Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯, ৫ পৌষ ১৪১৬, ১ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দক্ষিণ-পশ্চিমের সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ : শ্রমিকরা যাচ্ছে গোপন দলে

আতিয়ার পারভেজ, খুলনা
বর্তমান সরকারের মেয়াদ এক বছর হতে না হতেই খুলনায় দু’লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের চিংড়ি, পাট, লবণ ও পোল্ট্রি শিল্পের সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে তারা দারিদ্র্যের কঠিন শৃঙ্খলে আবদ্ধ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় তারা দিশেহারা। বাঁচার তাগিদে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাধ্য হয়েই নাম লেখাচ্ছে গোপন দল বা চরমপন্থী সংগঠনগুলোতে।
একের পর এক ক্রসফায়ার হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থী সংগঠনগুলো কীভাবে টিকে আছে, তা খুঁজতে গিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই সব তথ্য পেয়েছে। গত এক মাস ধরে গোয়েন্দা সংস্থাটি স্থানীয় র্যাব ও গোয়েন্দা সদস্যদের সহযোগিতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তথ্যানুসন্ধান চালায়। সরকারকে দেয়া তথ্যে সংস্থাটি উল্লেখ করে, খুলনা অঞ্চলের অনেকেই কেবল বেঁচে থাকার তাগিদে চরমপন্থী দলে নাম লেখাচ্ছে। জীবিকার এ অবলম্বনে এসে তাদের কেউ কেউ জীবন হারাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে পুলিশ-র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়া এ অঞ্চলের ক্যাডারদের নাম-পরিচয় আগে কখনও শোনা যায়নি। তারা সমাজে খুব বেশি আতঙ্ক ছড়ানোর কাতারে ছিল না। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ গ্রুপকে ঘায়েল করে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য প্রায় মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে তারা। যার কারণে প্রাণ দিতে হচ্ছে ‘আনকোরা চরমপন্থী’দের।
সূত্রটি জানায়, এ অঞ্চলের নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল), পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ), পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), সর্বহারা পার্টি, গণমুক্তি ফৌজ, জাসদ গণবাহিনী, শ্রমজীবী মুক্তি আন্দোলনে বেকাররা নিজেদের ভাগ্য জড়িয়ে ফেলছে। আর সংগঠনগুলো তাদের ব্যবহার করছে নিজেদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাইট্রোফুরানের উপস্থিতি ধরা পড়ার কারণে রফতানিকারকদের অনুরোধে সরকার গত ১৯ মে থেকে কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৬ মাসের জন্য গলদা চিংড়ি রফতানি বন্ধ রাখে। ৭ ডিসেম্বর বন্ধের মেয়াদ শেষ হলেও এখনও রফতানি শুরু করা যায়নি। মূলত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে এ অচলাবস্থা কাটছে না। এখন এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত খুলনা অঞ্চলের ২০টির মতো হিমায়িত চিংড়ি কোম্পানি শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছে না। ফলে ৪০ হাজারের মতো শ্রমিক মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে এ অঞ্চলের ১০টির মতো বরফ কলে। চিংড়ি কোম্পানিগুলো গলদা প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ রাখায় বরফ কলগুলো পুরোদমে উত্পাদনে যেতে পারছে না। দেশে উত্পাদিত চিংড়ির ২০ ভাগ গলদা ও ৮০ ভাগ বাগদা। আর মোট উত্পাদিত চিংড়ির ৮০ ভাগ খুলনা অঞ্চল থেকে আহরণ করা হয়। রফতানি বন্ধ থাকার কারণে কয়েক হাজার চিংড়ি খামারে এবার চাষীরা মাছ চাষ করেনি। এ কারণে লক্ষাধিক দিন-মজুর বেকার হয়ে পড়েছে। এ ধাক্কা সামলাতে না পেরে বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে কয়েকটি হ্যাচারি ও ফিসফিড কোম্পানি। সেখানে কর্মরতরাও কাজ হারিয়েছে। এছাড়া আইলার কারণে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার কয়েক হাজার ঘের এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়ায় তাদের পুনর্বাসন সম্ভব হয়নি। ফলে ওই সব ঘেরে কর্মরত মানুষ পথে বসেছে।
৭ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার কাঁচাপাট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর এ কারণে খুলনা অঞ্চলের ১৫টি জুট বেলিং কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে সেক্টরটির সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে।
খুলনার সিংহেরচরে আশির দশকে গড়ে ওঠা লবণ শিল্পেও এখন স্থবিরতা বিরাজ করছে। সেখানকার ৩৬টি ফ্যাক্টরির মধ্যে ২৪টি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার প্রথমদিকে এ মিলগুলো চালু করার ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখালেও এখন সেদিকে খেয়াল দিচ্ছে না। ফলে ওই সেক্টরের ৩০ হাজার বেকার শ্রমিক পেশা বদল করেছে।
এদিকে খুলনা পোল্ট্রি ফিসফিড দোকান মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মাসে খুলনায় দেড় হাজারেরও বেশি পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৫ সহস্রাধিক লোক বেকার হয়ে পড়েছে। মুরগির বাচ্চা ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ খাতে সরকারের কোনো মনিটরিং ও ভর্তুকির ব্যবস্থা না থাকায় খামারিরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। অবস্থার উন্নতি না হলে শিগগির বন্ধ খামার চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কীভাবে বেকারদের অপরাধ জগতে পা বাড়ানো ঠেকানো যায় সে সম্পর্কে গোয়েন্দা সূত্রটি কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে সরকারকে। সেগুলো হলো—এ অঞ্চলে রফতানি বন্ধ থাকা সেক্টর দুটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা জরুরি। সেইসঙ্গে খুলনার খালিশপুর ও দৌলতপুর শিল্পাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা, বিশেষ করে নিউজপ্রিন্ট ও দৌলতপুর জুট মিল সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চালু করা ইত্যাদি। এসব পদক্ষেপ নেয়া হলে অনেকেই অপরাধ জগত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। সেইসঙ্গে নতুন করে কেউ ওই জগতে পা বাড়াবে না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?