জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব : বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০ মিটার নেমে গেছে
সরদার এম. আনিছুর রহমান, রাজশাহী
বিশ্ব জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে দেশে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং অব্যাহতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে বরেন্দ্র এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০ মিটার পর্যন্ত নেমে গেছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানিবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কম হয়েছে। একদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। গত বছর ১৮ মে রাজশাহী পাউবোর আয়োজনে ‘প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ শীর্ষক সেমিনারে পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মান্নান এক প্রতিবেদনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার একটি চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পানির স্তর নিম্নগামী হতে হতে ২০০৫ সালে চার মিটারেরও বেশি নিচে নেমে এসেছে। তবে এর মধ্যে ২০০০ সালে পানির স্তর একটু উপরে উঠেছিল। তাও ১৯৯৬ সালের উচ্চতার নিচেই ছিল।
রাজশাহী পাউবোর পানিবিজ্ঞান বিভাগের গোদাগাড়ীতে বসানো ৮০-রাজকূপের পরিমাপ অনুযায়ী গত ২০০৮ সালের মে মাসের চেয়ে এ বছরের মে মাসে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৪০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেছে।
বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, বিএমডিএ’র প্রকল্প এলাকায় এবার বোরো মৌসুমে অনেক গভীর নলকূপে পানি না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তানোরের মুণ্ডুমালা এলাকার একটি কূপে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের সন্ধান মেলে ১১ দশমিক ৯৫ মিটার নিচে। এ বছরের ১৯ অক্টোবর ওই কূপের পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার নেমে গেছে। ওইদিন ২১ দশমিক ৬০ মিটার নিচে পানি পাওয়া গেছে।
তানোর মুণ্ডুমালা এলাকার ফজর আলী মোল্লা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান কাউসার আলী ১৯৬৫ সাল থেকে নলকূপে পানির স্তর পরিমাপের কাজ করেন। তিনি বলেন, এ বছরের অক্টোবর মাসে ২১ দশমিক ৬০ মিটার নিচে গেছে পানির স্তর। এর প্রভাব পড়বে চাষাবাদে। তার কথায়, এবার বোরো মৌসুমে ওই এলাকার সব জমিতে ধানের আবাদ করা সম্ভব হবে না। এমনভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ঘটনা তার নজরে এর আগে কখনও পড়েনি। এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বরেন্দ্র এলাকায় কৃষি বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিবছরের মতো রবি মৌসুমে রবিশস্য যেমন গম, তেলবীজ, সরিষা ও মোটর ইত্যাদি চাষাবাদের দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়টি তার নজরে আনা হলে তিনি বলেন, এবার আমন মৌসুমে ব্যাপকহারে সেচের প্রয়োজন হয়েছে। যার কারণে এবার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ৪ থেকে ৫ ফুট নেমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে ১০ মিটার অর্থাত্ প্রায় ৩০ ফুট নেমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশে স্বাভাবিক বন্যা হয় এবার তা হয়নি। বন্যা হলে রিসার্চ হয়ে ভূগর্ভস্থ পানির আধার পূর্ণ হয়ে যায়। চাষাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর থেকে বরেন্দ্র এলাকায় শুধু ধান চাষের পরিবর্তে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টি জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য রবি মৌসুমে রবিশস্য যেমন সরিষা, গম ইত্যাদি চাষের বিষয়ে চাষীদের আগ্রহী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আগামী বোরো মৌসুমে ধান আবাদে সেচের জন্য কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া যাবে। তার ভাষায়, প্রতিটি গভীর নলকূপের আওতায় যদি ২০০-২৫০ বিঘা জমিতে সেচ কম লাগে তবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের বৃষ্টিপাত এ অঞ্চলের কৃষির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ বছরে অক্টোবরে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে আমন আবাদে ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে কৃষককে সেচ সহায়তা দিতে হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ফারাক্কার প্রভাবের কারণেও বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য যখন থেকে বেশি পরিমাণে পানি উত্তোলন করে চাষাবাদ শুরু করল তখন থেকেই পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। অন্যদিকে ফারাক্কার প্রভাবে পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়ে চর পড়ে পদ্মা নদী বিশাল মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের