দেশে নৃশংসতা বাড়ছেই
নাছির উদ্দিন শোয়েব
শুধু হত্যাকাণ্ডই নয়, আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে নৃশংস খুনের ঘটনা। লাগেজের ভেতরে লাশ; ব্যাগের ভেতর, ডাস্টবিন, ঝোপঝাড় ও খাল-বিল থেকে পুলিশ উদ্ধার করছে মানুষের খণ্ডবিখণ্ড দেহ। নৃশংসভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য চলে নানা অপচেষ্টা। পরিচয় মুছে ফেলতে পৈশাচিকভাবে চেহারা বিকৃত করা হচ্ছে। কখনও মুখে এসিড ছুড়ে চেহারা ঝলসে দেয়া হয়। কখনও মাটির নিচে পুঁতে রেখে গুম করা হয় মৃতদেহ। পুলিশ বিভিন্নস্থান থেকে এ ধরনের টুকরো লাশ উদ্ধার করলেও অনেকেরই পরিচয় উদঘাটন করা সম্ভব হয় না। পচে-গলে চেহারা বিকৃত হওয়ায় স্বজনদের কাছেও প্রিয় ব্যক্তি হয়ে যায় অপরিচিত। দীর্ঘদিন মর্গে পড়ে থাকার পর অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দাফন করা হয়। আর এ কাজটি হয়ে থাকে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের বদৌলতে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রমেই নৃশংস ও জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। পুলিশ, র্যাব ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা এ ধরনের নির্মম এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে চিন্তিত। এ হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর তদারকি করার কেউ না থাকায় দীর্ঘদিনেও অনেক ঘটনার ক্লু উদঘাটন হয় না।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নৃশংসতা বাড়তে থাকলে মনে করতে হবে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। এতে জনমনে অস্থিরতা বাড়বে। সঠিক তদন্ত ও ঘাতকের কঠোর শাস্তি দেয়া হলে এ রকম হত্যাকাণ্ড অনেকাংশ কমে যাবে। র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যার পর লাশ গুমের সঙ্গে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা জড়িত। এক কথায় পেশাদার কিলার ও চরমপন্থিরাই এ ধরনের জঘন্য কাজ বেশি করে থাকে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ১১ মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪০টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে কিছু লাশের পরিচয় মিললেও বেশিরভাগ লাশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ঢাকার উত্তরা, শ্যামপুর, শনিরআখড়া, কদমতলী ওয়াসা পুকুরপাড়, মিরপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জ, আশুলিয়া, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, সাভারসহ কয়েকটি এলাকায় নৃশংস হত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে। ঢাকার বাইরে বরিশাল, খুলনা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এলাকায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় গত দু’মাসের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা নিহতদের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুম করে ফেলে।
গত ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানের কোর্টবাড়ি এলাকায় বন্যা আক্তার নামে এক কিশোরীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। বাড্ডায় ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে যুবতীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দেহের সঙ্গে মাথা ও দু’পা ছিল না বলে পুলিশ জানায়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, আবদুল কাদেরের মেয়ে বন্যা আক্তার (১১)। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সে। তার মা শিল্পী আক্তার জানান, ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে বন্যা নিখোঁজ হয়। পুলিশের ধারণা, তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর বাড্ডার খিলবাড়ীরটেক ইসলামিয়া স্কুল রোডের ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা যুবতীর (৩০) দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্লাউজ ও প্রিন্টের শাড়ি জড়ানো দেহটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর ছিল। তার মাথা ও দু’পা দেহের সঙ্গে ছিল না বলে পুলিশ জানায়। বাড্ডা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসী পচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ডোবায় ভাসতে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তুলে আনে। ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, বেশ কিছু গরুর গোশতের নিচে যুবতীর দেহ। দেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পুলিশের ধারণা, ট্রাভেল ব্যাগে মহিলার খণ্ডিত দেহকে আড়াল করতেই উপরে গরুর গোশত ছড়িয়ে রাখা হয়। তাদের মতে, ওই যুবতীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা তার মাথা ও দু’পা কেটে অন্য কোথাও ফেলে দিয়েছে।
তিন মাস আগে ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের বারান্দায় ব্রিফকেস থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনার কিছুদিন আগে বিমানবন্দরের টার্মিনালের আগমনী ইমিগ্রেশন এলাকার বাথরুম থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২৬ আগস্ট কদমতলীর এক ড্রাইভার দেলোয়ার হোসেন শিকদারকে ধোলাইপাড়ের অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট কমলাপুর রেললাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত এক মহিলা (৩৫) ও ছয় বছরের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন লাশের পরিচয় গুম করতে তাদের রেললাইনের ওপর ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। মাকে গলাকেটে এবং শিশুটিকে কুপিয়ে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। ২৮ আগস্ট উত্তরখান থানার ময়নারটেক এলাকা থেকে মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২ মাস আগে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে একটি লাগেজ থেকে পুলিশ এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ভেঙে মুখে এসিড ঢেলে লাশ বিকৃত করে ফেলে। