Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

৩৮ বছরেও স্মৃতিরক্ষার উদ্যোগ নেই : পত্নীতলার হালিমনগর বধ্যভূমিতে ঘুমিয়ে আছেন ৩৬ স্বাধীনতাকামী

তছলিম উদ্দীন, সাপাহার (নওগাঁ)
মহান স্বাধীনতা যুুুদ্ধের দীর্ঘ ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার হালিমনগর বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষায় এখনও কেউ এগিয়ে আসেনি। অযত্ন আর অবহেলায় বধ্যভূমিটি এখন ব্যক্তিমালিকানায় চাষাবাদের জমিতে পরিণত হয়েছে। এলাকার বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও সেই সময় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পত্নীতলা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আদিবাসী মি. গুলু মুুুুুুরমুর বর্ণনায় জানা যায়, ১৯৭১ সালের শেষদিকে বিজয়ের কয়েকদিন আগে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ব্রাশফায়ার করে দেশের স্বাধীনতাকামী ৩৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এই বধ্যভূমির গণকবরে তাদের লাশ পুঁতে রাখে। হালিমনগর ও তার আশপাশের কোনো গ্রামে কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। এলাকার আদিবাসী ছাড়া প্রভাবশালী বিত্তবান প্রায় সবাই ছিল স্বাধীনতার ঘোর বিরোধী। তাই ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের আদিবাসীরা আশ্রয় দিত, সহযোগিতা করত ও রান্নাবান্না করে খাওয়াত—এটা সহ্য করতে পারেনি পাকিস্তানপন্থীরা। সুযোগ বুঝে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সদস্যরা সৈয়দপুর, পাইকবান্দা, হলাকান্দরসহ আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০/৫০ জন আদিবাসী ও তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া দুয়েকজনের নাম না জানা মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে এনে হালিমনগর গ্রামের অদূরে এক নির্জন স্থানে তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। এরপর হত্যাকারীরা পার্শ্ববর্তী হলাকান্দর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, আইনাল হক ও তারেক নামের তিনজনকে দিয়ে জোর করে লাশগুলোকে টেনে-হেঁচড়ে একটি গর্ত খুঁড়ে পুুুঁতে রাখে এবং রাতে তারা হলাকান্দর গ্রামে গরু জবাই করে ভূড়িভোজ সেরে এক নারকীয় আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী মি. গুলু মুরমু কালের সাক্ষী হয়ে আজও বেঁচে আছেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, সে সময় তার বয়স ছিল ১০ কি ১২ বছর। আদিবাসীদের সঙ্গে তাকেও ধরে আনা হয়েছিল এবং ব্রাশফায়ার করতে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার পায়ে গুলি লাগায় সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। পরে তিনি ভারতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
লাশ পুঁতে রাখা কাজে নিয়োজিত সাইফুলের কাছ থেকে জানা যায়, রাজাকারদের চাপের মুখে সে ৩৬ জনের লাশ পুুঁতেছে। এদের মধ্যে এলাকার পরিচিত ছিলেন ১৮ জন। এরা হলেন বুধুহেমব্রম, সুকলহেমব্রম, সরকারমুরমু, টুডুমুরমু, মাথলামুরমু, বার্নাট সরেন, বুধুরায়টুডু, চুরকাটুডু, সুক্কলমুরমু, মুশাইমুরমু, রবিদাস বর্মন, যাদুমুুরমু, ভুতু সরেন, মুন্সীটুডু, জোনাটুডু, মাঝি সরেন, বয়লাহাসদা ও খারা সরেন এবং আরও ২০-২৫ জনের নাম জানা যায়নি। এদের মধ্যে আদিবাসীদের বাড়িতে আশ্রিত কিছু মুক্তিযোদ্ধা এবং দূরের গ্রাম থেকে ধান কাটতে আসা কিছু ক্ষেতমজুর ছিলেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?