অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ : অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ
নাছির উদ্দিন শোয়েব
শৃঙ্খলা শাখার দুর্বলতার সুযোগে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার হার ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসত্ পুলিশ সদস্যরা এখন বেপরোয়া। শীর্ষ পর্যায় থেকে যথাযথ তদারকি না থাকায় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত পুলিশ অসত্ উপায়ে টাকা আদায়ের পথে নেমেছে। কিছু কিছু ঘটনা ফাঁস হলেও অনেক অপরাধের ঘটনা থাকছে অন্তরালে। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে, ডিবি ও র্যাবের পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। ভূমি দখল, চুরি, লুটপাট, ডাকাতি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রের মুখে জিম্মি, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রতিদিন গোপনে ও প্রকাশ্যে চলছে এদের অপতত্পরতা। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো জঘন্য অভিযোগও জমা পড়ছে সংশ্লিষ্ট দফতরে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব পুলিশ সদস্য অতিমাত্রায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক পুলিশ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেয়ায় মাঠ পর্যায়ে পুলিশের চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে যথাযথ জবাবদিহিতা না থাকায় অনেকেই নানা ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও রীতিমত বিব্রত। ডিএমপির কয়েকজন এসি, কয়েকটি থানার ওসি ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও কয়েকজন পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তাদের ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে আলোচনা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সদর দফতর থেকে জানা যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এরই মধ্যে কয়েকজন ওসিকে বদলি করা হয়েছে। পল্লবী থানার ওসি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও মামলার বাদী-বিবাদীর কাছ থেকে সুবিধা ভোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পুরনো ঢাকায় হিন্দুদের জমি দখল ও পূজামণ্ডপ দখলে সহায়তা করার অভিযোগে সূত্রাপুর থানার ওসি তোফাজ্জল হোসনকে বদলি করা হয়। গত ২ নভেম্বর কমলাপুর আইসিডি এলাকায় ছিনতাইকালে পুলিশের কনস্টেবল শাহিন মিয়াকে আটক করে জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, শাহিন আগে থেকেই নারী নির্যাতন মামলায় সাসপেন্ড ছিল। অভিযোগে জানা যায়, ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানকে কাপড় দেয়ার কথা বলে ১২ লাখ টাকা নিয়ে কনস্টেবল শাহিন কমলাপুর আইসিডি এলাকায় আসতে বলে। হাবিবুর রহমান সেখানে যাওয়ার পর কনস্টেবল শাহিন ও তার সহযোগীরা সন্ত্রাসী স্টাইলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাবিবকে গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করে। এসময় তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শাহিনকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের এডিসি হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ করেছেন পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ীরা। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেছিলেন, অভিযোগ গুরুতর। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মালিটোলা এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, তাকে বাসা থেকে গত ২৬ নভেম্বর আটক করেন লালবাগের এডিসি হারুন অর রশিদ। তিনি মোহাম্মদ আলীকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে ক্রসফায়ারে হত্যার তালিকায় নাম রয়েছে বলে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে ওইদিনের মতো ছেড়ে দেন। দাবিকৃত ঘুষের টাকা না দেয়ায় মোহাম্মদ আলীকে ২ ডিসেম্বর ধরে আনা হয়। তখন এডিসিকে ২০ হাজার টাকা দিলে তিনি ওই টাকা মোহাম্মদ আলীর মুখে ছুঁড়ে মারেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যবসায়ীকে মোটা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলেন। বাড্ডার বাসিন্দা গফুর হাওলাদারকে গত ১১ নভেম্বর রাতে ওই থানার দারোগা তানভীর আহম্মদ ও এএসআই মিজান বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখান। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা উেকাচ আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের সিকিউরিটি সেলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যরা ময়নারবাগের মুক্তিযোদ্ধা গফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেলকে ধরে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানকে ২৩ নভেম্বর ওই থানার দারোগা হেকমত আলী বাসা থেকে থানায় ধরে নিয়ে ২ লাখ টাকা উেকাচ দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তাকে একটি হত্যা মামলার আসামি করে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রিমান্ডে নিয়ে তাকে চরম নির্যাতন করা হয়। এ অবস্থায় স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী নার্গিস দারোগা হেকমত আলী ও ওসি মোস্তাক আহম্মেদকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা উেকাচ দিলে মেহেদি পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই পান। গত ১০ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আবদুল খালেককে খিলক্ষেত থানার এসআই মাহবুব থানায় ডেকে নিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় পুলিশ তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে নেন।
