Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪১৬, ২৫ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আড়াই মাসে সুতার দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ বিকেএমইএ’র উদ্বেগ

সৈয়দ মিজানুর রহমান
নিটওয়্যার শিল্পের প্রধান কাঁচামাল সুতার দাম হুহু করে বাড়ছে। গত আড়াই মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে নিটওয়্যার রফতানি যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন সুতার দাম বেড়ে যাওয়া এই খাতের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন নিটওয়্যার রফতানিকারকরা।
তবে সুতা উত্পাদক বস্ত্রকল মালিকরা জানিয়েছেন, টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামাল তুলার দাম বেড়ে গেছে। বিশ্ববাজারে তুলার দাম বৃদ্ধিই সুতার দাম বেড়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ বলে জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বস্ত্রকল মালিকদের কাছ থেকে তারা প্রতি কেজি সুতা কিনতেন ২ ডলার ২০ সেন্ট দিয়ে, যা এখন কিনতে হচ্ছে ৩ ডলার ১০ সেন্ট দিয়ে। শতকরা হিসেবে প্রতি কেজি সুতার দাম এ সময়ে প্রায় ২৫ ভাগ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিকেএমইএ সভাপতি মোঃ ফজলুল হক।
সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন খরচ বেড়ে যাবে আশঙ্কা করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কায় নিটওয়্যার রফতানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যখন এই মন্দা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন তারা ঠিক তখন সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় নিটওয়্যার রফতানি আরেক দফা সঙ্কটের মুখে পড়বে। তবে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার কাঁচামাল তুলার দাম যেটুকু বেড়েছে তাতে সুতার দাম সর্বোচ্চ ১০ ভাগ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু স্থানীয় বস্ত্রকল মালিকরা দাম ২০/২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছেন। একে অযৌক্তিক বলেই মনে করেন ফজলুল হক।
বিকেএমইএ’র অভিযোগ, সুবিধাবাদী একটি শ্রেণী ইচ্ছাকৃতভাবেই বেশি হারে সুতার দাম বাড়িয়ে রফতানিতে সম্ভাবনাময় নিটওয়্যার খাতকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সুতার দাম বাড়ার কারণ কী—জানতে চাইলে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি আবদুল হাই সরকার আমার দেশকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি তুলার দাম ১০ থেকে ১৫ সেন্ট পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আর দেশের বস্ত্রকলগুলোতে তুলার যে চাহিদা আছে, তার প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আনতে হয়। চড়া দামে তুলা কেনা এবং গ্যাস সঙ্কটের ফলে উত্পাদন খরচ বেড়ে সুতার বাজার ঊর্ধ্বমুখী বলে জানান তিনি।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় দেশের শতাধিক টেক্সটাইল মিলের উত্পাদনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রফতানি। পরিস্থিতিকে খুবই উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাসের অভাবে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, টাঙ্গাইলসহ বেশকিছু এলাকার টেক্সটাইল মিলের উত্পাদন ৭০ ভাগ পর্যন্ত কমে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একেবারেই গ্যাস সরবরাহ থাকছে না। এতে উত্পাদন খরচ প্রায় ৪০/৪৫ ভাগ বেড়েছে। এর প্রভাব সুতার দামের ওপর পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশে স্পিনিং মিল আছে ৩৪১টি। এসব মিল থেকে দৈনিক ১৬শ’ মিলিয়ন কেজি সুতা উত্পাদন হয়। এই খাতে বিনিয়োগ আছে ৩০ হাজার কোটি টাকার। ফেব্রিক মিল আছে ৪০০টি। এসব মিল থেকে দৈনিক কাপড় উত্পাদন হয় ২ হাজার মিলিয়ন মিটার। এই খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার। ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল আছে ৩১০টি। এই খাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা প্রায়। সব মিলিয়ে গ্যাস সঙ্কটের কারণে প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টরের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?