কুষ্টিয়ায় তামাক চাষের মহোত্সব : খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি, কর্তব্যে অবহেলার কারণে এবার কুষ্টিয়ায় তামাক চাষের মহোত্সব চলছে। বিগত বছরগুলোতে তামাক চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় এবং কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতা চাষীদের তামাক চাষে উত্সাহিত করে তুলছে। অন্যদিকে খাদ্যশস্য উত্পাদনের জমি তামাক চাষে ব্যবহৃত হওয়ায় এবার কুষ্টিয়ায় খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্যতম তামাক উত্পাদনকারী এলাকার মধ্যে কুষ্টিয়া অন্যতম। এখানকার উত্পাদিত তামাক উত্কৃষ্ট মানের হওয়ায় বড় বড় তামাক উত্পাদনকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী, বিড়ি, সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো এই এলাকায় জেঁকে বসেছে। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, কুষ্টিয়া জেলায় সর্বমোট আবাদি জমির পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৮ হেক্টর। এর মধ্যে গত মৌসুমে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল ৩৩ হাজার ৮৫২ হেক্টর, সরিষা ৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর, সবজি ৬ হাজার ২২৫ হেক্টর এবং ১৩ হাজার ২৭৬ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হলেও তামাক কোম্পানিগুলোর তথ্যমতে, তামাকের চাষ হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বা তামাক উত্পাদনকারী কোম্পানিগুলোর ঘনিষ্ঠসূত্র মতে, এ বছর কুষ্টিয়া অঞ্চলে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি প্রায় ৮ হাজার হেক্টর, ঢাকা টোব্যাকো ১২ হাজার হেক্টর, নাসির টোব্যকো ১ হাজার ৮শ’ হেক্টর, জামিল টোব্যাকো ১২শ’ হেক্টর এবং ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা মোট আবাদি জমির প্রায় অর্ধেক। গত বছর কুষ্টিয়ায় খাদ্যশস্যের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত ছিল ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে এ বছর প্রায় অর্ধেক জমিতে তামাক চাষের ফলে খাদ্যশস্য উত্পাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং চাহিদা পূরণই সম্ভব হবে না।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কুষ্টিয়ার বৃহত্তর দৌলতপুর উপজেলায়। এই উপজেলায় ৪টি চরাঞ্চল ইউনিয়নে তামাকের চাষ হচ্ছে অকল্পনীয় হারে। এখানকার জমির বর্গা মূল্য এমনই যে, শুধু তামাক চাষকালীন সময়ের জন্য প্রতি বিঘা জমি ১৫-১৬ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এখানকার কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজার বা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অফিসে আসেন বেতন নেন, আবার বাড়ি যান, কেউ কোনো ব্লকে যান না। কৃষি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাসও ঠিকমত অফিসে আসেন না। তাই তারা গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে উপজেলার ৪২টি ব্লকে কোনো সভা না করেই ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কিছু চাষীর স্বাক্ষর নিয়ে তামাক চাষে নিরুত্সাহিতকরণ সভা হয়েছিল বলে নথিপত্র অফিসে সংরক্ষণ করেছেন।
উপজেলার আমদহ ব্লকে আনিছুর রহমান, শেরপুর ব্লকে শহিদুল ইসলাম, রিফাইতপুর ব্লকে শফিউল ইসলাম, ঝাউদিয়া ব্লকে নজরুল ইসলাম, কল্যাণপুর ব্লকে রমজান আলী, মাঝদিয়াড় ব্লকে খালেদ আজিজ, ছাত্তারপাড়া ব্লকে আহমদ আলী, বোয়ালিয়ায় মোতালেব হোসেন, বালিরদিয়াড় ব্লকে ইদ্রিস আলী, চিলমারী ব্লকে ফিরোজ আলী মামুন, বাজুমারা ব্লকে ফজলুল হক (১) ও দিলীপ কুমারের দায়িত্ব থাকলেও তারা কবে তাদের ব্লকে যান তা সংশ্লিষ্ট ব্লকের চাষীরা বলতে পারেননি। তবে এই বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় কৃষি কর্মকর্তা প্রবীর কুমারের ভাষায়। এসব বিষয়ে তার কাছে তথ্য চাইলে তিনি মোবাইলে জানান, আমি অফিসের বাইরে আছি, আপনি অফিসে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অফিসে গিয়ে দেখা যায়, আনিছুর থেকে দিলীপ কুমার সব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের। এদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উল্লিখিত ব্যক্তিরা প্রতিদিন সকাল থেকে ছুটি পর্যন্ত এই অফিসেই থাকেন। তারা ব্লকে কখন যান, তা বোধ্যগম্য নয়। তিনি আরও জানান, ওইসব কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসে বসে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত্, ভাগ-বাটোয়ারা ও সার ডিলারদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কুষ্টিয়ার বৃহত্তর দৌলতপুর উপজেলায়। এই উপজেলায় ৪টি চরাঞ্চল ইউনিয়নে তামাকের চাষ হচ্ছে অকল্পনীয় হারে। এখানকার জমির বর্গা মূল্য এমনই যে, শুধু তামাক চাষকালীন সময়ের জন্য প্রতি বিঘা জমি ১৫-১৬ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এখানকার কৃষি অফিসের ব্লক সুপারভাইজার বা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অফিসে আসেন বেতন নেন, আবার বাড়ি যান, কেউ কোনো ব্লকে যান না। কৃষি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাসও ঠিকমত অফিসে আসেন না। তাই তারা গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে উপজেলার ৪২টি ব্লকে কোনো সভা না করেই ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কিছু চাষীর স্বাক্ষর নিয়ে তামাক চাষে নিরুত্সাহিতকরণ সভা হয়েছিল বলে নথিপত্র অফিসে সংরক্ষণ করেছেন।
উপজেলার আমদহ ব্লকে আনিছুর রহমান, শেরপুর ব্লকে শহিদুল ইসলাম, রিফাইতপুর ব্লকে শফিউল ইসলাম, ঝাউদিয়া ব্লকে নজরুল ইসলাম, কল্যাণপুর ব্লকে রমজান আলী, মাঝদিয়াড় ব্লকে খালেদ আজিজ, ছাত্তারপাড়া ব্লকে আহমদ আলী, বোয়ালিয়ায় মোতালেব হোসেন, বালিরদিয়াড় ব্লকে ইদ্রিস আলী, চিলমারী ব্লকে ফিরোজ আলী মামুন, বাজুমারা ব্লকে ফজলুল হক (১) ও দিলীপ কুমারের দায়িত্ব থাকলেও তারা কবে তাদের ব্লকে যান তা সংশ্লিষ্ট ব্লকের চাষীরা বলতে পারেননি। তবে এই বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় কৃষি কর্মকর্তা প্রবীর কুমারের ভাষায়। এসব বিষয়ে তার কাছে তথ্য চাইলে তিনি মোবাইলে জানান, আমি অফিসের বাইরে আছি, আপনি অফিসে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অফিসে গিয়ে দেখা যায়, আনিছুর থেকে দিলীপ কুমার সব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের। এদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উল্লিখিত ব্যক্তিরা প্রতিদিন সকাল থেকে ছুটি পর্যন্ত এই অফিসেই থাকেন। তারা ব্লকে কখন যান, তা বোধ্যগম্য নয়। তিনি আরও জানান, ওইসব কর্মকর্তা প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসে বসে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত্, ভাগ-বাটোয়ারা ও সার ডিলারদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