ঢাকার বাইরেও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আসছে সদর দফতরে। গত ২ সেপ্টেম্বর মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের পর সিলেটের গাড়ি ব্যবসায়ী আবুল বাশার তুহিনকে পুলিশ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। হাজতখানায় পুলিশের উপস্থিতিতে থানার দালাল ও মামলার বাদী বাবুল এবং সোর্স ইপক ছুরি দিয়ে তুহিনের পিঠে আঘাত করেছে। কালো কাপড় দিয়ে তুহিনের চোখ-মুখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ডান পায়ের হাঁটু গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি পুলিশ। প্লায়ার্স দিয়ে তার পায়ের নখ টেনে উঠিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। রাতভর তার ওপর চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনের কারণে চিকিত্সকরা তার ডান পা কেটে ফেলেছেন। পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে তাকে চিকিত্সা দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসত্ পুলিশ সদস্যরা এখন বেপরোয়া। থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করতে গেলেও এখন ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা নেয়া হয়। ঝালকাঠির রাজাপুর থানার এক গৃহবধূ জানান, গত ২৯ নভেম্বর ৩শ’ টাকা দিয়েও একটি সাধারণ ডাইরি করতে পারেননি।
এদিকে গত ৫ বছরে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটি সেলে ৮৪ হাজার ৭২৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাই ও ঘুষ গ্রহণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে ৩শ’র মতো পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ৮ জন পুলিশ সুপার, ৩ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ২২ জন সিনিয়র সহকারী সুপার, ৪৮৭ জন ইন্সপেক্টর, ৯ হাজার ৩৫ জন এসআই, ৬ হাজার ৭১৮ জন এএসআই, ২ হাজার ৪১৫ জন সার্জেন্ট ও টিএসআই, ২ হাজার ৯১২ জন হাবিলদার ও ৪ হাজার ১৩২ জন কনস্টেবল। সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অপরাধে পুলিশের ১১৯ সদস্য গ্রেফতারসহ চাকরিচ্যুত হয়েছেন ৮৮১ জন। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন একজন এসপি, ১৫ জন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, ১৭ জন ইন্সপেক্টর, ৫৯ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ২৮ জন সার্জেন্ট ও পিএসআই, ৩৪ জন হাবিলদার, ৫৪ জন নায়েক ও ১ হাজার ১১৩ জন কনস্টেবল। অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং অপরাধীদের সহায়তা করারও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিছু পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও রীতিমত বিব্রত। ডিএমপির কয়েকজন এসি, কয়েকটি থানার ওসি ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও কয়েকজন পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তাদের ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরে আলোচনা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সদর দফতর থেকে জানা যায়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এরই মধ্যে কয়েকজন ওসিকে বদলি করা হয়েছে। পল্লবী থানার ওসি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা ও মামলার বাদী-বিবাদীর কাছ থেকে সুবিধা ভোগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পুরনো ঢাকায় হিন্দুদের জমি দখল ও পূজামণ্ডপ দখলে সহায়তা করার অভিযোগে সূত্রাপুর থানার ওসি তোফাজ্জল হোসনকে বদলি করা হয়। গত ২ নভেম্বর কমলাপুর আইসিডি এলাকায় ছিনতাইকালে পুলিশের কনস্টেবল শাহিন মিয়াকে আটক করে জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, শাহিন আগে থেকেই নারী নির্যাতন মামলায় সাসপেন্ড ছিল। অভিযোগে জানা যায়, ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানকে কাপড় দেয়ার কথা বলে ১২ লাখ টাকা নিয়ে কনস্টেবল শাহিন কমলাপুর আইসিডি এলাকায় আসতে বলে। হাবিবুর রহমান সেখানে যাওয়ার পর কনস্টেবল শাহিন ও তার সহযোগীরা সন্ত্রাসী স্টাইলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাবিবকে গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করে। এসময় তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে শাহিনকে গ্রেফতার করে। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের এডিসি হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ করেছেন পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ীরা। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক বলেছিলেন, অভিযোগ গুরুতর। