খুচরো
স্টেডিয়াম তৈরি
ঘোষণার সময় কেপটাউনের মেয়র ড্যান প্ল্যাটো গলার আবেগটা লুকাতে পারলেন না। বললেন—‘কেপটাউনের আমার প্রিয় বাসিন্দারা, এই স্টেডিয়াম এখন বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি তৈরি। এটা আমাদের ধৈর্য ধরার সাফল্য।’ কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়ামসহ ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ১০টি স্টেডিয়াম এখন পুরোপুরি তৈরি। অথচ নির্দিষ্ট সময়ে এই স্টেডিয়ামগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে ফিফা এক সময় চিন্তায় ছিল। তবে সব সমস্যা—সঙ্কট কাটিয়ে বিশ্বকাপের সব ভেন্যুর প্রস্তুতি সস্পন্ন করে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্ট শুরুর ছয় মাস আগেই।
কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই স্টেডিয়াম নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৩২ মাস। কেপটাউনের মেয়রকে এই সময়ের মধ্যে শ্রমিক ধর্মঘট থেকে শুরু করে পরিবেশবাদীদের হুমকি-ধমকি-প্রতিবাদ সবকিছুই সামাল দিতে হয়েছে। পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা জানিয়েছিল, এই স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়াম থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত টেবল মাউন্টেন এবং ঐতিহাসিক রবেন আইল্যান্ডের কিয়দংশ দেখা যায়। রবেন আইল্যান্ডে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাজীবন কাটিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৬০৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এই স্টেডিয়াম তৈরিতে। বিশ্বকাপের ১০টি ভেন্যুর মধ্যে সেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্টেডিয়ামের তালিকায় কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্টই পাবে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট।
হালাল হোটেল
বিশ্বকাপ চলাকালে কেপটাউনের হোটেলে হালাল খাবার খুঁজছেন? তাহলে কোরাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নামটা মুখস্ত করে রাখেন। দুবাইভিত্তিক এই হোটেল বিশ্বকাপ চলাকালে হালাল খাবারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেপটাউনের ঐতিহাসিক বো-কাপের পাদদেশেই এই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। হোটেলের আঙ্গিনা থেকে বিখ্যাত টেবল মাউন্টেনের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছটা দেখে যে কোনো পর্যটক বিস্মিত হয়ে বললেন—‘আহ্, এতো দেখি চোখ ঝলসানো সৌন্দর্য!’ ১৪০টি কক্ষ সম্বলিত এই হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ইন্টারনেট সুবিধা, প্লাজমা টিভি এবং আরবের ঐতিহ্যবাহী স্টাইলে সাজানো রয়েছে এর প্রতিটি কোণা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কেপটাউনে আগত মুসলমান ফুটবল সমর্থকদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই ২০০৭ সালের প্রথম ভাগে এই হোটেল নির্মাণ কাজে হাত দেয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বিলাসবহুল এই হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট নির্মাণে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৪ মিলিয়ন অধিবাসীর মধ্যে শতকরা ১.৫ ভাগ মুসলমান।
ছোট্ট আরেকটি তথ্য—এই হালাল হোটেলের প্রাঙ্গণে সব ধরনের মদ নিষিদ্ধ।
সমালোচনা
বিপুল অর্থ খরচ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সমপ্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার এক ডকুমেন্টারিতে এই সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়েছে—বিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্বকাপের পর এগুলো স্রেফ শ্বেতহস্তীতে পরিণত হবে। কোনো কাজে লাগবে না। স্টেডিয়াম নির্মাণের পেছনে এই অর্থ ব্যয় না করে যদি সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষাব্যবস্থা সমপ্রসারণ বা মরণঘাতী এইডস রোগ প্রতিরোধের জন্য খরচ করা হতো, তবে সেটাই দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য হতো সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। কিন্তু হাসপাতাল বা বিদ্যালয় নির্মাণকে অগ্রাধিকার না দিয়ে স্টেডিয়াম তৈরিতেই সরকার বেশি ব্যস্ততা দেখিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পেছনে এই বিপুল অর্থ খরচ করার সমালোচনা যারা করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডেনিস ব্রুটাস। ষাট দশকে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে জেল খেটেছিলেন বর্ণবাদবিরোধী ডেনিস ব্রুটাস।