পরিবেশ, ফসল ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনে বরেন্দ্র অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি গঙ্গা ব্যারাজ ও উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানিবিজ্ঞান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কম হয়েছে। একদিকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। গত বছর ১৮ মে রাজশাহী পাউবোর আয়োজনে ‘প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প’ শীর্ষক সেমিনারে পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মান্নান এক প্রতিবেদনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার একটি চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে পানির স্তর নিম্নগামী হতে হতে ২০০৫ সালে চার মিটারেরও বেশি নিচে নেমে এসেছে। তবে এর মধ্যে ২০০০ সালে পানির স্তর একটু উপরে উঠেছিল। তাও ১৯৯৬ সালের উচ্চতার নিচেই ছিল।
রাজশাহী পাউবোর পানিবিজ্ঞান বিভাগের গোদাগাড়ীতে বসানো ৮০-রাজকূপের পরিমাপ অনুযায়ী গত ২০০৮ সালের মে মাসের চেয়ে এ বছরের মে মাসে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৪০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে গেছে।
বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানায়, বিএমডিএ’র প্রকল্প এলাকায় এবার বোরো মৌসুমে অনেক গভীর নলকূপে পানি না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তানোরের মুণ্ডুমালা এলাকার একটি কূপে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের সন্ধান মেলে ১১ দশমিক ৯৫ মিটার নিচে। এ বছরের ১৯ অক্টোবর ওই কূপের পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার নেমে গেছে। ওইদিন ২১ দশমিক ৬০ মিটার নিচে পানি পাওয়া গেছে।
তানোর মুণ্ডুমালা এলাকার ফজর আলী মোল্লা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান কাউসার আলী ১৯৬৫ সাল থেকে নলকূপে পানির স্তর পরিমাপের কাজ করেন। তিনি বলেন, এ বছরের অক্টোবর মাসে ২১ দশমিক ৬০ মিটার নিচে গেছে পানির স্তর। এর প্রভাব পড়বে চাষাবাদে। তার কথায়, এবার বোরো মৌসুমে ওই এলাকার সব জমিতে ধানের আবাদ করা সম্ভব হবে না। এমনভাবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার ঘটনা তার নজরে এর আগে কখনও পড়েনি। এ বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বরেন্দ্র এলাকায় কৃষি বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিবছরের মতো রবি মৌসুমে রবিশস্য যেমন গম, তেলবীজ, সরিষা ও মোটর ইত্যাদি চাষাবাদের দিকে মনোযোগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়টি তার নজরে আনা হলে তিনি বলেন, এবার আমন মৌসুমে ব্যাপকহারে সেচের প্রয়োজন হয়েছে। যার কারণে এবার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ৪ থেকে ৫ ফুট নেমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে ১০ মিটার অর্থাত্ প্রায় ৩০ ফুট নেমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশে স্বাভাবিক বন্যা হয় এবার তা হয়নি। বন্যা হলে রিসার্চ হয়ে ভূগর্ভস্থ পানির আধার পূর্ণ হয়ে যায়। চাষাবাদের বিষয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর থেকে বরেন্দ্র এলাকায় শুধু ধান চাষের পরিবর্তে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টি জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য রবি মৌসুমে রবিশস্য যেমন সরিষা, গম ইত্যাদি চাষের বিষয়ে চাষীদের আগ্রহী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে আগামী বোরো মৌসুমে ধান আবাদে সেচের জন্য কিছুটা হলেও উপকার পাওয়া যাবে। তার ভাষায়, প্রতিটি গভীর নলকূপের আওতায় যদি ২০০-২৫০ বিঘা জমিতে সেচ কম লাগে তবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অক্টোবর মাসের বৃষ্টিপাত এ অঞ্চলের কৃষির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ বছরে অক্টোবরে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে আমন আবাদে ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে কৃষককে সেচ সহায়তা দিতে হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ফারাক্কার প্রভাবের কারণেও বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য যখন থেকে বেশি পরিমাণে পানি উত্তোলন করে চাষাবাদ শুরু করল তখন থেকেই পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। অন্যদিকে ফারাক্কার প্রভাবে পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়ে চর পড়ে পদ্মা নদী বিশাল মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের পরিবেশ, ফসল ও মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনে বরেন্দ্র অঞ্চল ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি গঙ্গা ব্যারাজ ও উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


