কোকো-৪ লঞ্চ দুর্ঘটনা : দায়ী কর্মকর্তাদের বাঁচাতে চলছে নানা তত্পরতা
কাজী জেবেল
ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহী লঞ্চ কোকো-৪ দুর্ঘটনার ২০ দিন পার হলেও এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য শুধু লঞ্চের স্টাফদের নাম উল্লেখ করা হলেও জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হয়নি। বরং তাদের রক্ষায় একটি বিশেষ মহল নানামুখী তত্পরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সংসদ সদস্য, ক’জন লঞ্চ মালিক ও আমলা বিপুল পরিমাণ উেকাচের বিনিময়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে জোর লবিং করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। লঞ্চ দুর্ঘটনায় জন্য দায়ী কর্মকর্তারা বহালতবিয়তে তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, কোকো-৪ লঞ্চ যদি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) ছেড়ে যায় তবে সেখানে কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তারাও এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। কারা সেদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কার কতটুকু গাফিলতি ছিল তা নির্ণয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর (ডিজি শিপিং) বিভাগীয় তদন্ত করছে। তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করার বিষয়ে তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই বোঝা যাবে তারা কতটুকু প্রভাবিত করেছে। আমি আশা করি, তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিরপেক্ষ থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে গতকাল বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
কোকো লঞ্চ দুর্ঘটনায় নৌমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান জয়ন্ত কুমার নন্দীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত ১০ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেয়। এর এক সপ্তাহ পর গত ১৭ ডিসেম্বর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত যাত্রীবহনসহ ৭টি কারণ চিহ্নিত করা হয়। এজন্য লঞ্চের মাস্টার শামসুল হক ও বদিউল ইসলাম, চালক মাকসুদ আলম, সুকানি আবুল কালাম ও আবদুল আজিজ, ইন্সপেক্টর উজ্জল, কেরানি টিটু ও শামীমকে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়। আনসারদের দায়ী করা হয় পরোক্ষভাবে। কিন্তু কোকো লঞ্চটি সদরঘাট ছাড়ার দিন ২৭ নভেম্বর বিআইডবিল্গউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের যেসব কর্মকর্তা টার্মিনালে দায়িত্বরত ছিলেন তাদের সরাসরি দায়ী করা হয়নি। অথচ তাদের সহযোগিতায় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটির কাছে দেয়া জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইর কথা স্বীকারও করেছেন। এর পরেও প্রতিবেদনে ‘লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে তারা সতর্ক ছিলেন না’ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রক্ষায় অপচেষ্টা করা হয়।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন ঢাকা নদীবন্দরের ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক (বন্দর) গোলাম কবির, ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম (নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক), ডিজি শিপিংয়ের পরিদর্শক শফিক আইয়ুব, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক শাহ আলম, বার্দিং সারেং আলমগীরসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা সদরঘাট টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সামনেই সব লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। অজ্ঞাত কারণে সে সময় তারা নীরব ও অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করে লঞ্চ মালিকদের উত্সাহিত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে কোকো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহনের কথা উল্লেখ করা হয়। অথচ লঞ্চটি ছাড়ার আগে ডিজি শিপিংয়ের পরিদর্শক শফিক আইয়ুব, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক শাহ আলম, বার্দিং সারেং আলমগীর মিথ্যা ভয়েজ ডিক্লারেশন দেন। তাতে বলা হয়, লঞ্চটিতে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ যাত্রী উঠেছে। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর এই শফিক আইয়ুব বাদী হয়ে কোকো লঞ্চের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলা করেন।
লঞ্চ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ বিলম্বের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার উদাসীনতা ও গাফিলতিকে দায়ী করেছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেন, তিনি তাত্ক্ষণিক নির্দেশ (সেলিং) না দেয়ায় যথাসময়ে হামজা ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। ফলে জান ও মালের ক্ষতি বেশি হয়েছে। একই ধরনের কথা তদন্ত প্রতিবেদনেও রয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার একদিন পর চেয়ারম্যান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তারা আরও বলেন, হামজা যেতে দেরি করলেও এর আগেই তিনি ডুবুরিদের সেখানে পাঠাতে পারতেন। তার এসব কর্মকাণ্ড নৌমন্ত্রীর নজরে আছে বলেও তারা জানান। নৌবিশেষজ্ঞরা বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে দুর্ঘটনার দায়-দায়িত্ব কোনোভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না। এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার রাত ১টা থেকে পরের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি মোবাইল ও বাসার টেলিফোন বন্ধ করে রাখেন। এ সময় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং ভোলা জেলা প্রশাসক অনেক চেষ্টা করেও তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি বলেও জানা গেছে। এখন তার অধীনেই তদন্ত চলছে। জানা গেছে, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে তাকে ওএসডি করা হয়। এ অবস্থায় তিনি অবসরে যান। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এই সাবেক আমলাকে অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদায় নিয়োগ দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান নিজের গাফিলতি ও অদক্ষতাকে ঢাকতে কোকো লঞ্চ দুর্ঘটনাস্থলে হামজা পৌঁছাতে দেরি করার অজুহাতে ১ ডিসেম্বর একই বিভাগের নৌসংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (মেরিন) আব্দুর রাজ্জাক, হামজার কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান এবং বরিশাল নদীবন্দরের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেন।
নৌমন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, জয়ন্ত কুমার নন্দীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি কাজ শুরুর পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের রক্ষায় একটি বিশেষ মহল তত্পর হয়ে ওঠে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাতে গুরুতর অভিযোগ না আসে সে জন্য প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুর্ঘটনার দিন ঢাকা বন্দরে নিয়োজিত বিআইডবিল্গউটিএ, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা (র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার) নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে সতর্ক ছিলেন না।’
