সুসময়
মোয়াজ্জেম হোসেন রাসেল
মাঠে বেশ চমত্কার সময় কাটছে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েনের। ক্লাব দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মাঠে নামছেন আর গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন। ২০১০ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড দলে মাইকেল ওয়েনের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ওয়েন নিজেও তা জানেন। ইংল্যান্ডের কোচ ফ্যাবিও কাপেলো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যানইউর হয়ে নিয়মিত গোল পেলে তবেই ওয়েনকে ফেরানোর কথা ভেবে দেখবেন তিনি। নিয়মিত গোল না পেলেও দুরন্ত এক হ্যাটট্রিক করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ওয়েন। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জার্মান ক্লাব উলফসবার্গের বিপক্ষে ওয়েনের হ্যাটট্রিকের সুবাদে ৩-১ গোলে জিতেছে ম্যানইউ। হ্যাটট্রিক হিরো ওয়েনের আশা, তার এই পারফরম্যান্স কাপেলোর নজর কাড়বে। দলে অনেক তারকা খেলোয়াড় থাকতেও তিনটি গোলের সবক’টি করতে পারায় বেশ খুশি ওয়েন— ‘আমি পেছনের অনেক বাজে সময় ফেলে এসেছি। এখন ম্যানইউয়ে খেলাটা উপভোগ করছি। আর হ্যাটট্রিক করাটা নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। নিজের কাজটা করে যাচ্ছি। আশা করি, দেশের হয়ে আবারও নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাব।’ আর ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার প্রত্যাশা এখনও ছেড়ে দেননি ওয়েন। তবে এসব তিনি ছেড়ে দিয়েছেন কোচ কাপেলোর ওপর। সর্বশেষ বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গায়ে জড়িয়েছিল এই ৭ নাম্বারের জার্সিটা। আর হাত বদলের মতো এই জার্সিটার মালিক ফুটবল বিশ্ব থেকে হারিয়ে যেতে বসা মাইকেল ওয়েন। আর এবার যেন অনেকটা হঠাত্ই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আসার অফার পান মাইকেল ওয়েন। তাই হঠাত্ পাওয়া এই সুযোগে পুরোটা কাজে লাগাতে চান তিনি। জীবনে এমন সুযোগ আর পাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে ওয়েন ঠিকই স্বীকার করেছেন, খুব বেশি অর্থের বিনিময়ে ম্যানইউতে আসেননি তিনি। সবচেয়ে বড় কথা, ম্যানইউ বস স্যার এলেক্স ফার্গুসনের ডাককে তিনি সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেননি। ওয়েনের পুরনো দল নিউক্যাসেল ইউনাইটেড এরই মধ্যে নেমে গেছে প্রথম বিভাগে, তাই প্রিমিয়ার লীগের একটা দলে খেলাটা খুব বেশি জরুরি ছিল তার জন্য। বড় দলে খেলাটা অনেকেরই সৌভাগ্য হয় যদি পারফর্ম করতে পারেন। তাহলে যেমন নিয়মিত খেলতে পারবেন, তেমনি আবারও জাতীয় দলের হয়েও খেলতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করেন মাইকেল ওয়েন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনো কালেই ভালো ছিল না আর সেগুলো এখন আর মনে করে সময় নষ্ট করতে চান না। বয়স এরই মধ্যে ২৯ পেরিয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেছিলেন ইনজুরির কাছে বুঝি পরাজয় মেনে নিয়ে অবসরের ডাক দিয়ে দেবেন। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় তো আর এত সহজে সবকিছুকে মেনে নিতে পারেন না। সর্বশেষ ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ থেকে তার সাবেক দল নিউক্যাসেল প্রথম বিভাগে নেমে গেল তখন ঘোর অমানিশায় পড়ে গিয়েছিল তার ক্যারিয়ার। আর সেখান থেকে তাকে তুলে এনেছেন ম্যানইউ বস স্যার এলেক্স ফার্গুসন।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


