Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যাশা

আবুল কাসেম হায়দার
এবারের বিজয় দিবস আমাদের কাছে বহুমাত্রিক বিষয় নিয়ে উপস্থিত। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বরকে আমরা বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হয়। তাই ওই দিনটিকে বিজয় দিবস হিসেবে আমরা পালন করে আসছি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে আমরা দেশটি স্বাধীন করেছি। একটি রক্তাক্ত সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা লাভ। আমাদের স্বাধীনতা শুধু নয় মাসের ইতিহাস নয়। ১৯৪৭ সালে এই ভূখণ্ড নিয়ে ১৪ আগস্ট ভারত বিভক্ত হয়ে দুটি দেশের জন্ম হয়। একটি ভারত অন্যটি পাকিস্তান। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান দুটি বিভক্ত খণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের সৃষ্টি। অন্যদিকে ভুটান, নেপাল, নামে আরও দুটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়।
১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার সর্বশেষ নবাবের তথা স্বাধীন রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটে। পলাশীর পরাজয়ের পেছনে অনেক কারণ নিহিত রয়েছে। অনেক ইতিহাসবিদ নানাভাবে পলাশীর পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করেছেন। ২৩ জুন ১৭৫৭ সাল তাই আমাদের কাছে অতি স্মরণীয় ও শিক্ষণীয়।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর আজ আমাদের জাতীয় জীবনে ৩৮ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে আমাদের বিজয় আমাদের কি দিয়েছে অথবা বিজয়ের পর দেশকে আমরা কি দিয়েছি। এই স্বাধীনতা আমাদের জাতীয় জীবনে অনেক অনেক অর্জন রয়েছে। অন্যদিকে যে প্রত্যাশা, আশা ও পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের স্বাধীনতা, তার অনেক কিছু আমরা অর্জন করতে পারিনি। তাই বিজয় দিবসের এই দিনে ভাবতে হবে আমাদের প্রত্যাশা কী, কীভাবে এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি।
দীর্ঘ দুই বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকার পর বিগত জানুয়ারি ২০০৮ বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এ সরকারের কাছে আসন্ন বিজয় দিবস প্রথম বিজয় দিবস হিসেবে আসছে। নতুন এই সরকারের কাছে বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যাশা অনেক অনেক বেশি। আমাদের প্রত্যাশা কী, এই প্রত্যাশা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে আলোচনা করি।
এক. আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি : বিগত জোট সরকারের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু উন্নতি ঘটে তাতে জাতি স্বস্তি বোধ করেনি। বিরোধী দল সব সময় আইন-শৃঙ্খলা উন্নতির জন্য সরকারের কাছে দাবি করে আসছে। আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির জন্য জোট সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। র্যাব গঠন জোট সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আজও দেশে র্যাব আইন-শৃঙ্খলা উন্নতির ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু নির্বাচনের পরপর দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে থাকে। সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে বিডিআর হত্যাকাণ্ড। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বড় হত্যাকাণ্ড বিডিআর ও সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা। আজ এর বিচার প্রক্রিয়া চলছে, তবে ধীরগতিতে। বিডিআর বাহিনী বলতে গেলে আজ একেবারে বিশৃঙ্খল অবস্থায়। দেশের বহু মেধাবী সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আর এখন বিচারে আরও জীবন হারাবেন বহু মেধাবী বিডিআর কর্মকর্তা ও জওয়ান। ঘটনাটি তাই অত্যন্ত দুঃখজনক। আজকের বিজয় দিবসে জাতি সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলার চরম উন্নতি কামনা করে। বিজয় দিবসে এই প্রত্যাশা আমাদের সবার।
দুই. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি নির্ভর করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর। বিগত ২ বছর যৌথবাহিনী দেশ শাসন করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বিগত ৩ বছর ধরে হয়নি বললেই চলে। এ সরকার মাত্র ১ বছর পার করছে। বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য, বিশেষ করে বিদ্যুত্ খাতে বিনিয়োগের জন্য ১৫ ডিসেম্বর ’০৯ থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরে পাঁচ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য রোড শোর আয়োজন করা হয়। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। তাই সরকারকে বিরোধী দলের সঙ্গে অত্যন্ত গঠনমূলক সহঅবস্থানে থাকতে হবে। সংসদকে কার্যকর করতে হবে। বিরোধীদলকে যে কোনো উপায়ে সংসদে অংশগ্রহণে উত্সাহিত করতে হবে। সরকারকে সব ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উদারতা মহত্ত্বের লক্ষণ। ক্ষমা মানুষকে বড় করে। সরকারকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে দেশ পরিচালনা করতে হবে। সবার শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। বিজয় দিবসে মানুষের মনে এই কামনা এই প্রত্যাশা।
