তারকা হুল : তারকা হাসির গপ্প
হাসান শান্তনু
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রথম ফুলদৈর্ঘ্য (প্রস্থ নেই কেন?) সিনেমা ‘ওরা এগারো জন’। উদ্দিন মার্কা বীরেরা (ড. ফখরুদ্দীন, মইনউদ্দিন, ইয়াজউদ্দিন) ক্ষমতা দখলের পর ‘ওরা এগারো জন’ বাক্যাটি ফের দারুণ হিট হয়। এ সিনেমা বানিয়ে পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হয়ে গেলেন অনেকের মধ্যে একজন। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক বছর দেড়েক আগে গেলেন তার বাসায়। উদ্দেশ্য, পত্রিকার জন্য সাক্ষাত্কার নেয়া। দেশের আলো সাংবাদিকতার (হলুদ, যোগ হতে পারে কালো, লাল, সবুজ ও অন্য আলোর নাম) দাপট সম্পর্কে পরিচালক সাহেবের ভালোই জানা আছে। সাংবাদিকের হাতে থাকা টেপ রেকর্ডারটি তিনি প্রথমেই হাতে নিলেন। তা নিয়ে ঠোঁটে যা আসছে, তাই বলে নিজের কথা রেকর্ড করতে লাগলেন। রেকর্ড শেষে বাটন চেপে ফিতা পেছনে ঘুরিয়ে আবার শুনছেনও। সাংবাদিক বেচারা তো অবাক। জিজ্ঞেস করে, জানতে পারি, আপনি নিজের কথা এভাবে রেকর্ড করছেন কেন? চাষী নজরুল এবার রস-রহস্যের হাঁড়ি ভেঙে দিয়ে জানালেন, যাচাই করে দেখলাম, আপনার রেকর্ডারের কাছে মুখ এনে কথা এক রকম বললে আরেক রকম হয়ে যায় কি-না। সাংবাদিকদের কাছে অনেক সময় কথাবার্তা এক রকম বললে পত্রিকায় ছাপা হয় উল্টো রকম। সেজন্যই রেকর্ডারটি যাচাই করে নিলাম।
শিল্পী মান্না দে আমাদের কনফার্ম করেছেন—‘হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে।’ নানা লোকের হাসির খবর জানিয়ে এক কবি বলে গেছেন, হাসি মন থেকেই আসে। মন আর হাসির মধ্যে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খুবই কঠিন, মিল আছে দারুণ। যেমন মিল পাবলিক দেখছে হাসিনার ‘গণতন্ত্র’ আর কবি এরশাদের ‘স্বৈরতন্ত্র’-এর মধ্যে। হাসি, ভালোবাসা, মনের মধ্যে যোগসূত্রের তথ্য জানালেও কে কখন হাসবেন, কী হাসবেন না—এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমাদের কেউ কনফার্ম করতে পারেননি। তবে ছায়াছবির নায়ক আলমগীরের মুখে প্রায় সব সময় ক্যামেরা সচেতন হাসি আঠার মতো লেগে থাকে। তার জন্ম জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন। অনুষ্ঠানের দর্শক-শ্রোতারা তার কাছে অভিনয়, ব্যক্তিগত জীবনসহ মেলা বিষয়ে জানতে চান। মানে খ্যাতিমান হিরোর কাছ থেকে যেসব বিষয়ে জানার আগ্রহ আম জনতার থাকে। একজন নারী দর্শক তার কাছে জানতে চাইলেন, এমন একটা ঘটনার কথা বলুন, যার মুখোমুখি জীবনে শুধু একবারই