পিপিআরসির উপস্থাপনা : মঙ্গা এখন উত্তর থেকে ছুটছে দক্ষিণে: জিল্লুর
স্টাফ রিপোর্টার
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন সেন্টারের (পিপিআরসি) এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান দাবি করেছেন, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও আর্থসামাজিক দুর্যোগ এখন উত্তরের জেলাগুলো থেকে স্থানান্তরিত হয়ে দক্ষিণের উপকূলীয় এলাকাগুলোর দিকেই ছুটছে। তিনি মনে করেন, নানামুখী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে দারিদ্র্য বিমোচনের যে সফল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে, আগামীতে একই কাজ করতে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। তিনি তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, উপকূলীয় এলাকাগুলোর জমি প্রধানত এক ফসলি। আবার সিডর-আইলার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব জমিতে সমুদ্রের পানি ঢুকে লবণাক্ততা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি আইলাবিধ্বস্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি এবং খুলনার কয়রা ও দাকোপে পিপিআরসির সরেজমিন জরিপ ও তাদের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
গতকাল ধানমন্ডিতে পিপিআরসি চত্বরে ‘জলবায়ু এজেন্ডা ও উপকূলীয় যন্ত্রণা : প্রত্যক্ষদর্শীর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল চাহিদা’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ চার উপজেলার আইলাবিধ্বস্ত ৪৩ হাজার জনগণ দুর্যোগের সাত মাস পরও শুধু বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপনই করছে না, তারা প্রতিদিনই জোয়ার-ভাটায় ভাসছে। এটাকে ‘নীরব মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাঁধের আটটি পয়েন্টে জোয়ারের পানি যেমন ঢুকছে, তেমনি জোয়ারের তোড়ে বিধ্বস্ত বাঁধের সৃষ্ট ফাটল দিনদিনই বাড়ছে।
আইলাবিধ্বস্ত এসব এলাকায় সমস্যার ধরন পাল্টে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, সুপেয় পানিই এখানে প্রধান সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার ভাষায়, সুপেয় পানি, নারীস্বাস্থ্য, সহজ যোগাযোগ ও জীবিকাই এখন আইলা আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মৌল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য সমস্যার সঙ্গে এ চারটি সমস্যা তাদেরকে চেপে ধরেছে। এ মুহূর্তে নতুন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে শীতের তীব্রতা।
তিনি বলেন, প্রশাসন নানা কারণে গুরুত্ব অনুভব করতে পারেনি বলে বাঁধের ফাটল ৩০ ফুট থেকে এখন তিন থেকে চারশ’ ফুটে পরিণত হয়েছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ঢিলেমি থাকার কারণে এসব এলাকার জনগণও মনে করছে, তাদেরকে হয়তো রাষ্ট্রও পরিত্যক্ত ভেবে বসে আছে। তবে এ কাজ সামাল দেয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অথচ এসব এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সম্পদহীন হবার পথেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে উপকূলীয় এলাকাসমূহ আবির্ভূত হচ্ছে।
কোপেনহেগেনে চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সম্মেলনে দূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কিছু অংশ ডুবে যেতে পারে বলে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে এদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ‘অভিবাসন’ আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ এদেশের জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকছে, সেই মনোবলের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর কথা কেউ বলছেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অভিবাসন আতঙ্ক তৈরি নতুন ধরনের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এমনিতেই জনসংখ্যাবহুল এদেশে মাইগ্রেশন বা অভিবাসন একটি বাস্তব কর্মসূচি বা সমাধান হতে পারে না। তাই কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই আলোচনা হওয়া উচিত। আইলাবিধ্বস্ত এলাকায় এ মুহূর্তে ফান্ডের চেয়ে বড় জরুরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম ও উদ্যোগ।
সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান তার ‘তাহমিনা’স ম্যাসেজ’ নামে প্রতীকী উপস্থাপনায় বলেন, এ মুহূর্তে আইলাবিধ্বস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ, বাঁধ সংস্কার ও নতুন ধরনের দারিদ্র্য মোকাবিলায় বাস্তব ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা নেয়া দরকার।
গতকাল ধানমন্ডিতে পিপিআরসি চত্বরে ‘জলবায়ু এজেন্ডা ও উপকূলীয় যন্ত্রণা : প্রত্যক্ষদর্শীর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল চাহিদা’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এ চার উপজেলার আইলাবিধ্বস্ত ৪৩ হাজার জনগণ দুর্যোগের সাত মাস পরও শুধু বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপনই করছে না, তারা প্রতিদিনই জোয়ার-ভাটায় ভাসছে। এটাকে ‘নীরব মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাঁধের আটটি পয়েন্টে জোয়ারের পানি যেমন ঢুকছে, তেমনি জোয়ারের তোড়ে বিধ্বস্ত বাঁধের সৃষ্ট ফাটল দিনদিনই বাড়ছে।
আইলাবিধ্বস্ত এসব এলাকায় সমস্যার ধরন পাল্টে যাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, সুপেয় পানিই এখানে প্রধান সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তার ভাষায়, সুপেয় পানি, নারীস্বাস্থ্য, সহজ যোগাযোগ ও জীবিকাই এখন আইলা আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মৌল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য সমস্যার সঙ্গে এ চারটি সমস্যা তাদেরকে চেপে ধরেছে। এ মুহূর্তে নতুন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে শীতের তীব্রতা।
তিনি বলেন, প্রশাসন নানা কারণে গুরুত্ব অনুভব করতে পারেনি বলে বাঁধের ফাটল ৩০ ফুট থেকে এখন তিন থেকে চারশ’ ফুটে পরিণত হয়েছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ঢিলেমি থাকার কারণে এসব এলাকার জনগণও মনে করছে, তাদেরকে হয়তো রাষ্ট্রও পরিত্যক্ত ভেবে বসে আছে। তবে এ কাজ সামাল দেয়া সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অথচ এসব এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সম্পদহীন হবার পথেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এসব কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন কেন্দ্র হিসেবে উপকূলীয় এলাকাসমূহ আবির্ভূত হচ্ছে।
কোপেনহেগেনে চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সম্মেলনে দূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কিছু অংশ ডুবে যেতে পারে বলে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তাতে এদেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ‘অভিবাসন’ আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ এদেশের জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে যেভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকছে, সেই মনোবলের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর কথা কেউ বলছেন না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অভিবাসন আতঙ্ক তৈরি নতুন ধরনের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এমনিতেই জনসংখ্যাবহুল এদেশে মাইগ্রেশন বা অভিবাসন একটি বাস্তব কর্মসূচি বা সমাধান হতে পারে না। তাই কোপেনহেগেনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই আলোচনা হওয়া উচিত। আইলাবিধ্বস্ত এলাকায় এ মুহূর্তে ফান্ডের চেয়ে বড় জরুরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম ও উদ্যোগ।
সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান তার ‘তাহমিনা’স ম্যাসেজ’ নামে প্রতীকী উপস্থাপনায় বলেন, এ মুহূর্তে আইলাবিধ্বস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে শীতবস্ত্র বিতরণ, বাঁধ সংস্কার ও নতুন ধরনের দারিদ্র্য মোকাবিলায় বাস্তব ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা নেয়া দরকার।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


