জলবায়ু পরিবর্তন : উপকূলীয় মানুষ ছুটছে কাজের সন্ধানে
সামিউল মনির, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
‘বাঁচতি হবে তো, মরণ যখন হয়নি তখন যে কোনো একটা কাজ তো করতি হবে’ ‘আইলা’র পর আর কিছুই নেই, নদীর ভাঙন বাড়ির কাছে চলে আইছে, তাই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছি, জানিনা জম্মস্থানে আর ফেরা হবে কিনা’—উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি গ্রামের মোঃ কেনা ঢালীর ছেলে মোঃ আকছেদুল ইসলাম এভাবেই জন্মস্থান ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তার সরল স্বীকারোক্তি প্রকাশ করলেন। স্ত্রী সাবিয়াকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার প্রাক্কালে শ্যামনগরের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আকছেদুল জানালো, পাঁচ বিঘার একটি চিংড়ি ঘের পরিচালনা করে এতদিন জীবিকা নির্বাহ করলেও ২৫ মে’র আইলায় সব শেষ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে কাজ নিশ্চিত করে আসা আকছেদুল আরও জানায়, আগামী একমাসের মধ্যে আইলায় ধ্বংস হওয়া বাঁধ মেরামত না হলে তাদের পৈতৃক ভিটা আর রক্ষা পাবে না পার্শ্ববর্তী কপোতাক্ষের ভাঙন থেকে। সেক্ষেত্রে তার বাবা পরিবারের অন্যদের নিয়ে যশোরে আশ্রয় নেবে বলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এভাবেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শ্যামনগর সদরের বাস কাউন্টারে উপস্থিত হচ্ছে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমাতে। কেউ কেউ একাকী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নিয়ে রওনা হলেও অনেকেই যাচ্ছে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে একেবারেই পৈতৃক ভিটা ছেড়ে।
আকছেদুলের মতো কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাস কাউন্টারে উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এলাকায় কাজ না থাকায় এবং সাম্প্রতিক সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলার আঘাতে বাড়িঘর হারানো পরিবারগুলো নুতনভাবে বাঁচার স্বপ্নে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাড়ি জমাচ্ছে।
উপজেলার পানখালী গ্রামের মোঃ ছফেদ ঢালীর ছেলে লিয়াকত জানায়, বিগত বছরগুলোতে নদীতে মাছ শিকার করে সংসার চালালেও আইলার আঘাতে জাল, নৌকা আর ভিটামাটি হারিয়ে স্ত্রী মর্জিনাকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের আশায়। সে গিয়ে থাকার জায়গার ব্যবস্থা করার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা তার সঙ্গে যোগ দেবে বলে জানায়। একই গ্রামের মৃত আলী গাজীর ছেলে হায়াত আলী এবং তারই ছেলে সাইফুল ও সাদ্দাম জানায়, আগে বনে মাছ শিকার কিংবা দিন মজুরের কাজ করে বসতভিটাটুকু আগলে থাকলেও দিন দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তারা সবাই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় যাচ্ছে রিকশা চালানোর জন্য। একই বিষয়ে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থানে থাকা গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান লেনিন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে চিংড়ি চাষ করছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে নিয়মিত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘেরগুলো ভেসে যাওয়ায় এবং বাড়িঘর ধ্বংস হওয়াতে মানুষ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে এলাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করায় মানুষ এলাকা ছাড়ছে। পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ আশেক-ই-ইলাহী জানান, এবার আইলার ক্ষয়ক্ষতির পর শুরুতে অতিবৃষ্টিতে আমনের ক্ষেত ডুবে যাওয়া এবং শেষদিকে অনাবৃষ্টিতে ক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হাজার হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে প্রতিদিনই এলাকা ছাড়ছে।
এভাবেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শ্যামনগর সদরের বাস কাউন্টারে উপস্থিত হচ্ছে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমাতে। কেউ কেউ একাকী বা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নিয়ে রওনা হলেও অনেকেই যাচ্ছে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের নিয়ে একেবারেই পৈতৃক ভিটা ছেড়ে।
আকছেদুলের মতো কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাস কাউন্টারে উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এলাকায় কাজ না থাকায় এবং সাম্প্রতিক সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলার আঘাতে বাড়িঘর হারানো পরিবারগুলো নুতনভাবে বাঁচার স্বপ্নে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাড়ি জমাচ্ছে।
উপজেলার পানখালী গ্রামের মোঃ ছফেদ ঢালীর ছেলে লিয়াকত জানায়, বিগত বছরগুলোতে নদীতে মাছ শিকার করে সংসার চালালেও আইলার আঘাতে জাল, নৌকা আর ভিটামাটি হারিয়ে স্ত্রী মর্জিনাকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের আশায়। সে গিয়ে থাকার জায়গার ব্যবস্থা করার পর পরিবারের অন্য সদস্যরা তার সঙ্গে যোগ দেবে বলে জানায়। একই গ্রামের মৃত আলী গাজীর ছেলে হায়াত আলী এবং তারই ছেলে সাইফুল ও সাদ্দাম জানায়, আগে বনে মাছ শিকার কিংবা দিন মজুরের কাজ করে বসতভিটাটুকু আগলে থাকলেও দিন দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারায় তারা সবাই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় যাচ্ছে রিকশা চালানোর জন্য। একই বিষয়ে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থানে থাকা গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান লেনিন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এলাকায় লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে চিংড়ি চাষ করছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে নিয়মিত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ঘেরগুলো ভেসে যাওয়ায় এবং বাড়িঘর ধ্বংস হওয়াতে মানুষ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে এলাকায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কৃষি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করায় মানুষ এলাকা ছাড়ছে। পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ আশেক-ই-ইলাহী জানান, এবার আইলার ক্ষয়ক্ষতির পর শুরুতে অতিবৃষ্টিতে আমনের ক্ষেত ডুবে যাওয়া এবং শেষদিকে অনাবৃষ্টিতে ক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হাজার হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে প্রতিদিনই এলাকা ছাড়ছে।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


