জীবনের প্রথম পরীক্ষা
স্টাফ রিপোর্টার
‘আমি পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে ভয় পেয়েছি। আমার কান্না চলে আসে। একটু কান্না করেছি। কিন্তু মিস দেখতে পায়নি। আমি মাথা নিচু করে কান্না করেছিতো, তাই দেখতে পায়নি।’ জীবনের প্রথম ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে হল থেকে বেরিয়ে এসে এভাবেই মায়ের কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছে ছয় বছরের শিশু মালিহা মেহজাবীন। গতকাল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি মাধ্যমের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে সে। বেইলী রোডে স্কুলের মূল শাখায় পরীক্ষা দিয়ে বাইরে আসার পর মা আইরিন পারভীনের নানা প্রশ্নের প্রথম উত্তরটাই ছিল এরকম। এছাড়াও সে বলে, ‘তিন তলায় হল রুমে যখন মিস নিয়ে যাচ্ছিল, তখন সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় একটু ব্যথা পেয়েছি।’
পরীক্ষা কেমন হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুই বলতে পারেনি সে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর যে দিতে পারেনি তা জানায় মালিহা।
একই অবস্থা আরেক শিশু অন্বেষা অথৈ’র। তবে তার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। মালিহা ও অন্বেষার মতো প্রায় দু’হাজার ৪০০ শিশু গতকাল ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমে নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভালো-মন্দ মেশানো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
সকাল সাড়ে ন’টা থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই হলের ভেতর চলে যেতে হয়েছে সবাইকে। তাই দূর-দূরান্তের অভিভাবকদের খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হতে হয়েছে।
অন্বেষার মা পলি সরকার জানান, তিনি ভোর পৌনে সাতটায় মেয়েকে নিয়ে রামপুরার বাসা থেকে বের হয়েছেন। রিকশা করে আটটায় এসে স্কুলে পৌঁছেছেন। সকাল সাড়ে আটটায় মেয়েকে হলে ঢোকানোর পর থেকে প্রায় ছয় ঘণ্টা তিনি দাঁড়িয়ে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন। স্কুলের সামনের মাঠে অভিভাবকরা গাদাগাদি করে বসেছিলেন। কিন্তু অভিভাবকদের সংখ্যার তুলনায় মাঠটি ছিল ছোট। তাই একবার কোনো অভিভাবক বসা থেকে দাঁড়ালেই সেই স্থান আর তার ফিরে পাওয়ার সুযোগ ছিল না।
এদিকে সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। কিন্তু অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়া শুরু করেন তারও ঘণ্টাখানেক পর। পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর ও নাম ধরে মাইকে ডেকে ডেকে অভিভাবকদের কাছে তার সন্তানদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। যার কারণে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও তিন-চার ঘণ্টা সময় লেগে যায় শিশুদের হল থেকে বের করতে। এতে অনেক অভিভাবক সন্তানদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পলি সরকার দুপুর দু’টায় অন্বেষাকে পেয়েছেন। পরীক্ষা শেষে এই আড়াই ঘণ্টা কি করেছে জানতে চাইলে অন্বেষা জানায়, তারা হলে বসে গান করেছে, খেলা করেছে। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা টিফিন খেয়েছে।
তবে সবাই অন্বেষার মতো মজা করেনি। অনেক শিশুই দীর্ঘ সময় মাকে না দেখে কান্নাকাটি করেছে। কোনো কোনো শিশু পরীক্ষার হলেই ঘাবড়ে গিয়ে কান্না শুরু করেছে। পরীক্ষার মাঝখানেই এমন একজন শিশুকে থামাতে না পেরে মাইকে তার অভিভাবককে ডেকে নেয়া হয়েছে।
আইরিন পারভীন অভিযোগ করেন, কখন পরীক্ষার হলে আনতে হবে, সঙ্গে কি কি নিয়ে আসতে হবে—এসব বিষয় যদি ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে দিয়ে দেয়া হতো তাহলে আমাদের মতো চাকরিজীবী মায়েদের কষ্ট কম হতো। কারণ, অফিস করে স্কুলে এসে নোটিশ বোর্ড দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বেইলী রোডের মূল ক্যাম্পাসসহ আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরার চারটি শাখাতেই একযোগে বাংলা মাধ্যমের প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার। স্কুলের আজিমপুর শাখার দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নাসরীন নঈম আমার দেশ-কে জানান, বাংলা মাধ্যমে প্রায় চার হাজার শিশু প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফরম নিয়েছে। এ মাধ্যমে চারটি শাখা মিলিয়ে আসন আছে প্রায় এক হাজার ৪০০। আর ইংরেজি মাধ্যমে আসন আছে ১৫০টি। দুই মাধ্যমেরই ভর্তি পরীক্ষার ফল জানানো হবে ৩১ ডিসেম্বর।
