Amardesh
আজঃ ঢাকা, শনিবার ১৯ ডিসেম্বর ২০০৯, ৫ পৌষ ১৪১৬, ১ মহররম ১৪৩১     আপডেট সময়ঃ সময় : রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বারাক ওবামার ভাষণে হতাশ বিশ্ব : শুরুর প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকেই শেষ হলো জলবায়ু সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্ট
শেষটা শুরুর মতো হলো না বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের। বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এ সম্মেলন যতটা কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল ততটা হয়নি। উষ্ণায়নের মাত্রা কমাতে উন্নত বিশ্বের কাছ থেকে যতটা সাড়া পাওয়ার আশা ছিল তাও মেলেনি। ফলে সম্মেলনের শেষপ্রান্তে এসে অংশগ্রহণকারীদের মতপার্থক্য চরমভাবে ফুটে ওঠে। চুক্তির খসড়া নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেনি অনেক দেশই। বিশেষ করে চীনের প্রবল আপত্তির মুখে দু’দফা বদলাতে হয় খসড়া। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছেন। শেষ পর্যন্ত এ সম্মেলনে দেশগুলো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিবিসির পরিবেশ সংবাদদাতা অবস্থা দেখে মন্তব্য করেছেন, এটি নিশ্চিত যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যেভাবে চেয়েছিল এ সম্মেলনের শেষটা সেভাবে হচ্ছে না।
গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছ থেকে সম্মেলনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার আশাব্যঞ্জক বক্তব্য প্রত্যাশা করা হলেও কোপেনহেগেনের বেলা সেন্টারে দেয়া তার ভাষণ বিশ্ব প্রতিনিধিদের হতাশ করেছে। এএফপি, বিবিসি, সিনহুয়া।
কোপেনহেগেনে ৭ ডিসেম্বর অনেক আশা-ভরসা নিয়ে শুরু হয়েছিল জাতিসংঘ আয়োজিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। উদ্দেশ্য ছিল ক্রমবর্ধমান বিশ্ব উষ্ণায়ন ঠেকাতে গ্রিন হাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করে বিশ্ব তাপমাত্রা আগামী ২০৫০ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ধরে রাখা। কিন্তু সম্মেলনের শুরুতেই শিল্পোন্নত ধনী দেশ আর উন্নয়নশীল গরিব দেশগুলোর মধ্যে দেখা দেয় মতপার্থক্য। ধনী দেশগুলো তাদের ঘোষিত মাত্রার চেয়ে বেশি গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে রাজি না হওয়ায় সম্মেলনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা সম্মেলন বয়কটও করেন। ব্যর্থতার আশঙ্কায় সম্মেলনের সভাপতি ডেনিশ মন্ত্রীও পদত্যাগ করেন। তবে শেষ মুহূর্তে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ তহবিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় সহায়তার আশ্বাস দিলে জলবায়ু সম্মেলন গত বৃহস্পতিবার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। ক্ষতিপূরণে উন্নত বিশ্ব গ্রহণযোগ্য পরিমাণ অর্থ সহায়তার আশ্বাসে সম্মেলন আবার গতি ফিরে পায়। শুধু বাকি ছিল গ্যাস নিঃসরণ কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একগুঁয়ে অবস্থানের সুরাহা করা।
গতকাল ছিল সম্মেলনের চূড়ান্ত ও শেষ দিন। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের শীর্ষ নেতারা সমবেত হন কোপেনহেগেনে। এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্মেলনে অংশ নেন। একটি সমন্বিত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সবাই আশা করেছিলেন ত্যাগী মনোভাব নিয়ে বৃহত্তর বিশ্বস্বার্থের কথা চিন্তা করে পৃথিবীর সবেচেয়ে সম্পদশালী ও ক্ষমতাশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নতুন কোনো আশার বাণী শোনাবেন। আশা করা হচ্ছিল, তিনি হিলারি ক্লিনটনের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি অর্থ সহায়তার আশ্বাস দেবেন দরিদ্র বিশ্বের জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় নির্গমন হ্রাস করার ঘোষণা দিয়ে জলবায়ু সম্মেলনকে ব্যর্থতার গ্লানি থেকে মুক্ত করবেন। কিন্তু গতকাল বেলা সেন্টারে ভাষণ দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিশ্ববাসীকে হতাশ করেন।
তিনি ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাদ দিয়ে বিশ্বের ২০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। সম্মেলনে ভাষণ দানকালে ওবামা বলেন, শুধু শুধু কালক্ষেপণ না করে আলোচনা এখন যে পর্যায়ে এসেছে, তাতে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা উচিত। যে সব দেশ এতদিন ধরে চুক্তির জন্য কালক্ষেপণ করেছে, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো দেশ যা চায়, তার সবটুকু পায় না। এখন যে অবস্থায় আছে সে অবস্থাতেই সবার উচিত চুক্তিতে সই করা। না হলে আবারও বছরের পর বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের কুফল আমাদের ভোগ করতে হবে।
ওবামা তার ভাষণে সবচেয়ে বেশি গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে চীনের কথা উল্লেখ করে চীন আরও বেশি মাত্রায় গ্যাস নিঃসরণ কমাচ্ছে না বলে সমালোচনা করেন। কিন্তু ওবামার আগে সম্মেলনে ভাষণদানকালে চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বলেন, চীন এই সম্মেলন এবং গোটা বিশ্বের প্রতি নিজের একটি দায়িত্ব আছে বলে মনে করে। তাই চীন তার দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কোনো বাধাধরা শর্তে চীন কাজ করবে না। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই চীন তার ঘোষিত মাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ নিঃসরণ হ্রাস করবে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশের চেয়ে বেশি।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল ১৭ শতাংশ গ্যাস নিঃসরণ কমাবে। এই মাত্রা আরও বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাপক অনুরোধ-উপরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে কান দেয়নি।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?