কোপেনহেগেন চুক্তি কি জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করতে পারবে?
এপি, এএফপি
প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে এখন পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই প্রভাবও পড়তে শুরু করছে ভূ-পৃষ্ঠের অনেক অঞ্চলে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই সমস্যা মোকাবিলায় জাতিসংঘের উদ্যোগে কোপেনহেগেন আলোচনায় বসেছেন বিশ্ব নেতার। সম্মেলনের একদিন আগেও চুক্তির খসড়া নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য বিরাজ করছিল। এ অবস্থায় কার্বন নির্গমনে কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হতে চলেছিল সম্মেলন। কিন্তু সম্মেলনের শেষ দিন শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ রাষ্ট্র একটি সমঝোতায় পৌঁছে। এই পাঁচ রাষ্ট্র হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল। যেসব ক্ষেত্রে সমঝোতায় পৌঁছা সম্ভব হয়েছে সেগুলো উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমিত রাখবে। ২০১০-২০১২ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশের সহায়তায় ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গড়ে তোলা হবে। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর বিষয়টি মনিটরিং এবং যাচাই করা হবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এই সমঝোতা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কতটা সহায়ক হবে? সম্মেলনে যোগ দেয়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকরা বার্তা সংস্থাগুলোর কাছে মত প্রকাশ করছেন যে, কোপেনহেগেন চুক্তি চলমান সমস্যা সমাধানে তেমন সহায়ক হবে না। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রসমূহ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য কিছুটা সহায়তা পেতে পারে। দশকের পর দশক ধরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অত্যধিক হারে কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন হচ্ছে উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাধ্যমে। প্রাকৃতিক নিয়মেই গাছপালা কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন নির্গমনের মাধ্যমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। কিন্তু অতিমাত্রায় বায়ু দূষণের কারণে আজ আমাদের জলবায়ু বিপর্যস্ত। এর মধ্যেই পৃথিবীর ভবিষ্যত্ উষ্ণতা ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ববাসীকে। শিল্পোন্নত যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে গড়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অনেক গবেষকই তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন। কোপেনহেগেনে সমঝোতার ফলে ভবিষ্যতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা হলেও বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রসমূহ কিভাবে এই বাড়তি কার্বনডাই অক্সাইডের চাপ মোকাবিলা করবে এটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এই কারণেই উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহ জোরালভাবে অভিযোজন তহবিলের দাবি তুলেছে, যার প্রয়োজনীয়তা এর মধ্যেই মেনে নিয়েছে উন্নত শক্তিধর রাষ্ট্রসমূহ। পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত রাখতে হবে। এটা রাখতে হলে আগামী ১৫-২০ বছরের জন্য কার্বন নির্গমনের হার নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নির্গমন প্রশমনের হার বিশ্বের জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট নয়। তবে কোপেনহেগেনে যে সমঝোতাই হোক না কেন, বিশ্ব জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলা করতে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় আগামী জলবায়ু সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে
থাকতে হবে।
থাকতে হবে।
-
আন্তর্জাতিক


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া