তিন. দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ : আজকে সমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি। দুর্নীতি আমাদের সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। সমাজের নিচের স্তর থেকে শুরু করে উচ্চমহল পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এই ভয়াল অবস্থা থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সরকারের ভাবমূর্তিকে একেবারে ধূলিসাত্ করে দিচ্ছে, এই বিষয়টি সরকারকে বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে হবে। সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ সবার কাম্য। নির্বাচনের আগে মহাজোট সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, টেন্ডারবাজিমুক্ত সমাজ উপহার দেয়ার অঙ্গীকার করেছে, তা এখন বাস্তবায়ন বিজয় দিবসের দাবি।
চার. কর্মসংস্থান সৃষ্টি : যখনই বিজয় দিবস আসে, স্বাধীনতা দিবস আসে, তখনই আমাদের হৃদয় আনন্দে নেচে ওঠে। এসব দিবসে তখন আমরা প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসাব-নিকাশ করে থাকি। দেশে এখন প্রায় দুই কোটি কর্মক্ষম যুবক-যুবতী বেকার রয়েছে। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেকার যুবক-যুবতীর সংখ্যা প্রায় আরও ২ কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মের প্রয়োজন। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য আজ আমাদের সমাজের বড় ক্ষত। এই ক্ষত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হবে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ঘোষণা ছিল প্রতিটি পরিবারে একটি করে চাকরির ব্যবস্থা করা। সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যম থেকে উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে শুধু দলীয় কর্মহীন লোকের বায়োডাটা সংগ্রহ করার খবর প্রকাশের পর মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকার শুধু আওয়ামী লীগের না এ দেশের সব জনগণের তাই সরকারকে দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণীর বেকার যুবকের বায়োডাটা সংগ্রহ করে মেধার ভিত্তিতে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে হবে। আজকের বিজয় দিবসে বেকার যুবক-যুবতীদের দাবি কর্মসংস্থানের সুযোগ।
পাঁচ : গ্যাস-বিদ্যুত সমস্যার সমাধান : দেশের বড় সমস্যা গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ হ্রাস পাওয়া। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি রয়েছে গ্যাসের। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুত্ উপাদান বৃদ্ধির জন্য ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকার পরমাণু ভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষর করছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের কাজও সরকার হাতে নিয়েছে। পানিভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সরকার শুরু করেছে সরকার। মোট বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকার নানা ব্যবস্থা নিচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুত্ চাহিদা মোতাবেক উত্পাদনের ব্যবস্থা হবে। অন্যদিকে গ্রামের চাহিদা পূরণের জন্য সরকার গ্যাস উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। সাগরে ২টি ব্লক ইতোমধ্যে উত্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার চুক্তি করেছে। আমরা আশা করব রফতানি ক্লজ বাদ দিয়ে সরকার গ্যাস উত্তোলনের চুক্তি করবে। গ্যাসের অভাবে দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় দিনের মধ্যম সময় উত্পাদন বন্ধ থাকে। গ্যাসের অভাবে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন এখন একেবারে বন্ধ। তাই গ্যাস রফতানির প্রশ্ন আসতে পারে না। অবিলম্বে সরকারকে আরও গ্যাস কূপ খননের ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমান গ্যাস মজুত শেষ হয়ে গেলে, নতুন করে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা না হলে দেশে শিল্পখাতে বিরাট ধস নামবে। নতুন শিল্প তো করাই সম্ভব না পুরাতন শিল্প- প্রতিষ্ঠান রক্ষা করাই কঠিন হবে।
ছয়. ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষাখাত : বর্তমান মহাজোট সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য হচ্ছে জাতিকে শিক্ষিত ও কর্মক্ষম জাতি হিসেবে গড়ে তোলা। বর্তমানে দেশে অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের হার ৪৩ শতাংশ। বিরাট জনগোষ্ঠী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। গ্রাম-গঞ্জে, বিল, চরাঞ্চলে, হাওড় এলাকা ও পাহাড়ি অঞ্চলে অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা-ব্যবস্থা এখনও নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষা কমিশন গঠন করেছে। প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির উপর বর্তমানে বিতর্ক চলছে। আশা করা যায় সরকার সব জনমতের ভিত্তিতে শিক্ষানীতি প্রণয়ন চূড়ান্ত করবে। সরকার ইতোমধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য ১৯৯২ ও সংশোধিত ১৯৯৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিবর্তন করে নতুন শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়ন করে, যা মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাগণ এই আইন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান। এই আইন পাস হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকার পরিচালিত এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার সমমর্যাদায় পৌঁছে যাবে। প্রয়োজনে ১৯৯৮ আইনের সংশোধনের কথা তারা বলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। আমলাদের খুশি করা অথবা বিদেশি কোনো দেশের স্বার্থ রক্ষার্থে এই আইন প্রণীত হলে দেশের জন্য তা হবে খুবই ক্ষতিকর।
