Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯, ৫ পৌষ ১৪১৬, ১ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

টঙ্গীর বস্তিতে মাদক ব্যবসা : নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামলা ও ভাংচুর

স্টাফ রিপোর্টার টঙ্গী
মাদক স্পটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এমপি’র বাড়ির মাত্র ২শ’ গজ দূরে গুলিবর্ষণের শব্দ ও বস্তিবাসীদের আর্তচিত্কারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রয়াত এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছবি ভাংচুর করে।
প্রত্যক্ষদর্শী বস্তিবাসীরা জানায়, ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ওরফে জামাল টঙ্গীর প্রধান মাদক স্পট কেরানিরটেক বস্তির মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অপরদিকে থানা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সফি আহমেদ সফি ওই মাদক স্পটে আধিপত্য বিস্তারের জন্য বেশ কিছুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বস্তির ক’জন বাসিন্দা জানান, যুবলীগ নেতা জামাল এমপি’র চাচাকে দৈনিক ৬ হাজার টাকা বখরা দিত। অপরদিকে ছাত্রলীগ নেতা সফি দৈনিক ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে কেরানিরটেক মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য এমপি’র চাচার কাছে আবেদন করে। এতে এমপির চাচা কেরানিরটেক মাদক স্পট থেকে জামালকে উত্খাতের জন্য ছাত্রলীগ নেতা সফিকে দায়িত্ব দেন। এমপি’র চাচার সম্মতি পেয়ে ছাত্রলীগ নেতা সফির নেতৃত্বাধীন ৫০/৬০ জনের একটি লাঠিয়াল বাহিনী বৃহস্পতিবার রাত ১টায় কেরানিরটেক বস্তিতে নির্বিচারে হামলা চালায়। এসময় তারা উপর্যুপরি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলাকারীরা যুবলীগ নেতা ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জামালের বড় বোন রাশিদার ঘরসহ বস্তির কয়েকটি ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করে। এসময় কেরানিরটেক বস্তির চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাশিদার ছেলে রাজুর কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও গাজীপুর-২ আসনের প্রয়াত এমপি আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছবি ভাংচুর ও পদদলিত করে। রাশিদা জানান, তার ঘর থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ১টি টিভি ও ৩টি মোবাইল সেট লুট করা হয়েছে। হামলায় রাশিদা, প্রতিবেশী নূরজাহান, রহিমা, রানীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। হামলাকারীরা বস্তির এক ষোড়শী মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করে। পরে তাকে দিগম্বর করে রাস্তায় ছেড়ে দেয়া হয়। রাশিদা আরও জানান, ঘটনার পূর্বাভাস পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি এমপি’র বাড়িতে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করেন। এসময় এমপি’র চাচা মতি তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এর পরই রাতের অন্ধকারে ঘটে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা। এদিকে রাতের হামলার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার সকালে যুবলীগ নেতা জামালের সমর্থকরা এমপি’র বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। এসময় ভেতরদিক থেকে এমপি’র বাড়ির গেট আটকে দেয়া হয়। জামালের ছোটভাই মিজানের নেতৃত্বে কেরানিরটেকের মাদক ব্যবসায়ীরা এমপির বাড়ির কর্মচারী ও এমপির চাচার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী জাকিরকে ধরে মারধর করে। এ ব্যাপারে এমপি জাহিদ আহসান রাসেল ও তার চাচা মতিউর রহমান মতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। টঙ্গী থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুবলীগ নেতা জামালকে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আখ্যায়িত করে বাকি ঘটনা এড়িয়ে যান। উল্লেখ্য, এমপি’র বাড়ি এবং কেরানিরটেক মাদক স্পটের দূরত্ব মাঝখানে শুধু রেল লাইন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?