হয়েছেন। ঘটনার কথা আলমগীর বলতে শুরু করবেন, ঠিক এ সময়েই বিদ্যুত্ ‘অভ্যাসবশত’ চলে গেল। শুধু মানুষ নয়, বিদ্যুত্ও অভ্যাসের দাস। বিদ্যুতের এ ডিজিটাল অভ্যাস পাকাপোক্ত করে গড়ে দিয়ে ‘ভাই-বোনের সরকার’ (স্মর্তব্য—নির্বাচনের সময় এরশাদের সেই উক্তি—বোনের জন্য ভোট চাইতে এসেছি)। বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় মাইক্রোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জেনারেটরের সংযোগ দেয়া হয়। আলমগীর মুখের কাছে মাইক্রোফোনটি নিয়ে বললেন, ‘বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় কথা বলতে পারিনি। এটাই আমার জীবনের একমাত্র ঘটনা, যা শুধু একবার ঘটেছে।’
নায়ক ফেরদৌসের নাকি সকাল কাটে ঢাকায়, দুপুর বিমানে, বিকাল কাটে কলকাতায়। দাদাদের বস্তা পচা বাংলা সিনেমায় হিরো সঙ্কট। হঠাত্ বৃষ্টির পর অনেকটা হঠাত্ করেই বাংলাদেশী হিরো ফেরদৌসের কলকাতায় ডিমান্ড বেড়ে যায়। সেখানে এক দর্শকের সঙ্গে তার গালগল্প, আলাপ-সালাপ হয় ঢাকাই সিনেমা নিয়ে। দর্শকের বক্তব্য—ফেরদৌস দা, আগে ঢাকার সিনেমায় একটা রোমান্টিক দৃশ্য দেখা যেত। নায়িকার চারপাশে গুণ্ডা, মানে নায়িকা গুণ্ডাক্রান্ত। এমন সময় নায়ক হাওয়া থেকে উড়ে এসে মারপিট করে সব গুণ্ডাকে খতম করে দেয়। এরই ফাঁকে বীর নায়কের কপালের এক পাশ কেটে-ফেটে গেছে, তা দিয়ে রক্ত ঝরছে। নায়িকার কি তা সয়? একটু পরেই যার সঙ্গে প্রেম পিরিতি হবে, লাফালাফি করে গান গাইবে, তার কপালে কি রক্ত মানায়? ব্যস্, পরনের নতুন শাড়ির পাড় ফড়াত্ করে ছিঁড়ে হবু প্রেমিকের রক্তওয়ালা (আসলে লাল রং) কপালে বেঁধে দিতেই হয়। বড় প্রেম কেবল ফাস্টফুডের দোকানেই টেনে নেয় না, বাবার টাকায় কেনা নতুন শাড়ি ছিঁড়তেও মহতী প্রেরণা দেয়। ওই দর্শকের প্রশ্ন—ঢাকার সিনেমায় আজকাল কাপড় ছিঁড়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেয়ার দৃশ্যটা তেমন দেখা যায় না কেন? ফেরদৌস তাকে জানালেন, ঢাকায় এখন শাড়ির যা দাম, ছিঁড়ার সাহস নায়িকাদের হয় না। তাই দৃশ্যটাও খুব দেখা যাচ্ছে না।’
হুমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় লেখক। তার জনপ্রিয়তা পনেরো বছরের একটি মেয়েকেও ভীষণ নাড়া দিয়েছে। মেয়েটি একদিন হুমায়ূন আহমেদকে টেলিফোনে জানায়—স্যার, আপনি আমার প্রিয় লেখক। আপনার লেখা কমপক্ষে পঞ্চাশটি বই আমি পড়ে ফেলেছি।’
হুমায়ূন আহমেদ কমবয়সী পাঠিকাকে সেজন্য ধন্যবাদ, আরও বই পড়ার উত্সাহ দিয়ে জানতে চান, তোমার নাম কী?