প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে লালমোহনের নাজিরপুর ঘাটের কাছে পৌঁছলে কোকো লঞ্চটি বাঁদিকে কাত হয়ে অর্ধেক ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু লঞ্চটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, কোকো-৪ লঞ্চ যদি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) ছেড়ে যায় তবে সেখানে কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তারাও এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। কারা সেদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন, কার কতটুকু গাফিলতি ছিল তা নির্ণয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর (ডিজি শিপিং) বিভাগীয় তদন্ত করছে। তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করার বিষয়ে তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই বোঝা যাবে তারা কতটুকু প্রভাবিত করেছে। আমি আশা করি, তদন্ত কমিটির সদস্যরা নিরপেক্ষ থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে গতকাল বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
কোকো লঞ্চ দুর্ঘটনায় নৌমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান জয়ন্ত কুমার নন্দীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত ১০ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেয়। এর এক সপ্তাহ পর গত ১৭ ডিসেম্বর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত যাত্রীবহনসহ ৭টি কারণ চিহ্নিত করা হয়। এজন্য লঞ্চের মাস্টার শামসুল হক ও বদিউল ইসলাম, চালক মাকসুদ আলম, সুকানি আবুল কালাম ও আবদুল আজিজ, ইন্সপেক্টর উজ্জল, কেরানি টিটু ও শামীমকে প্রত্যক্ষভাবে দায়ী করা হয়। আনসারদের দায়ী করা হয় পরোক্ষভাবে। কিন্তু কোকো লঞ্চটি সদরঘাট ছাড়ার দিন ২৭ নভেম্বর বিআইডবিল্গউটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের যেসব কর্মকর্তা টার্মিনালে দায়িত্বরত ছিলেন তাদের সরাসরি দায়ী করা হয়নি। অথচ তাদের সহযোগিতায় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটির কাছে দেয়া জবানবন্দিতে সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইর কথা স্বীকারও করেছেন। এর পরেও প্রতিবেদনে ‘লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে তারা সতর্ক ছিলেন না’ বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রক্ষায় অপচেষ্টা করা হয়।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন ঢাকা নদীবন্দরের ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক (বন্দর) গোলাম কবির, ঊর্ধ্বতন উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম (নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক), ডিজি শিপিংয়ের পরিদর্শক শফিক আইয়ুব, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক শাহ আলম, বার্দিং সারেং আলমগীরসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা সদরঘাট টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সামনেই সব লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। অজ্ঞাত কারণে সে সময় তারা নীরব ও অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করে লঞ্চ মালিকদের উত্সাহিত করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে কোকো লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহনের কথা উল্লেখ করা হয়। অথচ লঞ্চটি ছাড়ার আগে ডিজি শিপিংয়ের পরিদর্শক শফিক আইয়ুব, বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শক শাহ আলম, বার্দিং সারেং আলমগীর মিথ্যা ভয়েজ ডিক্লারেশন দেন। তাতে বলা হয়, লঞ্চটিতে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৪শ’ যাত্রী উঠেছে। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর এই শফিক আইয়ুব বাদী হয়ে কোকো লঞ্চের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলা করেন।
লঞ্চ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ বিলম্বের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মিয়ার উদাসীনতা ও গাফিলতিকে দায়ী করেছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেন, তিনি তাত্ক্ষণিক নির্দেশ (সেলিং) না দেয়ায় যথাসময়ে হামজা ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। ফলে জান ও মালের ক্ষতি বেশি হয়েছে। একই ধরনের কথা তদন্ত প্রতিবেদনেও রয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার একদিন পর চেয়ারম্যান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তারা আরও বলেন, হামজা যেতে দেরি করলেও এর আগেই তিনি ডুবুরিদের সেখানে পাঠাতে পারতেন। তার এসব কর্মকাণ্ড নৌমন্ত্রীর নজরে আছে বলেও তারা জানান। নৌবিশেষজ্ঞরা বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে দুর্ঘটনার দায়-দায়িত্ব কোনোভাবেই তিনি এড়াতে পারেন না। এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার রাত ১টা থেকে পরের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনি মোবাইল ও বাসার টেলিফোন বন্ধ করে রাখেন। এ সময় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং ভোলা জেলা প্রশাসক অনেক চেষ্টা করেও তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি বলেও জানা গেছে। এখন তার অধীনেই তদন্ত চলছে। জানা গেছে, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে তাকে ওএসডি করা হয়। এ অবস্থায় তিনি অবসরে যান। আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এই সাবেক আমলাকে অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদায় নিয়োগ দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান নিজের গাফিলতি ও অদক্ষতাকে ঢাকতে কোকো লঞ্চ দুর্ঘটনাস্থলে হামজা পৌঁছাতে দেরি করার অজুহাতে ১ ডিসেম্বর একই বিভাগের নৌসংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক (মেরিন) আব্দুর রাজ্জাক, হামজার কমান্ডার মোহাম্মদ শাহজাহান এবং বরিশাল নদীবন্দরের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করেন।
নৌমন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, জয়ন্ত কুমার নন্দীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি কাজ শুরুর পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের রক্ষায় একটি বিশেষ মহল তত্পর হয়ে ওঠে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাতে গুরুতর অভিযোগ না আসে সে জন্য প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুর্ঘটনার দিন ঢাকা বন্দরে নিয়োজিত বিআইডবিল্গউটিএ, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা (র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার) নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে সতর্ক ছিলেন না।’
প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে লালমোহনের নাজিরপুর ঘাটের কাছে পৌঁছলে কোকো লঞ্চটি বাঁদিকে কাত হয়ে অর্ধেক ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ৮১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু লঞ্চটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


