Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিজয় দিবসে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ওপর হামলা : আহত অর্ধশতাধিক : বাড়িঘর, দোকানপাটে ভাংচুর, লুটপাট

ডেস্ক রিপোর্ট
গতকাল মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পালনের সময় বগুড়া, পটুয়াখালী, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ এবং ছাত্র ও যুবলীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে। সাংবাদিক, পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক এতে আহত হয়। এ সময় বিএনপি, জামায়াত নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনটে শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে যুব ও ছাত্রলীগের হামলায় সাংবাদিক, বিএনপি নেতাকর্মীসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। ছাত্র ও যুবলীগ কর্মীরা বিএনপি নেতার বাসায় হামলা করে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি, মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বিজয় দিবসের সব কর্মসূচি বর্জন করেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ধুনট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান, উপজেলা, পৌর ও পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রেসক্লাব, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। রাত সোয়া ১২টায় বিএনপির দুই গ্রুপ পৃথকভাবে ফুল দেয়ার পর যুবলীগ নেতা গোলাম মুহিত চাঁন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ মিল্টনের নেতৃত্বে তাদের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় ধুনট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হায়দার আলী মণ্ডল, বিএনপি নেতা আবদুল কুদ্দুস, আকতার আলম সেলিম, যুবদল নেতা মহব্বত আলী, ছাত্রদল নেতা মুকুল হোসেন, রাজু, মোশারফ হোসেন, রনজু মিয়াসহ ১১ জন আহত হন। হায়দার আলী মণ্ডল, আবদুল কুদ্দুস ও মহব্বত আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পৌর মেয়র আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডলকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। যুব ও ছাত্রলীগ কর্মীরা বিএনপি নেতা আকতার আলম সেলিমের বাসায় হামলা চালিয়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি, দুটি মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। হামলা, মারপিট ও ভাংচুরের ছবি তোলার সময় যুবলীগ নেতা গোলাম মুহিত চাঁন দৈনিক ইত্তেফাক ও করতোয়ার ধুনট প্রতিনিধি এনামুল বারী বাদশাকে মারপিট করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। সব ছবি মুছে ফেলে এক ঘণ্টা পর সে ক্যামেরা ফিরিয়ে দেয়। বারী বাদশা গুরুতর আহত হয়ে ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় সাংবাদিকরা ধুনটে বিজয় দিবসের সব কর্মসূচি বর্জন করেন। সাংবাদিক এনামুল বারী বাদশাকে মারপিট ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
ধুনট পৌরসভার মেয়র আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল জানান, আওয়ামী লীগ চায় না অন্যরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করুক। তাই তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি টিআইএম নূরুন্নবী তারিক বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থানা বিএনপির বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়েছে। হামলার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর ও লুট করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার সময় পুলিশকে দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন আহতরা। গুরুতর আহতদের মধ্যে আছেন রাঙ্গাবালী থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ মুন্সী, লিটন, সরোয়ার মীর, মিলন, মিঠু, রুমান, মিরণ, রহমান ফরাজী, হারুন হাওলাদার ও আজিজ উদ্দিন। পিটিয়ে আহত করা হয়েছে রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি সভাপতিকে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে দুই পুলিশ সদস্যের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপি সভাপতি কবির হোসেন তালুকদার বলেন, রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের অনুমোদনে পূর্বনির্ধারিত সময় ও স্থান অনুযায়ী স্থানীয় ফরেস্ট ও রিসোর্স সেন্টারে বুধবার সকাল ১১টায় বিজয় দিবসের আলোচনা সভা শুরু হয়। একই সময় ২/৩ কিলোমিটার দূরে ছাত্রলীগের উদ্যোগেও বিজয় দিবসের আরেকটি আলোচনা সভা চলছিল। হঠাত্ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রেশাদের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল ক্যাডার বিএনপির আলোচনা সভায় হামলা চালায়। হামলার সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দর্শকের ভূমিকা পালন করায় ক্যাডাররা উপর্যুপরি কুপিয়ে ও পিটিয়ে ৭ নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করে। এছাড়া আরও কয়েকজন কর্মী কমবেশি আহত হয়েছেন। পরে তার ক্যাডার বাহিনী বাজারে গিয়ে বিএনপি সমর্থকদের দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। বটতলা এলাকার ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হারুন প্যাদার দোকান ভাংচুর করে ক্যাডাররা। একই সময় কাঁটাখালী যুবদল নেতা রোমানের দোকান লুট করে তারা। হামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফরিদ মুন্সী, যুবদল নেতা মিলন ও সরোয়ার মীরসহ আরও ৭ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাঙ্গাবালী থানার ওসি আক্তার মোর্শেদ ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিরস্ত করার চেষ্টা করেন। এতে ক্যাডাররা ক্ষিপ্ত হয়ে এএসআই মামুন ও নিজামকে লাঞ্ছিত করে। এদিকে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোঃ রেশাদ মল্লিক তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিজয় দিবসের র্যালি শেষে দুটি মিছিল মুখোমুখি হলে একটু হাতাহাতি হয়। তবে সেখানে প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিল এবং তাদের সহায়তায় পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দোকান ভাংচুরের ঘটনা বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার মোর্শেদ জানান, পরিস্থিতির চরম অবনতি ঠেকাতে পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে তা মোকাবিলা করেছে।
পাবনা : গতকাল দুপুরে পাবনায় আওয়ামী লীগের বিজয় মিছিল থেকে জামায়াতের প্রবীণ নেতা কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সাবেক এমপি মাওলানা আবদুস সোবহানের বাড়িতে হামলা হয়েছে। জামায়াত এই ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে।
জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বেলা ১টায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপির নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আবদুস সোবহানের শহরের পাথরতলার বাসভবনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগের কর্মীরা তার বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে এবং দরজা, জানালা ও সিঁড়ির গ্লাস ভাংচুর করে। এছাড়া ওই বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা দোতলায় উঠে দরজায় আঘাত ও গালিগালাজ করে।
এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মীদের ধমক দেন। এ ঘটনায় পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, মিছিল থেকে কয়েকটি ছেলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তবে তার বাড়িতে কোনো হামলা হয়নি। তাত্ক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উচ্ছৃঙ্খল মিছিলকারীদের নিবৃত করেন।
পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুর রহীম ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল এক বিবৃতিতে মাওলানা আবদুস সোবহানের বাড়িতে হামলার জন্য আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন।
ফেনী : যুবলীগ ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের মাইক ও আসবাবপত্র তছনছ করেছে। মঙ্গলবার রাত ১১টায় স্থানীয় আমিনবাজারে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বিজয় দিবসের পুষ্পমাল্য অর্পণের প্রস্তুতি চলাকালে জয়নাল হাজারীর স্টিয়ারিং কমিটির ক্যাপ্টেন-১ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান যুবলীগ ক্যাডার আজাহারুল হক আরজুর নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন দিবসটি পালনে কর্মসূচি স্থগিত করে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?