মেয়েটি জানায়—কচি।
নাম শুনে লেখক ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে মজা করে বললেন, এ বয়সে তুমি আমার লেখা এত বই পড়ে ফেলেছ। তোমার নাম তো ‘কচি’ না হয়ে বুড়ি হওয়া উচিত।
বসুন্ধরা মার্কেটে স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘রূপান্তর’ সিনেমার প্রিমিয়ার শো হচ্ছিল। সিনেমাটির পরিচালক আবু সাইয়ীদ। দর্শকরা ভালোই উপভোগ করছিলেন। সিনেমার মাঝামাঝি সময়ে দেয়া হলো ‘বিরতি’। তাতে মজাভোগে ছন্দপতন যেন ঘটে গেল এক দর্শকের। তিনি অনেকটা বিরক্তির সঙ্গেই পাশের জনের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন—সিনেমার মাঝে বিরতি দেয়া হয় কেন? প্রশ্নটা শুনে সামনের সারিতে বসে থাকা নির্মাতা আবু সাইয়ীদ বললেন, বাংলা সিনেমার যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে! ভুল করে কেউ সিনেমা হলে ঢুকে সময় নষ্ট করলে বাকি সময়টুকুও নষ্ট করবেন কিনা, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যই মাঝামাঝি সময়ে বিরতি দেয়া হয়।
শিল্পী মান্না দে আমাদের কনফার্ম করেছেন—‘হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে।’ নানা লোকের হাসির খবর জানিয়ে এক কবি বলে গেছেন, হাসি মন থেকেই আসে। মন আর হাসির মধ্যে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খুবই কঠিন, মিল আছে দারুণ। যেমন মিল পাবলিক দেখছে হাসিনার ‘গণতন্ত্র’ আর কবি এরশাদের ‘স্বৈরতন্ত্র’-এর মধ্যে। হাসি, ভালোবাসা, মনের মধ্যে যোগসূত্রের তথ্য জানালেও কে কখন হাসবেন, কী হাসবেন না—এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমাদের কেউ কনফার্ম করতে পারেননি। তবে ছায়াছবির নায়ক আলমগীরের মুখে প্রায় সব সময় ক্যামেরা সচেতন হাসি আঠার মতো লেগে থাকে। তার জন্ম জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন। অনুষ্ঠানের দর্শক-শ্রোতারা তার কাছে অভিনয়, ব্যক্তিগত জীবনসহ মেলা বিষয়ে জানতে চান। মানে খ্যাতিমান হিরোর কাছ থেকে যেসব বিষয়ে জানার আগ্রহ আম জনতার থাকে। একজন নারী দর্শক তার কাছে জানতে চাইলেন, এমন একটা ঘটনার কথা বলুন, যার মুখোমুখি জীবনে শুধু একবারই হয়েছেন। ঘটনার কথা আলমগীর বলতে শুরু করবেন, ঠিক এ সময়েই বিদ্যুত্ ‘অভ্যাসবশত’ চলে গেল। শুধু মানুষ নয়, বিদ্যুত্ও অভ্যাসের দাস। বিদ্যুতের এ ডিজিটাল অভ্যাস পাকাপোক্ত করে গড়ে দিয়ে ‘ভাই-বোনের সরকার’ (স্মর্তব্য—নির্বাচনের সময় এরশাদের সেই উক্তি—বোনের জন্য ভোট চাইতে এসেছি)। বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় মাইক্রোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জেনারেটরের সংযোগ দেয়া হয়। আলমগীর মুখের কাছে মাইক্রোফোনটি নিয়ে বললেন, ‘বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় কথা বলতে পারিনি। এটাই আমার জীবনের একমাত্র ঘটনা, যা শুধু একবার ঘটেছে।’