ঘোষণার সময় কেপটাউনের মেয়র ড্যান প্ল্যাটো গলার আবেগটা লুকাতে পারলেন না। বললেন—‘কেপটাউনের আমার প্রিয় বাসিন্দারা, এই স্টেডিয়াম এখন বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি তৈরি। এটা আমাদের ধৈর্য ধরার সাফল্য।’ কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়ামসহ ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার ১০টি স্টেডিয়াম এখন পুরোপুরি তৈরি। অথচ নির্দিষ্ট সময়ে এই স্টেডিয়ামগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে ফিফা এক সময় চিন্তায় ছিল। তবে সব সমস্যা—সঙ্কট কাটিয়ে বিশ্বকাপের সব ভেন্যুর প্রস্তুতি সস্পন্ন করে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্ট শুরুর ছয় মাস আগেই।
কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই স্টেডিয়াম নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় ৩২ মাস। কেপটাউনের মেয়রকে এই সময়ের মধ্যে শ্রমিক ধর্মঘট থেকে শুরু করে পরিবেশবাদীদের হুমকি-ধমকি-প্রতিবাদ সবকিছুই সামাল দিতে হয়েছে। পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা জানিয়েছিল, এই স্টেডিয়াম নির্মাণ হলে শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়াম থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত টেবল মাউন্টেন এবং ঐতিহাসিক রবেন আইল্যান্ডের কিয়দংশ দেখা যায়। রবেন আইল্যান্ডে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাজীবন কাটিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্ট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের একটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৬০৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এই স্টেডিয়াম তৈরিতে। বিশ্বকাপের ১০টি ভেন্যুর মধ্যে সেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্টেডিয়ামের তালিকায় কেপটাউনের গ্রিনপয়েন্টই পাবে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট।
হালাল হোটেল
বিশ্বকাপ চলাকালে কেপটাউনের হোটেলে হালাল খাবার খুঁজছেন? তাহলে কোরাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নামটা মুখস্ত করে রাখেন। দুবাইভিত্তিক এই হোটেল বিশ্বকাপ চলাকালে হালাল খাবারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেপটাউনের ঐতিহাসিক বো-কাপের পাদদেশেই এই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। হোটেলের আঙ্গিনা থেকে বিখ্যাত টেবল মাউন্টেনের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছটা দেখে যে কোনো পর্যটক বিস্মিত হয়ে বললেন—‘আহ্, এতো দেখি চোখ ঝলসানো সৌন্দর্য!’ ১৪০টি কক্ষ সম্বলিত এই হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ইন্টারনেট সুবিধা, প্লাজমা টিভি এবং আরবের ঐতিহ্যবাহী স্টাইলে সাজানো রয়েছে এর প্রতিটি কোণা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কেপটাউনে আগত মুসলমান ফুটবল সমর্থকদের সুবিধার কথা চিন্তা করেই ২০০৭ সালের প্রথম ভাগে এই হোটেল নির্মাণ কাজে হাত দেয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বিলাসবহুল এই হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট নির্মাণে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৪ মিলিয়ন অধিবাসীর মধ্যে শতকরা ১.৫ ভাগ মুসলমান।
ছোট্ট আরেকটি তথ্য—এই হালাল হোটেলের প্রাঙ্গণে সব ধরনের মদ নিষিদ্ধ।
সমালোচনা
বিপুল অর্থ খরচ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সমপ্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার এক ডকুমেন্টারিতে এই সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়েছে—বিলিয়ন, বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ বিশ্বকাপের পর এগুলো স্রেফ শ্বেতহস্তীতে পরিণত হবে। কোনো কাজে লাগবে না। স্টেডিয়াম নির্মাণের পেছনে এই অর্থ ব্যয় না করে যদি সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার দারিদ্র্য দূরীকরণ, শিক্ষাব্যবস্থা সমপ্রসারণ বা মরণঘাতী এইডস রোগ প্রতিরোধের জন্য খরচ করা হতো, তবে সেটাই দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য হতো সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। কিন্তু হাসপাতাল বা বিদ্যালয় নির্মাণকে অগ্রাধিকার না দিয়ে স্টেডিয়াম তৈরিতেই সরকার বেশি ব্যস্ততা দেখিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পেছনে এই বিপুল অর্থ খরচ করার সমালোচনা যারা করছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ডেনিস ব্রুটাস। ষাট দশকে নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে জেল খেটেছিলেন বর্ণবাদবিরোধী ডেনিস ব্রুটাস।
-
খেলাধুলা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


