Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি বাতিল নিয়োগ দেবে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
বাতিল করা হলো সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নিয়োগ কমিটি ‘ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি’ (বিআরসি)। এর স্থলে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ পরিচালনা
পর্ষদকে। বিআরসি’র মাধ্যমে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগত। বিআরসি ভেঙে দেয়ায় এখন থেকে লোকবল নিয়োগের আদেশ দ্রুত কার্যকর হবে। কিন্তু এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকটা সহজ হলেও দলীয়করণের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করেছে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে ওই আদেশে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, স্বচ্ছতা ও মেধা যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে ১২টি সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিআরসি গঠন করা হয়, যার প্রধান করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে। কমিটিতে সদস্যসচিব ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপককে। ২০০০ সালের পর থেকে কোনো প্রকার দলীয়করণ ছাড়াই বিআরসি সুনামের সঙ্গেই বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে আসছিল।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিআরসি’র মাধ্যমে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগত। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও তেমন আগ্রহ দেখাতেন না। বিআরসি ভেঙে দেয়ায় এখন থেকে লোকবল নিয়োগের আদেশ দ্রুত কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে বিআরসি’র পরিবর্তে নিজ নিজ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাদের লোকবল নিয়োগ কমিটি গঠন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদস্য এ কমিটিতে থাকবে। নিয়োগ দেয়ার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে।
সংশ্লি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। পর্ষদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোও মেনে নিতে পারেনি। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ’র প্রতিনিধিরা একাধিক বৈঠকে এ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদ
গঠনের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। এ দিকে বিআরসি ভেঙে দেয়ার ফলে সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণই প্রাধান্য পাবে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। কেননা এসব প্রতিষ্ঠানের সরকারসমর্থিত সিবিএ নেতারা এমনিতেই বেপরোয়া। এর পাশাপাশি রয়েছে দলীয় পরিচালনা পর্ষদ। বিআরসি’র মাধ্যমে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগত। তবে বিআরসি ভেঙে দেয়ায় এখন থেকে লোকবল নিয়োগের আদেশ দ্রুত কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিআরসি ভেঙে দেয়ার ফলে ব্যাংকিংয়ের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বেপরোয়া দলীয়করণের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনবে না। উল্লেখ্য, সরকারি মালিকানাধীন ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় আড়াই হাজারের ওপরে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?