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মালিটোলা এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, তাকে বাসা থেকে গত ২৬ নভেম্বর আটক করেন লালবাগের এডিসি হারুন অর রশিদ। তিনি মোহাম্মদ আলীকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে ক্রসফায়ারে হত্যার তালিকায় নাম রয়েছে বলে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে ওইদিনের মতো ছেড়ে দেন। দাবিকৃত ঘুষের টাকা না দেয়ায় মোহাম্মদ আলীকে ২ ডিসেম্বর ধরে আনা হয়। তখন এডিসিকে ২০ হাজার টাকা দিলে তিনি ওই টাকা মোহাম্মদ আলীর মুখে ছুঁড়ে মারেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যবসায়ীকে মোটা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে এবং শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলেন। বাড্ডার বাসিন্দা গফুর হাওলাদারকে গত ১১ নভেম্বর রাতে ওই থানার দারোগা তানভীর আহম্মদ ও এএসআই মিজান বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখান। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা উেকাচ আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের সিকিউরিটি সেলে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যরা ময়নারবাগের মুক্তিযোদ্ধা গফুর হাওলাদারের ছেলে রাসেলকে ধরে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
রাজধানীর দারুস সালাম এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানকে ২৩ নভেম্বর ওই থানার দারোগা হেকমত আলী বাসা থেকে থানায় ধরে নিয়ে ২ লাখ টাকা উেকাচ দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় তাকে একটি হত্যা মামলার আসামি করে পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রিমান্ডে নিয়ে তাকে চরম নির্যাতন করা হয়। এ অবস্থায় স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী নার্গিস দারোগা হেকমত আলী ও ওসি মোস্তাক আহম্মেদকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা উেকাচ দিলে মেহেদি পুলিশের হয়রানি থেকে রেহাই পান। গত ১০ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আবদুল খালেককে খিলক্ষেত থানার এসআই মাহবুব থানায় ডেকে নিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় পুলিশ তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তার স্ত্রী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে নেন।
ঢাকার বাইরেও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আসছে সদর দফতরে। গত ২ সেপ্টেম্বর মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের পর সিলেটের গাড়ি ব্যবসায়ী আবুল বাশার তুহিনকে পুলিশ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। হাজতখানায় পুলিশের উপস্থিতিতে থানার দালাল ও মামলার বাদী বাবুল এবং সোর্স ইপক ছুরি দিয়ে তুহিনের পিঠে আঘাত করেছে। কালো কাপড় দিয়ে তুহিনের চোখ-মুখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ডান পায়ের হাঁটু গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখানেই ক্ষান্ত হয়নি পুলিশ। প্লায়ার্স দিয়ে তার পায়ের নখ টেনে উঠিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। রাতভর তার ওপর চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনের কারণে চিকিত্সকরা তার ডান পা কেটে ফেলেছেন। পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে তাকে চিকিত্সা দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসত্ পুলিশ সদস্যরা এখন বেপরোয়া। থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করতে গেলেও এখন ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা নেয়া হয়। ঝালকাঠির রাজাপুর থানার এক গৃহবধূ জানান, গত ২৯ নভেম্বর ৩শ’ টাকা দিয়েও একটি সাধারণ ডাইরি করতে পারেননি।
এদিকে গত ৫ বছরে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটি সেলে ৮৪ হাজার ৭২৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে চুরি, ডাকাতি, লুটপাট, ছিনতাই ও ঘুষ গ্রহণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে ৩শ’র মতো পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ৮ জন পুলিশ সুপার, ৩ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ২২ জন সিনিয়র সহকারী সুপার, ৪৮৭ জন ইন্সপেক্টর, ৯ হাজার ৩৫ জন এসআই, ৬ হাজার ৭১৮ জন এএসআই, ২ হাজার ৪১৫ জন সার্জেন্ট ও টিএসআই, ২ হাজার ৯১২ জন হাবিলদার ও ৪ হাজার ১৩২ জন কনস্টেবল। সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অপরাধে পুলিশের ১১৯ সদস্য গ্রেফতারসহ চাকরিচ্যুত হয়েছেন ৮৮১ জন। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন একজন এসপি, ১৫ জন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, ১৭ জন ইন্সপেক্টর, ৫৯ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ২৮ জন সার্জেন্ট ও পিএসআই, ৩৪ জন হাবিলদার, ৫৪ জন নায়েক ও ১ হাজার ১১৩ জন কনস্টেবল। অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং অপরাধীদের সহায়তা করারও অভিযোগ রয়েছে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


