প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর প্রসঙ্গে সেমিনারে বক্তারা : ভারতের সঙ্গে চুক্তির আগে জনগণকে জানাতে হবে
কূটনৈতিক রিপোর্টার
‘প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর : প্রত্যাশা ও উদ্বেগ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারতের সঙ্গে যে সব বিষয়ে চুক্তি হবে, তা দেশের জনগণকে জানাতে হবে। চুক্তির আগে বিষয়গুলো নিয়ে অবশ্যই সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। সংসদে আলোচনা না করে এবং জনগণকে অন্ধকারে রেখে ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি করা উচিত হবে না। বক্তারা আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা আত্মঘাতী হবে।
গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে দি সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মোজাফফর আহমদ, ড. আকবর আলি খান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মঈনুল হোসেন চৌধুরী, সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, বিডিআরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর, দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এমআর ওসমানী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তারেক শামসুর রেহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর আসিফ নজরুল, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আনাম খান প্রমুখ।
প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ বলেন, ভারতের মনে ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগ, ১৯৭১, ১৯৭৫ ছাড়া আর কিছু নেই। এই যাদের মাইন্ড সেট তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া কঠিন।
ড. আকবর আলি খান বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি কোথায় যাচ্ছে, তা কেউ বলতে পারে না। হঠাত্ করে কোনো কিছু করে ফেলা উচিত নয়। জনবিভক্তি আনা ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতির সবেচেয় বড় দুর্বলতা হলো সাংবিধানিকভাবে আমরা বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তির বিষয় সম্পূর্ণরূপে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত করে ফেলেছি। সংসদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।
আকবর আলি খান বলেন, ভারত তাদের স্বার্থে কাজ করবে, এটিই স্বাভাবিক। আমাদেরও আমাদের স্বার্থ ষোল আনা দেখতে হবে। ১৯৭২ সালে মিসেস গান্ধী আমাকে বলেছিলেন, আমরা তোমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছি আমাদের স্বার্থে।
মেজর জেনারেল (অব.) মাঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের জাতীয় চরিত্র বদলানো দরকার। আত্মসমালোচনা দরকার। ভারত এমন এক প্রতিবেশী যাদের প্রতিরোধ করা কঠিন; আবার বন্ধুত্বও বিপজ্জনক।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন হলো না আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তারা বলেছিল এটা হবে একতরফা নির্বাচন। কিন্তু হামিদ কারজাইয়ের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এই হলো বর্তমান আন্তর্জাতিক মহল।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য কমানো, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, ছিটমহল এবং সীমান্ত সমস্যা যদি আলোচনায় স্থান না পায় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আবশ্যকতা কোথায়।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেযে বড় দুর্বলতা হলো অভ্যন্তরীণ অনৈক্য। বৈদেশিক বিষয়ে আমাদের বড় দলগুলো এক ভাষায় কথা বলে না।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এ সরকার। অথচ জনগণকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। ভারতের সঙ্গে কি কি বিষয়ে চুক্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে দেশের জনগণ অন্ধকারে। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যে সব বিষয়ের কথা জানতে পারছি, তার সবই ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। বাংলাদেশের স্বার্থ কোথায়, তা সবাইকে জানাতে হবে।
মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ভারতকে করিডোর দিলে ৩০টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের হামলার মুখে পড়বে বাংলাদেশ এবং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে ভারতে যাচ্ছেন ভারতের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য, বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে নয়। ট্রানজিট, এশিয়ান হাইওয়ে, পানি এসব কিছু আলোচনার বিষয়ের মধ্যে নেই। তাই এটি একটি শুভেচ্ছা সফর হওয়া উচিত। চারদিকে আরববেষ্টিত হওয়ার কারণে ইসরাইল কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। ভারতবেষ্টিত হওয়ায় আমাদেরও এ দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।
আমানুল্লাহ কবীর বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশেরই যে শুধু আস্থার সঙ্কট রয়েছে তা নয়, বরং সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এ সমস্যা রয়েছে ভারতের। বর্তমানে বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ভারতের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর পেছনে তাদের বিশেষ স্বার্থ রয়েছে।
আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে সরকারিভাবে জাতিকে কিছু জানানো হয়নি। সুতরাং অনুমান করে বলা ছাড়া উপায় নেই। ভারতকে সবাই সমীহ করে; কিন্তু আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো নেই। তারা আমাদের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছে, তা রক্ষা করেনি।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, আয়তনে দক্ষিণ তালপট্টি একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ হলেও ভৌগোলিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আমাদের হাতছাড়া হলে বিশাল সমুদ্রসীমাও আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। বিশাল সমুদ্রসীমা এবং অর্থনৈতিক জোন চলে যাবে ভারতের কাছে।
এমআর ওসমানী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে করা চুক্তিও ভারত রক্ষা করেনি। ইতিহাস বলে, এ পর্যন্ত ভারত আমাদের সঙ্গে করা কোনো চুক্তিই মানেনি। এ হলো বন্ধুত্বের নমুনা! তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় ভারত আমাদের ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু তা নষ্ট হয়েছে। কারণ আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাইনি এবং আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল আমাদের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি দিয়ে।
শাহ আবদুল হান্নান বলেন, ভারতের হাতে কিছু বন্দি তুলে দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল আমরা করে ফেলেছি। এর পরিণাম আমাদের ভোগ করতে হবে।
আসিফ নজরুল বলেন, ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সাহায্য দিয়েছে, সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ; কিন্তু ভারতেরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে এ অঞ্চলে আজ পাকিস্তানের পারমাণবিক ঘাঁটি থাকত।
শহিদুল আনাম খান বলেন, আমরা যা দিচ্ছি, সে তুলনায় পাচ্ছি কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটবল মাঠের সমপরিমাণ একটি জায়গা বেরুবাড়ী তারা আমাদের দিচ্ছে না। তাহলে আমাদের দেশের মধ্য দিয়ে এত বড় রাস্তা আমরা কেন তাদের দেব?
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা ভারতকে বন্ধু হিসেবে চাই। মুরব্বি সুলভ আচরণ চাই না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের সময় ১৫ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে দর কষাকষি করতে হবে। ভারতকে ট্রানজিট একেবারেই দেব না, এমন বদ্ধমূল ধারণা ঠিক নয়। আমাদের সব সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে হবে। আমরাও আবদ্ধ অবস্থায় থাকতে চাই না। তবে দেখতে হবে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে কিনা। আমরাও বিনিময়ে যাতে এ পথ দিয়ে সহজে অন্য দেশে যেতে পারি, তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে যে রুটে এ প্রস্তাব করা হচ্ছে, তা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এশিয়ান হাইওয়ে চট্টগ্রামের টেকনাফ-মিয়ানমার দিয়েই হওয়া উচিত।
গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে দি সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এ গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মোজাফফর আহমদ, ড. আকবর আলি খান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মঈনুল হোসেন চৌধুরী, সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, বিডিআরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর, দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এমআর ওসমানী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তারেক শামসুর রেহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর আসিফ নজরুল, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আনাম খান প্রমুখ।
প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ বলেন, ভারতের মনে ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগ, ১৯৭১, ১৯৭৫ ছাড়া আর কিছু নেই। এই যাদের মাইন্ড সেট তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া কঠিন।
ড. আকবর আলি খান বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি কোথায় যাচ্ছে, তা কেউ বলতে পারে না। হঠাত্ করে কোনো কিছু করে ফেলা উচিত নয়। জনবিভক্তি আনা ঠিক নয়। তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতির সবেচেয় বড় দুর্বলতা হলো সাংবিধানিকভাবে আমরা বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তির বিষয় সম্পূর্ণরূপে নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত করে ফেলেছি। সংসদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।
আকবর আলি খান বলেন, ভারত তাদের স্বার্থে কাজ করবে, এটিই স্বাভাবিক। আমাদেরও আমাদের স্বার্থ ষোল আনা দেখতে হবে। ১৯৭২ সালে মিসেস গান্ধী আমাকে বলেছিলেন, আমরা তোমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছি আমাদের স্বার্থে।