বিগত জোট সরকারের সময় বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ছাত্রছাত্রীদের টিউশন ফির উপর ৪.৫% হারে ভ্যাট আরোপ করা হয় এবং ভ্যাট আদায়ও করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারি স্কুলগুলোতে এই ভ্যাট আদায়ের কোনো নির্দেশনা নেই। টিউশন ফি কোনো পণ্য নয়। কাজেই অবিলম্বে বিজয় দিবসের এই প্রাক্কালে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর টিউশন ফিয়ের উপর ভ্যাট প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
দীর্ঘদিন সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে এমপিওভুক্ত করা বন্ধ রয়েছে। লাখ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমপিওভুিক্তর অপেক্ষায় আছে। সরকার মাত্র ১১২ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে। তাই যা দিয়ে এত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা কঠিন। এই বাজেট বাড়িয়ে অবিলম্বে সব স্কুল-কলেজ মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা প্রয়োজন।
সাত. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের স্বাধীনতা লাভের পর একে একে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশ স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু মুসলিম দেশগুলোসহ বিশ্বের অনেক দেশ ১৯৭৫-এর আগ পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর একে একে মুসলিম দেশসমূহসহ সব দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে আমাদের বিরাট একটি বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে জনশক্তি রফতানি খাত। এই রফতানির বড় অংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক।
অন্যদিকে ভারত, চীন ও মিয়ানমার আমাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সব সময় অটুট রয়েছে। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতের সাহায্য সমর্থনের কথা জাতি স্মরণ করে। অন্যদিকে চীন আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু ও উন্নয়নের সহযাত্রী। চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় ও কার্যকরী করা প্রয়োজন। একমাত্র চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে পারি। কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চীনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অংশগ্রহণ করেন। এটি একটি শুভ উদ্যোগ। কারণ, চীনই যথেষ্ট আমাদের উন্নয়নের জন্য, অন্য কোনো দেশ বা বৃহত্ শক্তির গলগ্রহ হওয়ার প্রয়োজন আমাদের নেই। কারণ, চীনই আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু, চীন কর্তৃক বহু শিল্প-কারখানা ও স্থাপনা ইতোমধ্যে আমাদের দেশে স্থাপিত হয়েছে। অন্য কোনো বৃহত্শক্তি কর্তৃক এত স্থাপনা স্থাপনের কোনো প্রমাণ নেই। তাই চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত উদার ও আন্তরিক এবং সহনশীল হতে হবে। যেনতেনভাবে বিষয়টি দেখা উচিত হবে না। তাই অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ব্যবস্থা করা উচিত।
মিয়ানমার একটি বৃহত্ ও সম্পদশালী প্রতিবেশী দেশ, দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত শীতল সম্পর্ক রয়েছে। একটি সম্পদশালী প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের সঙ্গে থাকার কথা উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি স্থল, নৌ ও বিমান বাণিজ্য আরও উন্নত ও সহজতর হওয়া প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ ও আন্তরিকতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। তাই আমাদের বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে চীন, বার্মা ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর প্রতি সম্পর্ক বৃদ্ধির অগ্রাধিকার দিয়ে বৈদেশিক নীতিমালা ও কৌশল গ্রহণ করতে হবে।
আট. জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ উন্নয়ন : বিশ্বজুড়ে আজকে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ উন্নয়নের আন্দোলন চলছে। প্রতিনিয়ত উন্নত দেশগুলোর দূষিত গ্যাস নির্গমনের ফলে বিশ্বের পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন তথ্য এবং গবেষণায় দেখা যায় আগামী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ পানিতে তলিয়ে যাবে, প্রায় ২ কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। বিগত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে তার কুপ্রভাব সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নানাবিধ সংগঠন তাদের সভা-সেমিনার ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি শুধু আন্তর্জাতিক না ভেবে সরকারেরও একটি জাতীয় তহবিল গঠন করা উচিত। এজন্য একটি জাতীয় তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে একটি তহবিল কমিটি গঠন করে অর্থ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এজন্য বিশেষ পরিকল্পনা সরকারকে নিতে হবে।
আজকের এই বিজয় দিবসে জাতির প্রত্যাশা অনেক। এই প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি সরকারের। এছাড়া এই দায়িত্ব এই দেশের শিক্ষিত জনগণের। শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বিজয় দিবস পালন না করে প্রত্যেককে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা করতে হবে। দেশকে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্য সবাইকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আত্মসংশোধনপ্রবণ হতে হবে। নিজকে নিজে সংশোধন ছাড়া আইন প্রণয়ন করে চাবুক মেরে কাউকে সংশোধন করা যায় না। নিজের উন্নতি ও সমগ্র জাতির উন্নতির স্বার্থে বিজয় দিবস হোক আমাদের সব ধরনের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি মুক্তির শপথের দিন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?