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি লালবাগে ডিশ ব্যবসায়ী আজগরের ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জহিরুল ইসলাম ওরফে জহিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরে আজগরের বিচ্ছিন্ন মাথাটি কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজের নিচে থেকে উদ্ধার করে ডিবি। পুলিশ জানায়, আজগরের পরিচয় পৃথিবী থেকে একেবারে মুছে ফেলার জন্য দেহের খণ্ডিত অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখেছিল ঘাতকরা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের নৃশংসতা বাড়তে থাকলে মনে করতে হবে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটছে। এতে জনমনে অস্থিরতা বাড়বে। সঠিক তদন্ত ও ঘাতকের কঠোর শাস্তি দেয়া হলে এ রকম হত্যাকাণ্ড অনেকাংশ কমে যাবে। র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যার পর লাশ গুমের সঙ্গে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা জড়িত। এক কথায় পেশাদার কিলার ও চরমপন্থিরাই এ ধরনের জঘন্য কাজ বেশি করে থাকে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ১১ মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪০টি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে কিছু লাশের পরিচয় মিললেও বেশিরভাগ লাশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার ক্লু উদঘাটন করতে পারছে না আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ঢাকার উত্তরা, শ্যামপুর, শনিরআখড়া, কদমতলী ওয়াসা পুকুরপাড়, মিরপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, কেরানীগঞ্জ, আশুলিয়া, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, সাভারসহ কয়েকটি এলাকায় নৃশংস হত্যার ঘটনা বেশি ঘটছে। ঢাকার বাইরে বরিশাল, খুলনা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এলাকায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় গত দু’মাসের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা নিহতদের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুম করে ফেলে।
গত ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানের কোর্টবাড়ি এলাকায় বন্যা আক্তার নামে এক কিশোরীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। বাড্ডায় ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে যুবতীর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দেহের সঙ্গে মাথা ও দু’পা ছিল না বলে পুলিশ জানায়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, আবদুল কাদেরের মেয়ে বন্যা আক্তার (১১)। স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সে। তার মা শিল্পী আক্তার জানান, ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে বন্যা নিখোঁজ হয়। পুলিশের ধারণা, তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ৭ ডিসেম্বর বাড্ডার খিলবাড়ীরটেক ইসলামিয়া স্কুল রোডের ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা যুবতীর (৩০) দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্লাউজ ও প্রিন্টের শাড়ি জড়ানো দেহটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর ছিল। তার মাথা ও দু’পা দেহের সঙ্গে ছিল না বলে পুলিশ জানায়। বাড্ডা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসী পচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ডোবায় ভাসতে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তুলে আনে। ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, বেশ কিছু গরুর গোশতের নিচে যুবতীর দেহ। দেহে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পুলিশের ধারণা, ট্রাভেল ব্যাগে মহিলার খণ্ডিত দেহকে আড়াল করতেই উপরে গরুর গোশত ছড়িয়ে রাখা হয়। তাদের মতে, ওই যুবতীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা তার মাথা ও দু’পা কেটে অন্য কোথাও ফেলে দিয়েছে।
তিন মাস আগে ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের বারান্দায় ব্রিফকেস থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ ধারণা করছে। এ ঘটনার কিছুদিন আগে বিমানবন্দরের টার্মিনালের আগমনী ইমিগ্রেশন এলাকার বাথরুম থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২৬ আগস্ট কদমতলীর এক ড্রাইভার দেলোয়ার হোসেন শিকদারকে ধোলাইপাড়ের অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট কমলাপুর রেললাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত এক মহিলা (৩৫) ও ছয় বছরের একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন লাশের পরিচয় গুম করতে তাদের রেললাইনের ওপর ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। মাকে গলাকেটে এবং শিশুটিকে কুপিয়ে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। ২৮ আগস্ট উত্তরখান থানার ময়নারটেক এলাকা থেকে মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২ মাস আগে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে একটি লাগেজ থেকে পুলিশ এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ভেঙে মুখে এসিড ঢেলে লাশ বিকৃত করে ফেলে। এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি লালবাগে ডিশ ব্যবসায়ী আজগরের ১৫ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জহিরুল ইসলাম ওরফে জহিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরে আজগরের বিচ্ছিন্ন মাথাটি কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজের নিচে থেকে উদ্ধার করে ডিবি। পুলিশ জানায়, আজগরের পরিচয় পৃথিবী থেকে একেবারে মুছে ফেলার জন্য দেহের খণ্ডিত অংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখেছিল ঘাতকরা।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