নায়ক ফেরদৌসের নাকি সকাল কাটে ঢাকায়, দুপুর বিমানে, বিকাল কাটে কলকাতায়। দাদাদের বস্তা পচা বাংলা সিনেমায় হিরো সঙ্কট। হঠাত্ বৃষ্টির পর অনেকটা হঠাত্ করেই বাংলাদেশী হিরো ফেরদৌসের কলকাতায় ডিমান্ড বেড়ে যায়। সেখানে এক দর্শকের সঙ্গে তার গালগল্প, আলাপ-সালাপ হয় ঢাকাই সিনেমা নিয়ে। দর্শকের বক্তব্য—ফেরদৌস দা, আগে ঢাকার সিনেমায় একটা রোমান্টিক দৃশ্য দেখা যেত। নায়িকার চারপাশে গুণ্ডা, মানে নায়িকা গুণ্ডাক্রান্ত। এমন সময় নায়ক হাওয়া থেকে উড়ে এসে মারপিট করে সব গুণ্ডাকে খতম করে দেয়। এরই ফাঁকে বীর নায়কের কপালের এক পাশ কেটে-ফেটে গেছে, তা দিয়ে রক্ত ঝরছে। নায়িকার কি তা সয়? একটু পরেই যার সঙ্গে প্রেম পিরিতি হবে, লাফালাফি করে গান গাইবে, তার কপালে কি রক্ত মানায়? ব্যস্, পরনের নতুন শাড়ির পাড় ফড়াত্ করে ছিঁড়ে হবু প্রেমিকের রক্তওয়ালা (আসলে লাল রং) কপালে বেঁধে দিতেই হয়। বড় প্রেম কেবল ফাস্টফুডের দোকানেই টেনে নেয় না, বাবার টাকায় কেনা নতুন শাড়ি ছিঁড়তেও মহতী প্রেরণা দেয়। ওই দর্শকের প্রশ্ন—ঢাকার সিনেমায় আজকাল কাপড় ছিঁড়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেয়ার দৃশ্যটা তেমন দেখা যায় না কেন? ফেরদৌস তাকে জানালেন, ঢাকায় এখন শাড়ির যা দাম, ছিঁড়ার সাহস নায়িকাদের হয় না। তাই দৃশ্যটাও খুব দেখা যাচ্ছে না।’
হুমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় লেখক। তার জনপ্রিয়তা পনেরো বছরের একটি মেয়েকেও ভীষণ নাড়া দিয়েছে। মেয়েটি একদিন হুমায়ূন আহমেদকে টেলিফোনে জানায়—স্যার, আপনি আমার প্রিয় লেখক। আপনার লেখা কমপক্ষে পঞ্চাশটি বই আমি পড়ে ফেলেছি।’
হুমায়ূন আহমেদ কমবয়সী পাঠিকাকে সেজন্য ধন্যবাদ, আরও বই পড়ার উত্সাহ দিয়ে জানতে চান, তোমার নাম কী?
মেয়েটি জানায়—কচি।
নাম শুনে লেখক ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে মজা করে বললেন, এ বয়সে তুমি আমার লেখা এত বই পড়ে ফেলেছ। তোমার নাম তো ‘কচি’ না হয়ে বুড়ি হওয়া উচিত।
বসুন্ধরা মার্কেটে স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘রূপান্তর’ সিনেমার প্রিমিয়ার শো হচ্ছিল। সিনেমাটির পরিচালক আবু সাইয়ীদ। দর্শকরা ভালোই উপভোগ করছিলেন। সিনেমার মাঝামাঝি সময়ে দেয়া হলো ‘বিরতি’। তাতে মজাভোগে ছন্দপতন যেন ঘটে গেল এক দর্শকের। তিনি অনেকটা বিরক্তির সঙ্গেই পাশের জনের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন—সিনেমার মাঝে বিরতি দেয়া হয় কেন? প্রশ্নটা শুনে সামনের সারিতে বসে থাকা নির্মাতা আবু সাইয়ীদ বললেন, বাংলা সিনেমার যা অবস্থা দাঁড়িয়েছে! ভুল করে কেউ সিনেমা হলে ঢুকে সময় নষ্ট করলে বাকি সময়টুকুও নষ্ট করবেন কিনা, এ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যই মাঝামাঝি সময়ে বিরতি দেয়া হয়।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


