খেলাপি ঋণের সুদ বাবদ ব্যাংকগুলোতে আটকে আছে ৪ হাজার কোটি টাকা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
ব্যাংকিং খাতে স্থগিত সুদের পরিমাণ বেড়েছে। খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের মূল ঋণের সঙ্গে অধিক পরিমাণে সুদও আটকে গেছে। একইসঙ্গে গত বছরের তুলনায় চলতি ২০০৯ সালের প্রথম প্রান্তিকগুলোতে ঋণের নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) অনেকটা কমে এলেও তা আবার বেড়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে ৩ হাজার ৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ বছর মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শতকরা হারের দিক থেকেও খেলাপি ঋণ বেশ খানিকটা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ব্যাংকগুলো মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৯২৭ কোটি ১২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ২২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সে সময় খেলাপি ঋণের হার হয়েছিল ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর চলতি বছরের জুন মাস শেষে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের বিতরণ করা ৫০ হাজার ৬৬২ কোটি ২৮ লাখ টাকার মধ্যে ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ১১ হাজার ৯৫৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যার মধ্যে আবার ১০ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের এক-পঞ্চমাংশ মন্দ বা ক্ষতিপর্যায়ে শ্রেণীকৃত হয়ে রয়েছে, যা আদায়যোগ্য নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৭ হাজার ৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতি থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকগুলো রেখেছে ৭ হাজার ৫০৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ সুদ আয় আটকে পড়েছে ঋণগ্রহীতাদের কাছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ব্যাংকিং খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা ২ লাখ ২৫ হাজার ৯২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে নিয়ম অনুযায়ী ১৪ হাজার ৩৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা নিরাপত্তা সঞ্চিতি থাকার কথা। কিন্তু ব্যাংকগুলো রাখতে পেরেছে ১৩ হাজার ৫৭১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে ৭৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৬১০ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে অপর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেরও ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি আছে। দেশের ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৪৫৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর এই ব্যাংকগুলোর ঋণগ্রহীতার কাছে এক হাজার ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সুদ আয় আটকে পড়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক সুদ আটকে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের, যার পরিমাণ ২২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো ব্যাংক বা বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভিশন ঘাটতি নেই। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকেরই বড় অংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকায় এ খাতের ব্যাংকে সামগ্রিক ঘাটতি হয়েছে। আর এই ব্যাংকগুলোর ৬৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে ঋণগ্রহীতাদের কাছে। এর মধ্যে বিকেবির সুদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অর্থাত্ ৩৮৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
এদিকে ১০টি বিদেশি ব্যাংকের একটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে (এনবিপি) ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ৮২ কোটি ৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষিত আছে। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণগ্রহীতাদের কাছে ৮৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এ বছর মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শতকরা হারের দিক থেকেও খেলাপি ঋণ বেশ খানিকটা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ব্যাংকগুলো মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৯২৭ কোটি ১২ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৩ হাজার ২২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সে সময় খেলাপি ঋণের হার হয়েছিল ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর চলতি বছরের জুন মাস শেষে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের বিতরণ করা ৫০ হাজার ৬৬২ কোটি ২৮ লাখ টাকার মধ্যে ২৩ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ১১ হাজার ৯৫৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে, যার মধ্যে আবার ১০ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের এক-পঞ্চমাংশ মন্দ বা ক্ষতিপর্যায়ে শ্রেণীকৃত হয়ে রয়েছে, যা আদায়যোগ্য নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, এই ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ৭ হাজার ৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতি থাকার কথা থাকলেও ব্যাংকগুলো রেখেছে ৭ হাজার ৫০৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তবে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ সুদ আয় আটকে পড়েছে ঋণগ্রহীতাদের কাছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ব্যাংকিং খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা ২ লাখ ২৫ হাজার ৯২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে নিয়ম অনুযায়ী ১৪ হাজার ৩৪৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা নিরাপত্তা সঞ্চিতি থাকার কথা। কিন্তু ব্যাংকগুলো রাখতে পেরেছে ১৩ হাজার ৫৭১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি রয়েছে ৭৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৬১০ কোটি ২২ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে অপর পুনর্গঠিত বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেরও ৭৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি আছে। দেশের ৩০টি বেসরকারি ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৪৫৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর এই ব্যাংকগুলোর ঋণগ্রহীতার কাছে এক হাজার ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার সুদ আয় আটকে পড়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক সুদ আটকে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংকের, যার পরিমাণ ২২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ছাড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোনো ব্যাংক বা বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রভিশন ঘাটতি নেই। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকেরই বড় অংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকায় এ খাতের ব্যাংকে সামগ্রিক ঘাটতি হয়েছে। আর এই ব্যাংকগুলোর ৬৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে ঋণগ্রহীতাদের কাছে। এর মধ্যে বিকেবির সুদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অর্থাত্ ৩৮৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
এদিকে ১০টি বিদেশি ব্যাংকের একটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে (এনবিপি) ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। তবে সার্বিকভাবে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ৮২ কোটি ৭ লাখ টাকার অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষিত আছে। অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণগ্রহীতাদের কাছে ৮৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার সুদ আটকে আছে।
-
ব্যবসা বাণিজ্য


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


