Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

জী ব ন যে ম ন : সৌন্দর্য খুঁজুন নিজের মধ্যে

রেহানা পারভীন রুমা
বয়স হয়ে যাচ্ছে, কী করি বল তো? বান্ধবীর এমন প্রশ্নে অনেক সময় একটু আশ্চর্য হই। বয়স তো হবেই। সেটাই প্রকৃতির নিয়ম। চুল পড়ে যাচ্ছে, চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, স্কিনে যেমন ছোপ ছোপ দাগ, চোখের নিচে কালি, মুটিয়ে যাচ্ছি, প্রেসার ওঠানামা করে, ডায়াবেটিসের ভয়ে চিনি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি—চল্লিশ পেরুনো বান্ধবীর মুখে এমন নানা অনুযোগ। প্রথম প্রথম বেচারার টেনশন বইতে বইতে আমার মনের ঘাটে এসে নাও ভেড়াতো। তবে এখন আর ভাবনার নাওটাকে সহজে কাছে ভিড়তে দেই না। কী হবে ভেবে? বয়সের নিয়ম কে কবে কতদিন ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছে? ক্লিওপেট্রা নাকি পানির বদলে দুধ দিয়ে গোসল করত, তাতে কি বয়স বা মরণ ঠেকানো গেছে? সুচিত্রা সেনের মিষ্টি হাসি, চোখের বাঁকা চাহনি দেখে এক সময় শুধু পুরুষ কেন, মেয়েরাও দেখে গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেলত। অথচ এখন সুচিত্রা সেন নিজেকে নানা কারণে অবরুদ্ধ করে ফেলেছেন চার দেয়ালের মধ্যে। কে জানে, মানুষের মনে গেঁথে থাকা তার যৌবনের সেই চেহারাটা এখন কেমন হয়েছে তিনি তা হয়তো দেখাতেই চান না।
বয়স বাড়বেই। বয়স না বাড়লে পৃথিবীর সব শিশু হামাগুঁড়িই দিত, মেয়েরা কন্যা থেকে কিশোরী, তরুণী, মা হয়ে উঠতে পারত না। তাহলে বয়স নিয়ে ভাবনা কেন? আসলে ভাবনাটা অন্য কারণে। মানুষ তা নারীই হোক কিংবা পুরুষ, অন্যের চোখে নিজেকে সুন্দর দেখতে ভালোবাসে। এটা স্বাভাবিক চাওয়া। কিন্তু আমাদের দেশে মেয়েদের অনেকটা পুরুষের কারণেই ধারণা জন্মেছে সুন্দর মানেই ফর্সা রং, ঢলঢলে পানপাতার মতো মুখ, পটল চেরাচোখ, মরাল গ্রিবা ইত্যাদি থাকা প্রয়োজন। বিজ্ঞাপনগুলো অহরহ মেয়েদের রূপরহস্যের কারণ হিসেবে স্নো, পাউডার, ক্রিম, সাবান, তেল, কাজল দেখাচ্ছে। ইদানীং আবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে এজ ডিফাইং অর্থাত্ বয়স কমানোর উপাদানসমৃদ্ধ ক্রিম। বলিরেখা দূর করার জাদু। ব্যস, আর যায় কোথায়। ছোট্ট কৌটা তার যেমন মস্ত প্যাকেট, তেমন মস্ত দাম। তবু কেনা চাই। এই ক্রিম মাখলে আমার বয়সও কেউ ধরতে পারবে না। অথচ এ কথাটা কারও মাথায় কাজ করে না, বিজ্ঞাপনে যে মেয়েটিকে দেখানো হয় তার মুখে শুধু নয়, সারা শরীরে কয় ইঞ্চি মেকআপ দেয়া হয়, কতগুলো আলোর ব্যবস্থা করে জাঁকজমক করে তোলা হয়?
এক সময় আমাদের দেশে রূপচর্চা বলতে কাঁচা হলুদ বাটা, কাঁচা দুধ, চন্দন বাটা খুব ব্যবহার করা হতো। মেথি ভেজানো অথবা জবা ফুল দিয়ে ফুটিয়ে নেয়া নারকেল তেল ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করা হতো। সেই তেল মেখে সন্ধেবেলায় বিনুনী না গাঁথলে খেতে হতো মা অথবা দাদির বকা। আজকাল পারলারগুলোতে গেলে দেখা যায়, মা দাঁড়িয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে স্কুলপড়ুয়া মেয়ের চুলে কোথায় কালার করালে ভালো লাগবে। যেখানে বিউটি এক্সপার্টরা বলছেন, ত্রিশ-পঁয়ত্রিশের আগে ফেসিয়ালের প্রয়োজন নেই—সেখানে মায়েদের মনে এ ধারণা কোত্থেকে এলো যে, তার মেয়ে পারলারে-টারলারে না গেলে পিছিয়ে পড়বে? আজকাল এইট-নাইনে ওঠা মেয়েরা দিব্যি ভ্রূ তোলে। একসময় এটা ভাবাই যেত না। তা এই বয়স থেকে রূপের চর্চা করতে আরম্ভ করলে চল্লিশে গিয়ে রূপ বেঁকে বসবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?
আজকাল গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশনের কল্যাণে রূপের বন্দনাজাতীয় অনুষ্ঠানের শেষ নেই। সেসব অনুষ্ঠানেও কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেকের বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। সেটাকে চর্চা করলেই সুন্দর থাকা যায়। পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে সৌন্দর্যের প্রধান শর্ত। আপনার রং ফর্সা হোক বা কালো, আপনার পোশাক, চুল, নখ পরিষ্কার না হলে সব মাটি। বাহ্যিক এ পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মনের পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি তো আছেই। আপনি হাসতে জানেন না, ফান বোঝেন না তাহলে কীভাবে চলবে?
আপনার চাহিদার শেষ নেই, আপনি অন্যের দাঁড়িপাল্লায় নিজেকে মাপেন তাহলে আপনার চুল কেন পড়বে না? কেন মিছেমিছি আয়নাকে প্রশ্ন করেন নিজের সম্পর্কে। মনের আয়নায় নিজেকে দেখুন। আপনি সুন্দর—এ বিশ্বাস তৈরি করুন। আপনার চেয়ে সুন্দরী আর আছে কিনা সে চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। বয়স বাড়ছে বাড়ুক না। যে বয়সের যেমন সাজ সেটা শিখে নিন। যে বয়সে যেমন চাল সেটা রপ্ত করুন। খাওয়া কমান। সবজির দিকে ঝুঁকে পড়ুন। ফল খান, ছেলেমেয়ে কী ভাববে তা না ভেবে হালকা ব্যায়াম করুন। গান শুনুন, বই পড়ুন, নিজের জন্য সময় বের করে নিন। সংসার, সন্তান নিয়ে নানা অজুহাত তুলে নিজেকে অবহেলা ও বঞ্চিত করবেন না। একই সঙ্গে বয়স ঢাকার কৃত্রিম উপায় খুঁজবেন না। মানুষের বয়স বাড়ে ভেতর থেকে। প্রকৃতির নিয়ম যত সহজে মেনে নিতে পারবেন ততই স্বস্তি। সামর্থ্যবান নারীরা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট করেন, বড় বড় ডাক্তারের কাছে গিয়ে থেরাপি, পরামর্শ নেন। সবার কি আর সে সামর্থ্য আছে? কাজেই কে কী করল তা না দেখে নিজের সৌন্দর্য উপলব্ধি করুন। আপনার কাজ, গোছানো জীবন, ডিসিপ্লিন আপনাকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলবে। সকলের সুপ্রংশস দৃষ্টি সেটাই কি সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নয়?
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?