পরীক্ষা কেমন হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুই বলতে পারেনি সে। তবে সব প্রশ্নের উত্তর যে দিতে পারেনি তা জানায় মালিহা।
একই অবস্থা আরেক শিশু অন্বেষা অথৈ’র। তবে তার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। মালিহা ও অন্বেষার মতো প্রায় দু’হাজার ৪০০ শিশু গতকাল ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমে নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভালো-মন্দ মেশানো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
সকাল সাড়ে ন’টা থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই হলের ভেতর চলে যেতে হয়েছে সবাইকে। তাই দূর-দূরান্তের অভিভাবকদের খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হতে হয়েছে।
অন্বেষার মা পলি সরকার জানান, তিনি ভোর পৌনে সাতটায় মেয়েকে নিয়ে রামপুরার বাসা থেকে বের হয়েছেন। রিকশা করে আটটায় এসে স্কুলে পৌঁছেছেন। সকাল সাড়ে আটটায় মেয়েকে হলে ঢোকানোর পর থেকে প্রায় ছয় ঘণ্টা তিনি দাঁড়িয়ে মেয়ের জন্য অপেক্ষা করেছেন। স্কুলের সামনের মাঠে অভিভাবকরা গাদাগাদি করে বসেছিলেন। কিন্তু অভিভাবকদের সংখ্যার তুলনায় মাঠটি ছিল ছোট। তাই একবার কোনো অভিভাবক বসা থেকে দাঁড়ালেই সেই স্থান আর তার ফিরে পাওয়ার সুযোগ ছিল না।
এদিকে সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। কিন্তু অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়া শুরু করেন তারও ঘণ্টাখানেক পর। পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর ও নাম ধরে মাইকে ডেকে ডেকে অভিভাবকদের কাছে তার সন্তানদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। যার কারণে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও তিন-চার ঘণ্টা সময় লেগে যায় শিশুদের হল থেকে বের করতে। এতে অনেক অভিভাবক সন্তানদের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পলি সরকার দুপুর দু’টায় অন্বেষাকে পেয়েছেন। পরীক্ষা শেষে এই আড়াই ঘণ্টা কি করেছে জানতে চাইলে অন্বেষা জানায়, তারা হলে বসে গান করেছে, খেলা করেছে। বাড়ি থেকে নিয়ে আসা টিফিন খেয়েছে।
তবে সবাই অন্বেষার মতো মজা করেনি। অনেক শিশুই দীর্ঘ সময় মাকে না দেখে কান্নাকাটি করেছে। কোনো কোনো শিশু পরীক্ষার হলেই ঘাবড়ে গিয়ে কান্না শুরু করেছে। পরীক্ষার মাঝখানেই এমন একজন শিশুকে থামাতে না পেরে মাইকে তার অভিভাবককে ডেকে নেয়া হয়েছে।
আইরিন পারভীন অভিযোগ করেন, কখন পরীক্ষার হলে আনতে হবে, সঙ্গে কি কি নিয়ে আসতে হবে—এসব বিষয় যদি ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে দিয়ে দেয়া হতো তাহলে আমাদের মতো চাকরিজীবী মায়েদের কষ্ট কম হতো। কারণ, অফিস করে স্কুলে এসে নোটিশ বোর্ড দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বেইলী রোডের মূল ক্যাম্পাসসহ আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরার চারটি শাখাতেই একযোগে বাংলা মাধ্যমের প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার। স্কুলের আজিমপুর শাখার দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষিকা নাসরীন নঈম আমার দেশ-কে জানান, বাংলা মাধ্যমে প্রায় চার হাজার শিশু প্রথম শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফরম নিয়েছে। এ মাধ্যমে চারটি শাখা মিলিয়ে আসন আছে প্রায় এক হাজার ৪০০। আর ইংরেজি মাধ্যমে আসন আছে ১৫০টি। দুই মাধ্যমেরই ভর্তি পরীক্ষার ফল জানানো হবে ৩১ ডিসেম্বর।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


