Amardesh
আজঃ ঢাকা, রোববার ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪১৬, ২৫ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিশেষ সাক্ষাত্কারে মেয়র জঁ-মার্ক পেনেশিয়ার : টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্প এখনই বন্ধ হওয়া উচিত : বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন হওয়া উচিত : যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার লরেন্স রিভারের মতো

ইলিয়াস খান
‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে প্রবহমান লরেন্স রিভারের পানি বণ্টন নিয়ে ১০০ বছর আগে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়েছে। পানি বণ্টনসহ নদীর বিভিন্ন উন্নয়ন, শাসন সবকিছুই হচ্ছে কমিশনের সুপারিশে। এ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে কোনোদিনই বিরোধ হয়নি। কিন্তু অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত বিরোধ লেগেই আছে। ভারত এখন একতরফাভাবে সুরমা নদীর উজানে মণিপুর রাজ্যের টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ করছে। এটি হলে বৃহত্তর সিলেটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মানবিক ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার হবে। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে চাই, যেভাবেই হোক এ বাঁধ নির্মাণ ঠেকাতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কানাডা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।’
বাংলাদেশ সফরে আসা কানাডাভিত্তিক সংগঠন ‘স্টপ টিপাইমুখ ড্যাম অ্যান্ড সেভ এনভায়রনমেন্ট’-এর প্রধান মন্ট্রিলের ব্রোসার্ড শহরের মেয়র জঁ মার্ক পেলেটিয়ে আমার দেশকে একান্ত সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন। সংগঠনটি মূলত কানাডীয় বাংলাদেশীদের কানাডায় বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সাইদুর রহমান এই সংগঠন গড়ে তুলেছেন।
জ্বালানি, পরিবেশ, অর্থ এবং সরকারি সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জঁ মার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বড় ভাইসুলভ আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি তো হওয়ার কথা নয়। আমাদের প্রতিবেশী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বিশ্বে একমাত্র সুপার পাওয়ার। কিন্তু তারা তো কানাডার সঙ্গে বড় ভাইসুলভ আচরণ করে না। যে কোনো বড় দেশের সম্মান ও সমৃদ্ধির জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। বিষয়টি নয়াদিল্লির মনে রাখা জরুরি।’
জঁ মার্ক পেলেটিয়ে চলতি মাসের প্রথমদিকে বাংলাদেশ সফরে আসেন। তার এ সফরের মূল কারণ টিপাইমুখ বাঁধের সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় করা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্মেলনে যোগ দেয়া। বাংলাদেশে এসেই তিনি ও তার অপর সঙ্গী কানাডার প্রখ্যাত পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল ব্রিটন সিলেট সফরে যান। তারা বিভিন্ন স্তরের শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে মৌলভীবাজারে ‘টিপাইমুখ বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব’ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন।
মার্ক বলেন, ‘আমি কানাডার যে শহরের মেয়র, সেখানে বসবাসরত কানাডীয় বাংলাদেশীদের সঙ্গে আমার চমত্কার সম্পর্ক রয়েছে। দু’বছর আগে তাদের মাধ্যমেই প্রথম টিপাইমুখ বাঁধ সম্পর্কে জানতে পারি। এরপরই আন্দোলন গড়ে তুলি।’ তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা বিষয়টি অটোয়াকে জানানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। মে মাসে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জঁ মার্কের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি এই কানাডীয় অবগত। তিনি বলেন, মন্ট্রিল শহরে ৭০ লাখ লোক বাস করে। তাদের জন্য যে ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়, তার শতকরা ৯৫ ভাগই উত্পাদিত হয় ওয়াটার ড্যাম থেকে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তো ভয়াবহ। এখানকার প্রায় ১৬ কোটি মানুষের জন্য বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয় মাত্র ৪ হাজার মেগাওয়াট। তাও সবসময় পাওয়া যায় না। পানি এদেশের বড় সম্পদ। কিন্তু এই পানি যদি হিস্যা মতো না পায়, তাহলে তো আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদী পদ্মার পানি হিস্যা মতো না পাওয়ায় বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা মরুভূমি হওয়ার পথে। মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় শুরু হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলে। অভিন্ন ৫৪টি নদীতে বাঁধ দিয়ে রেখেছে ভারত। নানা দেনদরবার করেও হিস্যা মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এসব বিষয় অবহিত করলে কানাডীয় মেয়র বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এটি কী করে হয়? একাধিক দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত কোনো অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিতে হলে ভাটি ও উজানের উভয় দেশকে জানাতে হবে। কেন, কী কারণে বাঁধ দেয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার অভিন্ন নদী লরেন্স নিয়ে গঠিত কমিশন প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ১০০ বছর আগে এ কমিশন গঠন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত ৬ সদস্যের এ কমিটির ঐকমত্যের ভিত্তিতেই পানি বণ্টনসহ নদীবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ নদী নিয়ে উভয় দেশের কাছে তথ্যাদি রয়েছে। কোনো দেশের কিছু গোপন করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ-ভারতের ক্ষেত্রেও এ উদাহরণ কাজে লাগানো যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কানাডা উভয় দেশকে সহযোগিতা করবে।
আলোচনায় আবার আসে টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘দিজ প্রজেক্ট হ্যাজ টু বি স্টপ জাস্ট নাউ (এই প্রকল্প এখনই বন্ধ হওয়া উচিত)। প্রয়োজনে বিশ্ব আদালতে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে বিষয়টি জানাতে হবে। ‘কিন্তু বিশ্বের বড় বড় সংস্থায় ভারতীয় লবিস্ট রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে তো লবিং করার কোনো দেশ বা ব্যক্তি নেই’—এ মন্তব্যে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন মেয়র মার্ক। তিনি বলেন, ‘আমরা লবিং করব। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব জায়গায়। কানাডা সবসময় দুর্বল, গরিব দেশের পক্ষে। এ বিষয় আমাদের স্পর্শকাতরতা রয়েছে।’
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জঁ মার্ক পেলেটিয়ে সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্য কানাডায় অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনি মনে করেন, এই বিপন্ন মানুষদের সহযোগিতা করতে পারা অত্যন্ত আত্মতুষ্টির বিষয়। সুযোগ পেলেই তিনি যে কোনো বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষকে সহযোগিতা করতে আসবেন।
কানাডীয় পরিবেশবিদ ড্যানিয়েল ব্রিটন কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন হতে হবে ঢাকায়। কারণ এটি হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের গ্রাউন্ড জিরো। বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এরই মধ্যে যে বিপর্যয় ঘটেছে তা নিজ চোখে এসে দেখতে হবে। কানাডা ২৬ বছর আগে পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে। আর কথা নয়, এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?