Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রম্য হুল : বইলা দিমু মনের কথা

আমজাদ হোসেন
সচিবালয়ে প্রতিদিনই মন্ত্রী সাহেব দেরিতে আসেন। দর্শনার্থীরা অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত-বিষণ্ন হয়ে যায়। মনে মনে কেউ মন্ত্রী সাহেবের গোষ্ঠী উদ্ধার করে। কিন্তু মন্ত্রী সাহেবের একটু সাক্ষাত্ পেলেই এমন একটা চামচামি হাসি দেয়, রজনীগন্ধা ফুলের মতো হাসি।
আজও মন্ত্রী সাহেব দেরিতে এসেছেন। এসেই চোখে চশমা দিয়ে বুদ্ধিজীবীদের মতো ফাইল দেখছেন। বাংলা এবং ইংরেজিতে খুব দুর্বল মন্ত্রী সাহেব। না পারেন ইংরেজিতে লিখতে, না পারেন শুদ্ধ বাংলায়। (কথাটা গোপনে বললাম, জানাজানি হয়ে গেলে উনার ইমেজ পাংচার হতে পারে)।
একটা ফাইলের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে টেলিফোনে সচিবকে ডাকলেন। ব্যস্ত হয়ে সচিব ঢুকলেন (্এই সচিবের একটা সুখ্যাতি আছে, আড়ালে-আবডালে অনেকেই তাকে মিস্টার টেন পারসেন্ট বলে ডাকেন)। সচিব খুব বিনয়ের সঙ্গে বললেন—
— স্যার আমাকে ডেকেছেন?
মন্ত্রী সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
— হ্যাঁ, এটা কি লিখেছেন?
— স্যার, লিখেছি দেয়া যেতে পারে।
— স্বামী-স্ত্রীর মান-অভিমানের মতো বাঁকাভাবে লিখেছেন কেন?
— স্যার, আমি তো সচিব, আমি তো বাঁকাভাবেই লিখব, আপনি মন্ত্রী সাহেব, সোজা করে লিখবেন আপনি। লিখবেন— দেয়া হোক ২৫ কোটি টাকার কাজ, টেন পারসেন্ট আপনার। সই করে দেন।
টেন পারসেন্টে কত টাকা আসে, মনে মনে তার একটা হিসেব করে খচ্ খচ্ করে সই করলেন ফাইলে। সঙ্গে সঙ্গেই কোনো এক রাজার গল্প মনে পড়ে গেল আমার। হাজার বছর আগেকার এক রাজা। প্রজাদের অভাব-অনটন দেখার জন্য ভ্রমণে বেরিয়েছেন। উজির-নাজিরের সঙ্গে একজন কবিয়ালও আছেন। ফাল্গুন মাস। বিকালের ফুরফুরে হাওয়া। হঠাত্ এক বরই গাছের নিচে দাঁড়ালেন রাজা। উজির-নাজিররা একটা গ্রামে ঢুকেছেন। কবিয়াল কিন্তু দূর থেকে রাজাকেই লক্ষ্য করছেন। শুকনো মলের ওপর লাল টুকটুকে একটা পাকা বরই পড়ে আছে। রাজার খুব ইচ্ছে হয়েছে বরইটা খেতে। এদিক-ওদিক তাকিয়ে রাজা চট্ করে বরইটা তুলে নিয়ে পাছার কাপড়ে ঘষে মহানন্দে সেটা খাচ্ছেন। কবিয়াল দৌড়ে এসে বললেন—
— মহারাজ কী খাচ্ছেন?
রাজা চমকে ওঠে। মনে মনে ভাবে, কবিয়াল দেখে ফেললো নাকি? গম্ভীরভাবে রাজা বললেন—
— বরই খাচ্ছি।
দিন যায়। রাত আসে। রাজা প্রজাদের জন্য চিন্তিত থাকে। রাজবাড়ি-রাজদরবারে বার্ষিক উত্সব হচ্ছে। গানের আসর বসেছে রাজার সিংহাসনের সামনে। কবিয়াল নেচে নেচে রাজার সামনে এসেই বলতে থাকে—
— বইলা দিমু মনের কথা, বইলা দিমু মনের কথা।
রাজা বুঝতে পারছে কবিয়াল কী বলতে চায়।
তার মুখ বন্ধ রাখার জন্য রাজা তার গলা থেকে মণিমুক্তার হার খুলে দেয়। এমন দামি হার পেয়ে কবিয়ালের নাচন বেড়ে যায়। সে ঘন ঘন রাজার কাছে এসে সেই একই কথা বলতে থাকে।
— বইলা দিমু মনের কথা, বইলা দিমু মনের কথা।
কবিয়ালকে উপহার দিতে দিতে রাজার গলা শূন্য হয়ে যায়। তারপরও লোভী কবিয়াল নাচতে নাচতে সেই একই কথা বলে—
— বইলা দিমু মনের কথা, বইলা দিমু মনের কথা।
এবার রেগে যায় রাজা। গর্জে ওঠে এবং দরবারের সবার সামনেই রাজা চিত্কার করে বলে—
—কী বইলা দিতে চাও? শুকনা মলের ওপর থাইকা একটা বরই তুইলা আইনা খাইছি, এই তো কইতে চাও?
দরবার স্তব্ধ। উজির-নাজির ছিঃ ছিঃ বলতে চেয়েছিল, রাজার ভয়ে তা বলতে পারল না। উজির শুধু মনে মনে বললেন,
— সত্যি কথা কখনও গোপন থাকে না।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?