মেজর জেনারেল (অব.) মাঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের জাতীয় চরিত্র বদলানো দরকার। আত্মসমালোচনা দরকার। ভারত এমন এক প্রতিবেশী যাদের প্রতিরোধ করা কঠিন; আবার বন্ধুত্বও বিপজ্জনক।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচন হলো না আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে তারা বলেছিল এটা হবে একতরফা নির্বাচন। কিন্তু হামিদ কারজাইয়ের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। এই হলো বর্তমান আন্তর্জাতিক মহল।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য কমানো, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ, ছিটমহল এবং সীমান্ত সমস্যা যদি আলোচনায় স্থান না পায় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আবশ্যকতা কোথায়।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেযে বড় দুর্বলতা হলো অভ্যন্তরীণ অনৈক্য। বৈদেশিক বিষয়ে আমাদের বড় দলগুলো এক ভাষায় কথা বলে না।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে এ সরকার। অথচ জনগণকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। ভারতের সঙ্গে কি কি বিষয়ে চুক্তি হচ্ছে, সে ব্যাপারে দেশের জনগণ অন্ধকারে। পত্রপত্রিকার মাধ্যমে যে সব বিষয়ের কথা জানতে পারছি, তার সবই ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। বাংলাদেশের স্বার্থ কোথায়, তা সবাইকে জানাতে হবে।
মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ভারতকে করিডোর দিলে ৩০টি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের হামলার মুখে পড়বে বাংলাদেশ এবং এটি বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে ভারতে যাচ্ছেন ভারতের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য, বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে নয়। ট্রানজিট, এশিয়ান হাইওয়ে, পানি এসব কিছু আলোচনার বিষয়ের মধ্যে নেই। তাই এটি একটি শুভেচ্ছা সফর হওয়া উচিত। চারদিকে আরববেষ্টিত হওয়ার কারণে ইসরাইল কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। ভারতবেষ্টিত হওয়ায় আমাদেরও এ দুটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।
আমানুল্লাহ কবীর বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশেরই যে শুধু আস্থার সঙ্কট রয়েছে তা নয়, বরং সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এ সমস্যা রয়েছে ভারতের। বর্তমানে বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার ভারতের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর পেছনে তাদের বিশেষ স্বার্থ রয়েছে।
আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে সরকারিভাবে জাতিকে কিছু জানানো হয়নি। সুতরাং অনুমান করে বলা ছাড়া উপায় নেই। ভারতকে সবাই সমীহ করে; কিন্তু আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো নেই। তারা আমাদের সঙ্গে যেসব চুক্তি করেছে, তা রক্ষা করেনি।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, আয়তনে দক্ষিণ তালপট্টি একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ হলেও ভৌগোলিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আমাদের হাতছাড়া হলে বিশাল সমুদ্রসীমাও আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। বিশাল সমুদ্রসীমা এবং অর্থনৈতিক জোন চলে যাবে ভারতের কাছে।
এমআর ওসমানী বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে করা চুক্তিও ভারত রক্ষা করেনি। ইতিহাস বলে, এ পর্যন্ত ভারত আমাদের সঙ্গে করা কোনো চুক্তিই মানেনি। এ হলো বন্ধুত্বের নমুনা! তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় ভারত আমাদের ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু তা নষ্ট হয়েছে। কারণ আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাইনি এবং আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল আমাদের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি দিয়ে।
শাহ আবদুল হান্নান বলেন, ভারতের হাতে কিছু বন্দি তুলে দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুল আমরা করে ফেলেছি। এর পরিণাম আমাদের ভোগ করতে হবে।
আসিফ নজরুল বলেন, ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সাহায্য দিয়েছে, সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ; কিন্তু ভারতেরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে এ অঞ্চলে আজ পাকিস্তানের পারমাণবিক ঘাঁটি থাকত।
শহিদুল আনাম খান বলেন, আমরা যা দিচ্ছি, সে তুলনায় পাচ্ছি কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। ফুটবল মাঠের সমপরিমাণ একটি জায়গা বেরুবাড়ী তারা আমাদের দিচ্ছে না। তাহলে আমাদের দেশের মধ্য দিয়ে এত বড় রাস্তা আমরা কেন তাদের দেব?
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা ভারতকে বন্ধু হিসেবে চাই। মুরব্বি সুলভ আচরণ চাই না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের সময় ১৫ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে দর কষাকষি করতে হবে। ভারতকে ট্রানজিট একেবারেই দেব না, এমন বদ্ধমূল ধারণা ঠিক নয়। আমাদের সব সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে হবে। আমরাও আবদ্ধ অবস্থায় থাকতে চাই না। তবে দেখতে হবে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হয়েছে কিনা। আমরাও বিনিময়ে যাতে এ পথ দিয়ে সহজে অন্য দেশে যেতে পারি, তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে যে রুটে এ প্রস্তাব করা হচ্ছে, তা কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এশিয়ান হাইওয়ে চট্টগ্রামের টেকনাফ-মিয়ানমার দিয়েই হওয়া উচিত।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


