Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ২০ ডিসেম্বর ২০০৯, ৬ পৌষ ১৪১৬, ২ মহররম ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শৈলকূপায় মানুষ বিক্রির হাটে ক্রেতা নেই : সস্তায় শ্রম বিক্রি

সোহাগ কুমার বিশ্বাস, শৈলকূপা (ঝিনাইদহ)
শৈলকূপার শ্রমজীবী মানুষ বিক্রির হাটগুলোতে কর্মপ্রত্যাশী অভাবী মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজের সন্ধানে আসা কৃষি শ্রমিকরা।
ঝিনাইদহ জেলার বৃহত্তর শৈলকূপার গাড়াগঞ্জ কমলাহাটে প্রতিদিন ৩ শতাধিক কর্মপ্রত্যাশী কৃষিশ্রমিক ভিড় জমান। হাতে কাস্তে, পুঁটলি, বয়স্কদের মাথায় মাথাল, ঘাড়ে গামছা য়েলে শ্রমজীবীরা অপেক্ষা করেন কাজের খোঁজে। অনেকে টাকার অভাবে সকাল থেকে না খেয়ে বসে থাকেন কাজ পেলে গৃহস্তের বাড়ি গিয়ে খাবেন, সে আশায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কাজ না পেয়ে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত শরীর নিয়ে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েন পাশের সেগুন বাগানে। কোনো গৃহস্তকে দেখলেই ঘিরে ধরেন কাজ পাওয়ার আশায়। যে দামই হোক, কাজ চাই। আর সুযোগ বুঝে গৃহস্তরাও মজুরি কমিয়ে এনেছেন অর্ধেকেরও নিচে। একজন শ্রমিককে তার সারাদিনের শ্রম বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭০-৮০ টাকায়। কাজে যাওয়া মজুরি চাওয়াকে কেন্দ্র করে নিজেরা ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন অনেকেই। একই দৃশ্য
প্রতিদিন দেখা যায় শৈলকূপা, লাঙ্গলবাঁধ, হাটফাজিলপুর, বাটইসহ উপজেলার ছোট-বড় ৮-১০টি শ্রমজীবী মানুষ বিক্রির হাটে।
সোমবার গাড়াগঞ্জ কামলাহাটে শ্রম বিক্রি করতে আসা শ্রমিকরা জানান, প্রকৃতির সময় অনুযায়ী এখন আউশ ও সবজির ক্ষেত নিড়ানির সময় চলছে। পাট কাটা, পচানো, আমন ধান রোপণসহ বিভিন্ন চাষ করেন চাষীরা। এ সময় তাদের হাতেও কাজের অভাব থাকে না। গত মৌসুমেও গৃহস্তরা বেশি দামে শ্রমিক নিতে প্রতিযোগিতা করেছেন। কিন্তু কিন্তু এবারের মৌসুমে কাজ না থাকায় শ্রমিকরা কম দামে কাজে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিকরা কাজ না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, বৃষ্টি নেই, মাঠঘাট শুকনো, কৃষকরা আমন চাষে নামতে ও পাট জাগাতে পারছেন না। চাষীদের মনে সুখ নেই, চাষের প্রতি অনীহা এসেছে চাষীদের। তাই অন্যান্য কাজও করছেন না গৃহস্তরা। এ কারণেই তাদের হাতেও কাজ নেই।
গাড়াগঞ্জ কামলাহাটে পাবনা থেকে শ্রম বিক্রি করতে আসা জামিরুল, আলম ও জাহাঙ্গীর জানান, তারা তিনজনের একটি দল। তিনজন একসঙ্গে কাজে যান। আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত তাদের এলাকায় কাজ থাকে না। তাই এ এলাকায় এসেছেন কাজের খোঁজে। কিন্তু তিন দিনে বিভিন্ন হাটে ঘুরে কাজ পাননি বলে জানান তারা। কুষ্টিয়ার আলমপুর থেকে এসেছেন সুজন বিশ্বাস। ১০ দিন আগে বাড়ি থেকে এসেছেন তিনি। স্ত্রী-কন্যাসহ চারজনের সংসার তার। আসার সময় তাদের খরচের জন্য ১৮০ টাকা রেখে এসেছেন। ১০ দিনে কাজ পেয়েছেন মাত্র তিন দিন, তাও আবার মাত্র ৮০ টাকা দরে। ৭ দিন বসে খেতে সে টাকাও ফুরিয়ে ফেলেছেন তিনি। টাকা না নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বলে জানান সুজন বিশ্বাস। কাজ পেলে গৃহস্তের সঙ্গে যাবেন, না পেলে পার্শ্ববর্তী স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে সকালে অন্য হাটে যাবেন কাজের খোঁজে। সুদূর রংপুর থেকে গাড়াগঞ্জ কামলা হাটে এসেছেন বৃদ্ধ সামাদ। তিনি বলেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে বিভিন্ন হাটে কামলার কাজ করছেন তিনি। এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। কাজ করতে পারবেন না ভেবে কেউ কাজে নিতে চান না। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে বাধ্য হয়েই কাজের খোঁজে কামলা হাটে ধরনা দিতে হয় তাকে।
শ্রম বিক্রি করতে আসা এমনি কৃষিশ্রমিক আবুল, কালাম, জিয়ারত, মকবুলসহ অনেকেই জানান, গত বোরো মৌসুমেও শ্রম বিক্রি করেছেন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়। কিন্তু বর্তমানে কাজ না থাকায় মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হতে হচ্ছে তাদের। মাত্র ৩-৪ মাসের ব্যবধানে শ্রমের দাম কমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। শ্রমিকের মজুরি কমে আসার পরও দিনের পর দিন কাজ না জোটায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। তবুও কাজের আশায় দীর্ঘ প্রতীক্ষায় বসে আছেন কাজের সন্ধানে আসা কৃষিশ্রমিকরা।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?