Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আওয়ামী ফাইভ স্টার বাহিনীর তাণ্ডব : সুজানগরে ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাত্তার

জহুরুল ইসলাম, পাবনা
‘বাবারে ফাইভ স্টার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেডাকে খুন কইরছে, মামলা করায় আমাকে এলাকাছাড়া কইরছে। আবার ওসি সাহেব থানায় ডাইকা নিয়া রেভিনিউ স্ট্যাম্পে জোর কইরা সই নিছে। আমার ছেলেডাকেও হারাইলাম আবার আমার নিজের জীবনও যায় যায় অবস্থা, আমি কি ছাওয়াল খুনের বিচার পামু না।’ পাবনার সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর গ্রামের বৃদ্ধ আবদুস সাত্তার মণ্ডল ও তার স্ত্রী গোলাপী খাতুন। সাত্তার মণ্ডল ও গোলাপী খাতুন জানান, তাদের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন মাইক্রোবাস চালাত। এক বছর আগে বিয়ে করে। এখনও কোনো সন্তান হয়নি।
সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের ফাইভ স্টার বাহিনীর ক্যাডার রঞ্জু শেখসহ ১০/১২ জন জাহাঙ্গীরের চাচাতো বোনকে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। প্রতিবাদ করায় ফাইভ স্টার বাহিনীর ক্যাডার রঞ্জু শেখ ওরফে বাল্টি রঞ্জু, শফিক শেখ, আলিম শেখ, মারুফ শেখ, খালেদ শেখ, রেজা মোল্লা, স্বপন মিয়া, তার চাচা কামাল মিয়া, রহিমা খাতুন, আমির ওরফে আমির হামজাসহ কয়েকজন ২৮ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে বাড়ি ফেরার পথে ধরে নিয়ে চাপাতি ও রামদা দিয়ে কোপায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। ৩০ অক্টোবর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে আসামিদের নাম বলে যায়। গুরুতর আহত ছেলের চিকিত্সার জন্য ব্যস্ত থাকায় হত্যাকারীরা আবদুস সাত্তারের স্বাক্ষর জাল করে নিজেদের পছন্দমত কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সুজানগর থানার ওসি আজিজুল হক দ্রুত তা রেকর্ড করে নেন। পরে আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে প্রকৃত আসামি ও সাক্ষীদের নাম দিয়ে আদালতে মামলা করলে ওসি ক্ষেপে যান। তিনি বাদীকে ধমক দিয়ে বলেন, ছেলে তো গেছেই এবার আপনিও যাবেন। পরে বিষয়টি পাবনার পুলিশ সুপার নিবাসচন্দ্র মাঝিকে জানানো হয়। তিনি বাদীর কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের সুজানগর থানার ওসির কাছে পাঠান। এসপি এবং সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করায় ওসি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে একটি রেভিনিউ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। এ অবস্থায় বাদী হতাশ হয়ে পড়েন।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ফাইভ স্টার বাহিনীর হাতে পাবনার সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলার ২০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জিম্মি। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, জমি দখল, জলাশয় দখল করে মাছ চাষ, সালিশের নামে জরিমানা আদায় করে ভাগ-বাটোয়ারা, মারধরসহ শত শত অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন নির্বিকার। তাদের হাতে খুন হয়েছে মতি পুলিশ ও চালক জাহাঙ্গীর।
এলাকাবাসী জানান, সুজানগরের আহমেদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামাদের তিন ছেলে স্বপন, মিলন, হীরা এবং ছিদ্দিক মাস্টারের ছেলে ফিরোজ ও ফারুক মিলে গঠন করে ফাইভ স্টার বাহিনী। এখন ওই দলের সদস্য সংখ্যা অর্ধশত। দলমত নির্বিশেষে এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় তাদের মূল লক্ষ্য। সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ ও র্যাব হীরা, মিলন ও ফিরোজকে গ্রেফতার করে। কিন্তু কারাগারে থেকেই চলে তাদের চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবি।আহমেদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালালউদ্দিন বলেন, ফাইভ স্টার বাহিনীর ভয়ে আমি নিজেও সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হই না। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ ব্যাপারে আবদুস সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই এলাকায় আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে তার ছেলেরা। ফাইভ স্টার বাহিনী নামে এই এলাকায় কোনো বাহিনী নেই। এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার বলেন, ফাইভ স্টার বাহিনীর অত্যাচারের খবর তাদের কানে এসেছে। পুলিশ এই বাহিনীর প্রধান হীরাসহ সবাইকে গ্রেফতার করেছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?