Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শার্শার লক্ষণপুরে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি : চাঁদা দিয়েও বাঁচতে পারছে না বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা

যশোর অফিস
জীবন বাঁচাতে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের দুই লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন শার্শার লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি সলেমান। তারপরও তিনি রেহাই পাননি। নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্বজনহারানোর সেই শোক সামলে ওঠার আগেই নতুন আতঙ্ক ভর করেছে অসহায় পরিবারটির ওপর। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ করলে সলেমানের একমাত্র শিশুপুত্রটির অবস্থাও বাবার মতো হবে বলে তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মধ্যরাতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়ার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। গতকাল সরেজমিন শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামে গেলে নিহত সলেমানের স্বজনরা তুলে ধরেন তাদের অসহায়ত্বের কথা। সাংবাদিকদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সলেমানের বৃদ্ধা মা মোমেনা খাতুন। প্রিয় সন্তানের ছবি বুকে জড়িয়ে খুনিদের বিচার দাবি করেন তিনি। ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, ঘটনার ১২ দিন পার হলেও হত্যাকারীদের আটকে পুলিশের আগ্রহ নেই। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা বিচারের ব্যাপারে সন্দিহান। অবশ্য পুলিশ বলছে, শিগগিরই সলেমান হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তারা আটক করতে সক্ষম হবে।
শুধু সলেমানের পরিবার নয়, লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে চারদলীয় জোটের সমর্থক কোনো মানুষই স্বস্তিতে নেই। গত সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের তাণ্ডব অন্যান্য জায়গায় অনেকাংশে স্তিমিত হলেও শার্শা যেন তাদের লীলাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ উপজেলায় চারদলীয় জোটের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও তাদের পরিবার নানাভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। লক্ষ্মণপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাজনৈতিক বিরোধিতাকে পুঁজি করে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। চাঁদা না দেয়া হলে মারধর, এমনকি চাষাবাদে বাধা দেয়া হচ্ছে। লুট করা হচ্ছে গরু-ছাগল। লক্ষ্মণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহররম আলী নিজ বাড়িতে এক প্রকার অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছেন।
যুবদল নেতা ব্যবসায়ী সলেমান এই ধারাবাহিকতারই শিকার। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের অব্যবহিত পরেই তার কাছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ক্যাডাররা দুই লাখ চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি। জীবন বাঁচাতে তিনি বাধ্য হয়ে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু তাতেও রেহাই পাননি। গত ৭ ডিসেম্বর লক্ষ্মণপুর বাজারে নিজ দোকানের পাশে গুলি ও বোমা মেরে তাকে হত্যা করা হয়। হাত ও পায়ের রগ কেটে সন্ত্রাসীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যাকারীদের চিনতে না পারায় সলেমানের ছোট ভাই ফুলছুদ্দিন কারও নাম উল্লেখ না করে শার্শা থানায় একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে জাহাঙ্গীর নামে একজনকে আটক করলেও এ ব্যাপারে আর কোনো অগ্রগতি নেই।
নিহত সলেমানের ৪ মেয়ে ও এক ছেলে। তার ছোট মেয়ে শারমিন আক্তার রুমির স্বামী শহিদুর রহমান জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে পুলিশের আচরণ রহস্যজনক। এজাহারে কারও নাম না থাকায় আসামি আটক করা যাচ্ছে না বলে তাদের বলা হচ্ছে। অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে সলেমানের পরিবার কিছু জানলেও হুমকির কারণে তা পুলিশকে বলতে পারছে না। শুধু তাই নয়, সলেমান হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর ডিহি গ্রামে তার দ্বিতীয় মেয়ে ডলির বাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই একেএম আজমল হুদা বলেন, নাম না থাকায় আসামি আটক করতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি অচিরেই জড়িতদের আটক করা সম্ভব হবে। কোনো রাজনৈতিক চাপের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু জানান, নির্বাচনের পর থেকে চারদলীয় জোটের কয়েক হাজার লোক এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। লক্ষ্মণপুরের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, সলেমানের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে পর্যন্ত যেতে পারেননি। এমনকি নেতাকর্মীদের সলেমানের কবর জিয়ারতে বাধা দেয়া হচ্ছে। দলীয় কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তিনি সলেমান হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, প্রশাসন তত্পর থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।
যশোর জেলা বিএনপির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেন, জেলাজুড়েই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এ পর্যন্ত জোটের ৭-৮ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। খুন, রাহজানি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রশাসন এখন আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?