ঢাকা মেডিকেলে জমে উঠেছে নিয়োগ-বাণিজ্য : সুইপার পদের দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা
নেসার উদ্দিন আহাম্মদ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে জমজমাট নিয়োগ-বাণিজ্য। আবেদনপত্র জমা দেয়ার তারিখ শেষ হতে না হতেই নিয়োগ-বাণিজ্য জমে উঠেছে। এরই মধ্যে সুইপারের একটি পদের জন্য দাম উঠেছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। যারা এ দামে অংশ নিয়ে কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের খুশি করতে পারবে না, তাদের চাকরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর এ টাকা বণ্টন হবে কর্মচারী নেতা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে। এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা মেডিকেলের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে। শুধু তাই নয়, কয়েকজন কর্মকর্তাও অভিযোগ করে বলেছেন, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক অবসরে যাওয়ার আগেই তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আর নিয়োগের বেলায় মন্ত্রী-এমপিদের তদবির তো আছেই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৭১টি পদে লোক নিয়োগ হচ্ছে। এ ব্যাপারে গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ১০ ডিসেম্বর। ফটোগ্রাফার, ড্রাইভার, টেলিফোন অপারেটর, এমএলএসএস সহ ৯টি পদে নিয়োগ দেয়া হবে ১৭১ জন। এর মধ্যে সর্বাধিক ৯৮ জন নেয়া হচ্ছে এমএলএসএস পদে। সুইপার পদে নিয়োগ হবে ৩২ জন। কুক/মশালচি পদে নেয়া হবে ১৭ জন। সিকিউরিটি গার্ড পদে ১৫ জন। ড্রাইভার পদে ৩ জন। লিলেন কিপার ও ইনস্ট্রুমেন্ট টেকনিশিয়ান পদে ২ জন করে এবং একজন করে নেয়া হবে ফটোগ্রাফার ও টেলিফোন অপারেটর পদে। আর এ পদগুলোর জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১১ হাজার। প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ১শ’ টাকার পোস্টাল অর্ডার বা পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফট (অফেরতযোগ্য) দিতে বলা হয়।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিয়োগ এলেই হাসপাতাল কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ বেড়ে যায়। নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নেতাদের ভিড় দেখা যায় হাসপাতাল অফিসে। হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতারা এর মধ্যে অনেকের কাছ থেকেই চাকরি দেয়ার নামে আবেদনপত্রের ফটোকপি নিয়ে রেখেছেন। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই হওয়ার আগেই প্রতিটি পদের জন্য দাম হাঁকা হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। এর মধ্যে একটি সুইপার পদের জন্য দাম উঠেছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সূত্র জানায়, যারা কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের ঘুষ দিতে পারবেন, কেবল তাদেরই নিয়োগ হবে। টাকা ছাড়া লোক নিয়োগ না হওয়ার বিষয়টি এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। শুধু কর্মচারী নেতারাই নয়, ডাক্তার এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠছে।
নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল হান্নান জানান, কর্মচারী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা রাখে নিয়োগ বোর্ড। ওই বোর্ডে কোনো কর্মচারী নেতা নেই। তাছাড়া নিয়োগের ব্যাপারে কর্মচারী নেতাদের কোনো হাত নেই। প্রতিটি পদের জন্য যে দাম হাঁকা হচ্ছে, এ খবরটি তিনি শুনেছেন। তবে তার কাছে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। নিয়োগের ক্ষেত্রে ওপর মহলের তদবিরের কথা তিনি স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কয়েকটি পদের জন্য ২৪৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর ৪ বছর ৭ মাস পর আবারও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৭১ জনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ২০০৫ সালে ঢাকা মেডিকেলে একটি সুইপার পদের জন্য ঘুষ দিতে হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। এবার ওই একই পদের জন্য দাম উঠেছে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে নিয়োগ-বাণিজ্যের বিষয়টি যাতে পত্রিকায় না আসে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতীয় দৈনিকের কয়েকজন সাংবাদিককেও আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাদেরও দু’একজন করে লোক নিয়োগ দেয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণীর সাবেক নেতা আবদুল খালেক জানান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর তাদের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন। আর এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়োগের জন্য তড়িঘড়ি করছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তিনি সন্দেহ করছেন। নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তবে কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো কোনো প্রার্থী লোক নিয়োগ দেয়ার কথা বলছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে জানা যায়, হাসপাতালে লোক নিয়োগের সুবাদে কিছু ডাক্তার ও কর্মচারী নেতা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ইন্টারভিউ কার্ড পাঠানোর আগেই অনেকে টাকা দিয়ে বায়না করে রাখছেন। ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ার পর অর্ধেক টাকা আর নিয়োগপত্র হাতে পেলে পুরো টাকা পরিশোধ করবেন। আবার অনেকে প্রতারণার শিকার হবেন বলেও সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ ফয়জুল্লাহ বলেন, তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে—এ কথাটি ঠিক নয়। ৬ মাস আগে থেকেই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আর এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সবেমাত্র যাচাই-বাছাই হচ্ছে। এরপর ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হবে। নিয়োগ বোর্ড তাদের ইন্টারভিউ নেবে। নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ডে থাকবেন মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের সদস্যরা। যদি কেউ চাকরির জন্য কোনো নেতাকে টাকা দিয়ে থাকেন, তবে তিনি ভুল করবেন। কারণ কোনো নেতা কাউকে চাকরি দিতে পারবেন না। নিয়োগ দেবে নিয়োগ বোর্ড।