Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হকি খেলোয়াড়দের গণপদত্যাগের চিঠি!

স্পোর্টস রিপোর্টার
সকাল থেকেই জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সিদ্ধান্তটা আসলে নেয়া হয়েছিল তখনই। বিকেলে বিজয় দিবস হকি ম্যাচের পরপরই খেলোয়াড়রা বলেই ফেললেন, ‘জার্মানির কোচের অধীনে আর অনুশীলন নয়। তার কারণে আমরা সবাই জাতীয় দল থেকে পদত্যাগ করছি।’ সন্ধ্যার পর ১৯ জন খেলোয়াড় একযোগে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে ফেডারেশনে জমাও দিয়ে দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে সংক্ষিপ্তভাবে লেখা হয়েছে, জার্মানির কোচের বৈষম্যমূলক আচরণসহ অন্যান্য কারণে আমরা সবাই তার অধীনে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং জাতীয় দলে আমরা আর নেই। জার্মানির কোচ গেরহার্ড পিটার রাখের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে জাতীয় দলের ইউরোপ সফরের সময় পিটারের অনেক কর্মকাণ্ডই খেলোয়াড়দের মনঃপূত হয়নি। জার্মানি, ইতালি, হল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্রে কোচ পিটারকে ছাড়াই খেলোয়াড়রা খেলেছে। নানারকম অসহযোগিতা পাওয়া গেছে তার কাছ থেকে। তার ওপর সিনিয়র হটাও অভিযোগ তো রয়েছেই। দলের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে কাল দিনভর আলোচনায় ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের স্ট্রাইকার রাসেল মাহমুদ জিমি বলেছেন, ‘নানা কারণে জার্মান কোচের অধীনে আমরা না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এভাবে একটি দল চলতে দেয়া যায় না। তিনি স্বেচ্ছাচারের মতো দল চালাচ্ছেন। খেলোয়াড়দের কথার কোনো মূল্যই নেই তার কাছে।’ দিনের শুরুতে পিটার সাময়িকভাবে চার খেলোয়াড়কে জাতীয় দল থেকে বাদ দেন। চন্দন, শুভ, কুটি ও রিমন ছিলেন বাদ পড়াদের তালিকায়। নতুন করে সাব্বির, রিয়াজ ও ইরফানকে দলভুক্ত করা হয়। পারফরমেন্সের কারণে চার খেলোয়াড়কে বাদ দেয়া হয়েছে কোচ পিটার বললেও খেলোয়াড়রা তা মানতে পারেননি। আসাদুজ্জামান চন্দন বলেছেন, ‘জার্মানিতে আমার পারফরমেন্স ভাল ছিল। সেখানে সবাই তা দেখেছেন। শুরুতে কোচ আমাকে পছন্দ করতেন। যখন থেকে খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম তখন থেকে আমিসহ অন্যরা খারাপ হয়ে গেলাম।’ জাতীয় দলের সেরা কর্নার বিশেষজ্ঞ মামুনুর রহমান চয়নের কথা, ‘চন্দন ভাইসহ অন্যদের পারফরমেন্সে খারাপ ছিল না। বরং জার্মান কোচ ইউরোপ সফরের সময় আমাদের অসহযোগিতা করেছেন।’ জাহিদ বিন তালিব শুভ বলেছেন, ‘কোচের কথা শুনতেই হবে। না শুনলেই যত আপত্তি। আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধাই তিনি দেখতে চাইতেন না। এটা তো কোনো কথাই হতে পারে না।’ আরেক খেলোয়াড় শেখ মোঃ নান্নু জানালেন, ‘পিটারের অধীনে কোনো কোচিং নয়। এরকম স্বেচ্ছাচার কোচের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।’ খেলোয়াড়রা যখন একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছিলেন সেসময় একটু দূরেই ছিলেন জার্মান কোচ। তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে পিটার রাখ বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই সত্যি নয়। ২/৩ জন খেলোয়াড় কলকাঠি নাড়ছে। সবাই নয়। রাতেই হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমার অধীনে কেউ খেলতে না চাইলে সমস্যা নেই। দেশে ফিরে যাবো।’ ফেডারেশন সদস্য আনভীর আদেল বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি। যদি জাতীয় দলে কেউ খেলতেই না চায় তাহলে কিছু করার নেই। যতটুকু জানি, পিটার ব্যক্তি হিসেবে খারাপ নয়। তবে কেন যে সব খেলোয়াড় অভিযোগ দিল বুঝতে পারছি না। যদি কেউ খেলতেই না চায় তাহলে কিছু করার নেই। প্রয়োজনে অন্যরা খেলবে।’
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?