Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না : ড. আবুল মোমেনকে নিয়ে বিপাকে সরকার

বশীর আহমেদ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবুল মোমেনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ পাওয়ার পরও ড. মোমেন তার মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। এর ফলে তিনি সেখানে কোনো কূটনৈতিক স্ট্যাটাস ও অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন না। একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তিনি জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন বলে খোদ সরকারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ড. মোমেনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা জানিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই ড. মোমেনকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা ড. মোমেনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে আমার দেশকে বলেন, তিনি আসলে জাতিসংঘে বসে কী করছেন তা আমরা বুঝতে পারছি না। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। মার্কিন নাগরিক হিসেবে তিনি মার্কিন আইনের অধীন। তিনি তার কর্মকাণ্ডের জন্য মার্কিন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। এমনই একজন লোকের পক্ষে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা কীভাবে সম্ভব, সে প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি একদিকে মার্কিন নাগরিক, অন্যদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি আসলে কার স্বার্থরক্ষা করছেন এটা সবার প্রশ্ন। একজন ব্যক্তির পক্ষে দুটি দেশের স্বার্থ একসঙ্গে রক্ষা করা সম্ভব নয়। ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, ড. মোমেন আসলেই একটি বড় সমস্যা। আমরা ঠিকমত কাজ করতে পারছি না।
ড. মোমেনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করে আসা একজন সাবেক কূটনীতিক আমার দেশকে বলেন, ড. মোমেন এমনই এক ব্যক্তি যিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি পদ ছেড়ে দিতে হয়তো রাজি হবেন তবু মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ করবেন না।
অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই ড. আবুল মোমেনকে নিয়ে এর আগেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকার। সৌদি সরকার ড. মোমেনকে সেদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। মার্কিন নাগরিক ড. মোমেন জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি নিযুক্ত হওয়ার আগে একটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তিনি সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েও কিছুদিন শিক্ষকতা করেছেন। সৌদি আরবে থাকার সময় তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, যা নিয়ে পারিবারিকভাবেও তিনি সমস্যায় পড়েছিলেন। ড. মোমেন লেখক হিসেবেও নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের আর্টিকেল লিখতেন। সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিট সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশকিছু প্রবন্ধ লেখেন তিনি। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ সমর্থিত জরুরি সরকারের সমর্থক ছিলেন ড. মোমেন। এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করে সৌদি আরব তখন ড. মোমেনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সৌদি আরব এর আগে কাউকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়নি। ড. মোমেনকে সৌদি আরবের প্রত্যাখ্যান এবং জাতিসংঘে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা রীতিমত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে সরকারকে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?