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৭১টি পদে লোক নিয়োগ হচ্ছে। এ ব্যাপারে গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ১০ ডিসেম্বর। ফটোগ্রাফার, ড্রাইভার, টেলিফোন অপারেটর, এমএলএসএস সহ ৯টি পদে নিয়োগ দেয়া হবে ১৭১ জন। এর মধ্যে সর্বাধিক ৯৮ জন নেয়া হচ্ছে এমএলএসএস পদে। সুইপার পদে নিয়োগ হবে ৩২ জন। কুক/মশালচি পদে নেয়া হবে ১৭ জন। সিকিউরিটি গার্ড পদে ১৫ জন। ড্রাইভার পদে ৩ জন। লিলেন কিপার ও ইনস্ট্রুমেন্ট টেকনিশিয়ান পদে ২ জন করে এবং একজন করে নেয়া হবে ফটোগ্রাফার ও টেলিফোন অপারেটর পদে। আর এ পদগুলোর জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ১১ হাজার। প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ১শ’ টাকার পোস্টাল অর্ডার বা পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফট (অফেরতযোগ্য) দিতে বলা হয়।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিয়োগ এলেই হাসপাতাল কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ বেড়ে যায়। নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নেতাদের ভিড় দেখা যায় হাসপাতাল অফিসে। হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নেতারা এর মধ্যে অনেকের কাছ থেকেই চাকরি দেয়ার নামে আবেদনপত্রের ফটোকপি নিয়ে রেখেছেন। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই হওয়ার আগেই প্রতিটি পদের জন্য দাম হাঁকা হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। এর মধ্যে একটি সুইপার পদের জন্য দাম উঠেছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত।
সূত্র জানায়, যারা কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের ঘুষ দিতে পারবেন, কেবল তাদেরই নিয়োগ হবে। টাকা ছাড়া লোক নিয়োগ না হওয়ার বিষয়টি এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। শুধু কর্মচারী নেতারাই নয়, ডাক্তার এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠছে।
নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল হান্নান জানান, কর্মচারী নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা রাখে নিয়োগ বোর্ড। ওই বোর্ডে কোনো কর্মচারী নেতা নেই। তাছাড়া নিয়োগের ব্যাপারে কর্মচারী নেতাদের কোনো হাত নেই। প্রতিটি পদের জন্য যে দাম হাঁকা হচ্ছে, এ খবরটি তিনি শুনেছেন। তবে তার কাছে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। নিয়োগের ক্ষেত্রে ওপর মহলের তদবিরের কথা তিনি স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০০৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কয়েকটি পদের জন্য ২৪৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর ৪ বছর ৭ মাস পর আবারও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ১৭১ জনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ২০০৫ সালে ঢাকা মেডিকেলে একটি সুইপার পদের জন্য ঘুষ দিতে হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। এবার ওই একই পদের জন্য দাম উঠেছে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে নিয়োগ-বাণিজ্যের বিষয়টি যাতে পত্রিকায় না আসে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জাতীয় দৈনিকের কয়েকজন সাংবাদিককেও আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাদেরও দু’একজন করে লোক নিয়োগ দেয়া হবে।
ঢাকা মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণীর সাবেক নেতা আবদুল খালেক জানান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর তাদের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন। আর এরই মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়োগের জন্য তড়িঘড়ি করছে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তিনি সন্দেহ করছেন। নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তবে কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো কোনো প্রার্থী লোক নিয়োগ দেয়ার কথা বলছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে জানা যায়, হাসপাতালে লোক নিয়োগের সুবাদে কিছু ডাক্তার ও কর্মচারী নেতা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ইন্টারভিউ কার্ড পাঠানোর আগেই অনেকে টাকা দিয়ে বায়না করে রাখছেন। ইন্টারভিউ কার্ড পাওয়ার পর অর্ধেক টাকা আর নিয়োগপত্র হাতে পেলে পুরো টাকা পরিশোধ করবেন। আবার অনেকে প্রতারণার শিকার হবেন বলেও সন্দেহ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ ফয়জুল্লাহ বলেন, তাড়াহুড়ো করে নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে—এ কথাটি ঠিক নয়। ৬ মাস আগে থেকেই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। আর এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। সবেমাত্র যাচাই-বাছাই হচ্ছে। এরপর ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হবে। নিয়োগ বোর্ড তাদের ইন্টারভিউ নেবে। নিয়োগ-বাণিজ্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়োগ বোর্ডে থাকবেন মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের সদস্যরা। যদি কেউ চাকরির জন্য কোনো নেতাকে টাকা দিয়ে থাকেন, তবে তিনি ভুল করবেন। কারণ কোনো নেতা কাউকে চাকরি দিতে পারবেন না। নিয়োগ দেবে নিয়োগ বোর্ড।
-
শেষের পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


