Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আমন উত্পাদনে ঘাটতি : বোরোতেও আশঙ্কা : ুলনায় চাল মজুত চক্র সক্রিয়

এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা
আমন মৌসুমের শুরুতেই এবার খুলনায় চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। পাইকারি বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম চলতি ডিসেম্বর মাসে তিন দফা বেড়েছে। বস্তায় বেড়েছে একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা বাজারে প্রতিদিন চালের দাম দু-এক টাকা বাড়ছে। অতীতে কখনও নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এভাবে দাম বাড়েনি। ঘাটতির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে খুলনার চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা ধান-চাল মজুত করা শুরু করেছেন। ফলে চাল সঙ্কট আরও তীব্র হতে পারে।
আইলা-উপদ্রুত উপকূলীয় জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর আমন উত্পাদন হয়নি। ফলে ধানের উত্পাদন ঘাটতি থাকছে প্রায় ৮১ হাজার মেট্রিক টন। আসন্ন বোরো মৌসুমে জেলায় চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৪৬১ হেক্টর। তবে এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় অনেক জমিতে বোরো চাষ হবে না। এতে উত্পাদন ঘাটতি আরও বাড়বে, যা ভরা মৌসুমেই চালের দাম বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আইলায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে খুলনার কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও ডুমুরিয়া উপজেলায় ২৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়নি। এবারের মৌসুমে খুলনায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ পাঁচশ’ হেক্টর। কিন্ু্ত এ বছর আমন আবাদ হয়েছে ৭৬ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে। জলাবদ্ধতায় কয়রা উপজেলায় ১১ হাজার ২৫৫ হেক্টর, পাইকগাছা উপজেলায় ৮ হাজার ১১৫ হেক্টর, দাকোপ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর এবং ডুমুরিয়া উপজেলায় এক হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উফশী ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ৫০০ হেক্টর থাকলেও আবাদ হয়েছে ৫০ হাজার ৪৫০ হেক্টর; স্থানীয় ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৩২ হাজার হেক্টর থাকলেও আবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দুই জাত মিলে ফলন ঘাটতি হচ্ছে প্রায় ৮১ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের শস্য উত্পাদন কর্মকর্তা এফ এম গোলাম মোস্তফা জানান, ২৬ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করতে না পারায় তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। আমন ফসলের চূড়ান্ত হিসাব জানতে এখনও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত হেক্টরপ্রতি যে পরিমাণ ধান পাওয়া যাচ্ছে তা আশানুরূপ নয়।
এদিকে খুলনার বাজারে প্রতিদিনই চালের দাম বাড়ার কারণে শিগগিরই তা লাগাম ছাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। এ অঞ্চলে ধানের উত্পাদন ঘাটতির বিষয়টি মাথায় রেখে বড়বাজারের অনেক ব্যবসায়ীসহ মিল মালিকরা ধান-চাল মজুত করছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। গতকাল খুলনার বাজারে ইরি আতপ ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ টাকায়, মোটা চাল ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৬ টাকায়, ইরি-২৮ ৩১ টাকায় এবং মিনিকেট ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে খুলনা ধান-চাল বণিক সমিতির সভাপতি মুনীর আহমেদ আমার দেশকে জানান, ব্যবসায়ীরা এর আগে ইরি ধানে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। এবার আমনে উত্পাদন ঘাটতি হয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী এ সুযোগে ২/১ দিন চাল মজুত রেখে অতিরিক্ত মুনাফা করতে চাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশ সব সময় এ সুযোগ নেন। তিনি বলেন, সরবরাহ ঠিক না থাকলে চালের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?