জামায়াতের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল : স্বাধীনতা রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়তে হবে : নিজামী
স্টাফ রিপোর্টার
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, ১৯৭১ সালে মানুষ বিজয় চেয়েছিল মুক্তভাবে চলার জন্য। জানমাল ও ইজ্জত সম্ভ্রমের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরেও মানুষ এসব অধিকার পায়নি। সরকারি দলের সন্ত্রাস, নির্যাতন, খুন-ধর্ষণের মতো জঘন্য অপকর্মে মানুষ আজ দিশেহারা। যারা ক্ষমতায় থেকে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মতো অপকর্মে লিপ্ত হয় তাদের হাতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমাল নিরাপদ হতে পারে না। তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য যারা আত্মবিসর্জন দিয়েছেন, তাদের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা প্রদর্শনে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
মাওলানা নিজামী গতকাল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘মহান বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমির রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের অন্যতম নায়েবে আমির মকবুল আহমদ ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিম।
‘জামায়াতে ইসলামী এবার প্রথমবারের মতো বিজয় দিবস পালন করছে’ মর্মে গতকাল কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা জানিয়ে মাওলানা নিজামী বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সালে পুনর্গঠিত হয়ে যাত্রার শুরু থেকে প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চসহ সব জাতীয় দিবস জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শিক দৃষ্টিতে পালন করে আসছে। এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনার মাধ্যমে ওই পত্রিকাগুলো জ্ঞানপাপীর ভূমিকায় অবতীর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জামায়াত সম্পর্কে সবাই একমত হবেন এটা ঠিক নয়। দেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র আছে। একবার একদলীয় বাকশাল শাসন কায়েম হলেও সেটা বেশিদিন টেকেনি। যারা একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল তারাও পরবর্তীকালে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র পাওয়ার জন্য জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। ডা. মিলনের গায়েবানা জানাজা সফলের জন্য জামায়াতকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ’৯১-এর নির্বাচনের পর জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠনের জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন দল দূত পাঠিয়েছিল, এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। এরপর রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থা এবং কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি চালুর জন্য একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, যার প্রমাণ অনেকের কাছে আছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর শত্রু নয়, প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষ দলের মোকাবিলার একমাত্র উপায় যুক্তি, হাতিয়ার নয়। শতাব্দীকাল ধরে মুসলিম জাতিসত্তা সংরক্ষণের আন্দোলনের পথ ধরে এ উপমহাদেশ ভাগ হয়। যে আন্দোলনে শেখ মুজিবও ছিলেন। ’৬৪ সালে আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জামায়াতও ছিল। ’৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য রেখেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল। এই আন্দোলনে জামায়াতের কোনো ভূমিকা ছিল না, এ কথা কেউ বলতে পারবে না। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য একমাত্র জামায়াতে ইসলামীকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জামায়াত যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার নিয়ে পুনর্গঠিত হয়েছে, তার প্রমাণ করেছে। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রতিবাদ করেছিল। বর্তমানে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে জনসভা, নৌমার্চ করে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। করিডোরের নামে ট্রান্সশিপমেন্ট, এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর দেয়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার পরিণতির কথা বলে জাতিকে সতর্ক করা হচ্ছে।
মকবুল আহমদ বলেন, আজ দেশব্যাপী সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, খুন-ধর্ষণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিজয়ের এই দিনে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বলেন, অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে এ দেশের ওপর শকুনের নজর পড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ দেশ যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেছে। শকুনের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ’৭১-এর বিজয় ছিল অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। বিজয়ের এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি-না তা আজ মূল্যায়নের সময় এসেছে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যে লক্ষ্যে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম, সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এদেশের মানুষ যেভাবে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, সেভাবে রক্ত দিয়ে এদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করবে। তিনি প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে এ দেশকে আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা নিজামী।
মাওলানা নিজামী গতকাল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ‘মহান বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমির রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের অন্যতম নায়েবে আমির মকবুল আহমদ ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল ও মাওলানা আবদুল হালিম।
‘জামায়াতে ইসলামী এবার প্রথমবারের মতো বিজয় দিবস পালন করছে’ মর্মে গতকাল কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের নিন্দা জানিয়ে মাওলানা নিজামী বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৯ সালে পুনর্গঠিত হয়ে যাত্রার শুরু থেকে প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চসহ সব জাতীয় দিবস জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শিক দৃষ্টিতে পালন করে আসছে। এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনার মাধ্যমে ওই পত্রিকাগুলো জ্ঞানপাপীর ভূমিকায় অবতীর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জামায়াত সম্পর্কে সবাই একমত হবেন এটা ঠিক নয়। দেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র আছে। একবার একদলীয় বাকশাল শাসন কায়েম হলেও সেটা বেশিদিন টেকেনি। যারা একদলীয় শাসন কায়েম করেছিল তারাও পরবর্তীকালে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র পাওয়ার জন্য জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন করেছে। ডা. মিলনের গায়েবানা জানাজা সফলের জন্য জামায়াতকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ’৯১-এর নির্বাচনের পর জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠনের জন্য বর্তমান ক্ষমতাসীন দল দূত পাঠিয়েছিল, এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। এরপর রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে সংসদীয় ব্যবস্থা এবং কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি চালুর জন্য একসঙ্গে আন্দোলন করেছি, যার প্রমাণ অনেকের কাছে আছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পর শত্রু নয়, প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষ দলের মোকাবিলার একমাত্র উপায় যুক্তি, হাতিয়ার নয়। শতাব্দীকাল ধরে মুসলিম জাতিসত্তা সংরক্ষণের আন্দোলনের পথ ধরে এ উপমহাদেশ ভাগ হয়। যে আন্দোলনে শেখ মুজিবও ছিলেন। ’৬৪ সালে আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জামায়াতও ছিল। ’৭০-এর নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য রেখেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফসল। এই আন্দোলনে জামায়াতের কোনো ভূমিকা ছিল না, এ কথা কেউ বলতে পারবে না। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য একমাত্র জামায়াতে ইসলামীকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জামায়াত যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে আপসহীন ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার নিয়ে পুনর্গঠিত হয়েছে, তার প্রমাণ করেছে। ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রতিবাদ করেছিল। বর্তমানে টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে জনসভা, নৌমার্চ করে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। করিডোরের নামে ট্রান্সশিপমেন্ট, এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর দেয়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার পরিণতির কথা বলে জাতিকে সতর্ক করা হচ্ছে।
মকবুল আহমদ বলেন, আজ দেশব্যাপী সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতি, খুন-ধর্ষণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিজয়ের এই দিনে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার শপথ নিতে হবে।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বলেন, অমিত সম্ভাবনার দেশ হিসেবে এ দেশের ওপর শকুনের নজর পড়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ দেশ যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেছে। শকুনের থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ’৭১-এর বিজয় ছিল অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। বিজয়ের এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কি-না তা আজ মূল্যায়নের সময় এসেছে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যে লক্ষ্যে আমরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম, সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এদেশের মানুষ যেভাবে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, সেভাবে রক্ত দিয়ে এদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে রক্ষা করবে। তিনি প্রতিহিংসা ও বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে এ দেশকে আত্মনির্ভরশীল ও উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা নিজামী।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


