খুলনায় শিক্ষকদের কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য : মডেল টেস্টে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
আতিয়ার পারভেজ, খুলনা
খুলনা জিলা ও করোনেশন স্কুলে ধনীর দুলালদের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ানোর জন্য মর্যাদার লড়াই শুরু হয়েছে। এ দু’টি স্কুলে ৪৮০ আসনের বিপরীতে ২ হাজার ৩৮৩ জন ভর্তিচ্ছু ফরম জমা দিয়েছে। গড়ে একটি আসনের জন্য ৫ জন প্রতিযোগী। ভর্তির জন্য সৌভাগ্যবান তৈরি করতে স্কুল দু’টির ৫ শিক্ষক কোচিং ব্যবসা করছেন। প্রতি বছর তাদের প্রতিষ্ঠান থেকেই বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় বলে তাদের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা বেশি। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা বছরে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা।
জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালেকা বেগম জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণীতে ২ শিফট দিবা ও প্রভাতে ৪টি সেকশন আছে। প্রতি সেকশনে ৬০ জন করে ছাত্রভর্তির সুযোগ পাবে। এই ২৪০ আসনে ভর্তির জন্য গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরম জমা নেয়া হয়েছে। আর এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ১ হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী নাম লিখিয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বহু কাঙ্ক্ষিত ভর্তি পরীক্ষা। করোনেশন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা নাজ জানান, তার প্রতিষ্ঠানেও একই শিফট ও সেকশনে ভর্তির জন্য ১ হাজার ১৪৩ জন শিক্ষার্থী ফরম জমা দিয়েছে। দু’প্রধান শিক্ষিকাই জানিয়েছেন তাদের সব শিক্ষার্থীর এক সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণ করার মতো ব্যবস্থা তাদের আছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, খুলনা জিলা ও করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষক কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দুটি স্কুলে যে ২ হাজার ৩৮৩ জন শিক্ষার্থী ফরম জমা দিয়েছে তার মধ্যে প্রায় দেড় হাজারই তাদের কাছে পড়ছে। নগরীর হাজী মহাসিন রোডে শিখন কোচিং পরিচালনা করছেন জিলা স্কুলের শিক্ষক আফরুল। তার কোচিংয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আছে। মুন্সীপাড়া এলাকায় ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে কোচিং করছেন জিলা স্কুলের শিক্ষক আমানত। সবচেয়ে বেশি ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছেন জিলা স্কুলের এলপিআরে যাওয়া শিক্ষক হুদা। এ দু’জন শিক্ষকের কোচিং সেন্টারের কোনো নাম নেই। অভিভাবকদের কাছে তাদের প্রতিষ্ঠান আমানত স্যারের ব্যাচ ও হুদা স্যারের ব্যাচ নামে পরিচিত। করোনেশন স্কুলের শিক্ষক বিভাস পরিচালনা করছেন অগ্রদূত কোচিং। নগরীর আহসান আহমেদ রোড থেকে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে ১৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী আছে। আর খানজাহান আলী রোডের পাঞ্জেরী কোচিং চালাচ্ছেন করোনেশনের শিক্ষক আবু হোসেন। তার এ নতুন প্রতিষ্ঠানে ৬০ জন শিক্ষার্থী আছে। এর বাইরে নগরীর হাজী মহসিন, আহসান আহমেদ, খানজাহান আলী ও সাউথ সেন্ট্রাল রোডে রয়েছে আরও ২০টির মতো কোচিং সেন্টার। সেখানেও ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী কোচিং নিচ্ছে।
এদিকে কনজুমার রাইটস সোসাইটির শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে নালিশ জানিয়েছে। সংগঠনটির কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, সরকারি চাকরি করার পাশাপাশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। বিশেষ করে শিক্ষকরা যে স্কুলে পড়ান সেই স্কুলে ভর্তি কোচিং যখন তিনি পরিচালনা করেন তখন তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীই বেশি সুযোগ পেয়ে থাকেন। কারণ ওই শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন এবং কোন ধরনের প্রশ্ন হতে পারে তা আঁচ করতে পারেন। এ জন্য প্রতি বছরই দেখা যায় মর্যাদাবান এ দু’টি স্কুলের শিক্ষকরাই তাদের কোচিং সেন্টার থেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের এ প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এক শিক্ষার্থীকে টানা এক বছর ধরে কোচিং দিয়ে ভর্তির জন্য তৈরি করেন তারা। গড়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা হারে বছরে ৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এ হিসেবে বছরে আলোচিত ৫ শিক্ষকের পকেটে যাচ্ছে ৯০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে তারা নিজেরা যোগসাজশে বছরে ১০টির মতো মডেল টেস্ট নিয়ে থাকেন। প্রতিটি টেস্ট নেয়ার আগে তারা লিফলেট ছড়িয়ে আলাদা ভেন্যু ও সময়ের কথা জানিয়ে দেন। প্রতিটি মডেল টেস্টে ১ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় তারা।
