহ-সভাপতি জুলফিকার আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে তাইজাল আলী খান, শ্রমিক নেতা গোলাম মোস্তফা, সেক্রেটারি আজগার আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার দেশ সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।
সিলেটে আমার দেশ সম্পাদকের ফাঁসি দাবি : সিলেট অফিস জানায়, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে গতকাল সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবলীগ। মিছিলে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেয়া হয়।
বিকালে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মহানগর যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামীমের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দৈনিক আমার দেশ ও এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে পত্রিকাটি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অসত্য সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে। তারা অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক ও এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে মহানগর যুবলীগের সেক্রেটারি আবদুর রহমান জামিল, মুশফিক জায়গিরদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
খুলনায় আমার দেশ-এ অগ্নিসংযোগ : খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় আমার দেশ পত্রিকায় আগুন দিয়েছে যুবলীগ। গতকাল বিকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষে যুবলীগ নেতারা পত্রিকার কপিতে আগুন দেয়। পাশাপাশি ছাত্রলীগও বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় মিছিল থেকে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
প্রথমে যুবলীগ মহানগর ও জেলা কমিটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে আমার দেশ পত্রিকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরপর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তাদের মিছিল পিকচার প্যালেস মোড়ে এসে থামে। সেখানে মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান পপলু পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করে এবং সম্পাদকের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় স্লোগান দেয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতি শেখ হারুন অর রশিদ, নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক হাফেজ মোঃ শামীম, মনিরুজ্জামান সাগর, কামরুজ্জামান জামাল, আখতারুজ্জামান বাবু, বিমান সাহা প্রমুখ।
পরে মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, মোঃ ফারুক আহমেদ, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাসান হিটলু, ফয়েজুল হক টিটো, দেবদুলাল বাড়ৈ বাপ্পি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ : বগুড়া অফিস জানায়, গতকাল বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহরের টেম্পল রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে বিকালে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু প্রমুখ।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