খুলনা শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেন জানান, কোনো শিক্ষক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তা চাকরি বিধি লংঘনের পর্যায়ে পড়ে। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে লিখিত দেননি বলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালেকা বেগম জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণীতে ২ শিফট দিবা ও প্রভাতে ৪টি সেকশন আছে। প্রতি সেকশনে ৬০ জন করে ছাত্রভর্তির সুযোগ পাবে। এই ২৪০ আসনে ভর্তির জন্য গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরম জমা নেয়া হয়েছে। আর এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ১ হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী নাম লিখিয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বহু কাঙ্ক্ষিত ভর্তি পরীক্ষা। করোনেশন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা নাজ জানান, তার প্রতিষ্ঠানেও একই শিফট ও সেকশনে ভর্তির জন্য ১ হাজার ১৪৩ জন শিক্ষার্থী ফরম জমা দিয়েছে। দু’প্রধান শিক্ষিকাই জানিয়েছেন তাদের সব শিক্ষার্থীর এক সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণ করার মতো ব্যবস্থা তাদের আছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, খুলনা জিলা ও করোনেশন বালিকা বিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষক কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। দুটি স্কুলে যে ২ হাজার ৩৮৩ জন শিক্ষার্থী ফরম জমা দিয়েছে তার মধ্যে প্রায় দেড় হাজারই তাদের কাছে পড়ছে। নগরীর হাজী মহাসিন রোডে শিখন কোচিং পরিচালনা করছেন জিলা স্কুলের শিক্ষক আফরুল। তার কোচিংয়ে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আছে। মুন্সীপাড়া এলাকায় ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে কোচিং করছেন জিলা স্কুলের শিক্ষক আমানত। সবচেয়ে বেশি ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছেন জিলা স্কুলের এলপিআরে যাওয়া শিক্ষক হুদা। এ দু’জন শিক্ষকের কোচিং সেন্টারের কোনো নাম নেই। অভিভাবকদের কাছে তাদের প্রতিষ্ঠান আমানত স্যারের ব্যাচ ও হুদা স্যারের ব্যাচ নামে পরিচিত। করোনেশন স্কুলের শিক্ষক বিভাস পরিচালনা করছেন অগ্রদূত কোচিং। নগরীর আহসান আহমেদ রোড থেকে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে ১৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী আছে। আর খানজাহান আলী রোডের পাঞ্জেরী কোচিং চালাচ্ছেন করোনেশনের শিক্ষক আবু হোসেন। তার এ নতুন প্রতিষ্ঠানে ৬০ জন শিক্ষার্থী আছে। এর বাইরে নগরীর হাজী মহসিন, আহসান আহমেদ, খানজাহান আলী ও সাউথ সেন্ট্রাল রোডে রয়েছে আরও ২০টির মতো কোচিং সেন্টার। সেখানেও ২ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী কোচিং নিচ্ছে।
এদিকে কনজুমার রাইটস সোসাইটির শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে নালিশ জানিয়েছে। সংগঠনটির কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, সরকারি চাকরি করার পাশাপাশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। বিশেষ করে শিক্ষকরা যে স্কুলে পড়ান সেই স্কুলে ভর্তি কোচিং যখন তিনি পরিচালনা করেন তখন তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীই বেশি সুযোগ পেয়ে থাকেন। কারণ ওই শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন এবং কোন ধরনের প্রশ্ন হতে পারে তা আঁচ করতে পারেন। এ জন্য প্রতি বছরই দেখা যায় মর্যাদাবান এ দু’টি স্কুলের শিক্ষকরাই তাদের কোচিং সেন্টার থেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের এ প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এক শিক্ষার্থীকে টানা এক বছর ধরে কোচিং দিয়ে ভর্তির জন্য তৈরি করেন তারা। গড়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা হারে বছরে ৬ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এ হিসেবে বছরে আলোচিত ৫ শিক্ষকের পকেটে যাচ্ছে ৯০ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে তারা নিজেরা যোগসাজশে বছরে ১০টির মতো মডেল টেস্ট নিয়ে থাকেন। প্রতিটি টেস্ট নেয়ার আগে তারা লিফলেট ছড়িয়ে আলাদা ভেন্যু ও সময়ের কথা জানিয়ে দেন। প্রতিটি মডেল টেস্টে ১ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেয় তারা।
খুলনা শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেন জানান, কোনো শিক্ষক কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তা চাকরি বিধি লংঘনের পর্যায়ে পড়ে। এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে লিখিত দেননি বলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


