মুখোমুখি সৌরভ
জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার পর নতুন ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে সৌরভ গাঙ্গুলীকে। টেলিভিশনে রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’র উপস্থাপক। এখানেও সফল প্রিন্স অব ক্যালকাটা। সেই সফল মানুষটির সঙ্গে কথা বলেছেন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক গৌতম ভট্টাচার্য। ইন্টারনেট থেকে পাওয়া সেই আলাপচারিতার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো এখানে
সৌরভের সেরা পাঁচটি ইনিংসের একটা ‘দাদাগিরি’! অনেকের মুখে শুনছি।
নো। ক্রিকেটের সঙ্গে এর কোনো তুলনাই হয় না। ক্রিকেট হলো রিয়্যাল লাইফ। আমার প্যাশন। ‘দাদাগিরি’ ঠিক লাইফ নয়। একটা এক্সটেশন বলতে পার।
তফাতটা কীসে?
বিশাল তফাত। মাঠে তুমি জান একটা ভুলে মৃত্যু। এগারোটা লোক মিলে তোমায় খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। সেখানে ‘দাদাগিরি’তে উল্টে গোটা ইউনিট মিলে তোমায় হেল্প করছে। তুমি রি-টেকের সুযোগ পাচ্ছ।
সাধারণ গড়পড়তা লোক কিন্তু তোমার জায়গায় ঝুঁকিটাই নিত না। তার হয়তো মনে হতো, কী দরকার বাবা গেম শো’র অচেনা টেরিটরিতে ঢুকে। একটা কথা বলো, এই ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতাটা কোথা থেকে আয়ত্ত হয়?
আমাকে দিয়েছে ক্রিকেট! চৌদ্দ-পনেরো বছর ক্রিকেটে যে কঠিন জীবনের মধ্য দিয়ে গেছি তার গোটাটাই তো ঝুঁকি। একটা সেন্টিমিটারের এপাশে-ওপাশে সেখানে আমার জীবন নির্ভর করে থেকেছে। ক্যাপ্টেন্সি আর একটা কী অসম্ভব রগড়ানি। কখন ওপরে নিয়ে যাবে, কখন ধাম করে ফেলে দেবে কেউ জানে না। এখন ভাবতে বসলে মনে হয়, আই হ্যাভ অলওয়েজ লিভড অন অ্যান এজ। তা বলে কখনোই আমি এগুলোর তোয়াক্কা করিনি। দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়িনি। ট্রাবল কখন শুরু হয় জান? যখন তুমি ভাবতে বস, এই রে না পারলে কী হবে! এসব ভাবতে নেই। আমি বরাবর ভেবে এসেছি, অনিশ্চিত কিছু, তার মানে নতুন সুযোগ।সাফল্যের নতুন সুযোগ?
ঠিক তাই। জেতার আর একটা নতুন সুযোগ।
তুমি নিজেকে মনে মনে কিছু বলেছিলে ‘দাদাগিরি’র চ্যালেঞ্জের মুখে?
বলেছিলাম, দেখো তো চেষ্টা করলে টিভিটা করতে পার কি-না? কঠিন চ্যালেঞ্জ নেয়ার মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ আছে। এক্ষুণি যদি বল, ইন্ডিয়ার তোমাকে দরকার। ওরা তোমায় ছাড়া টেস্ট ম্যাচটা জিততে পারছে না, আমি এখুনি লাফিয়ে উঠে বলব, চলো কোথায় যেতে হবে! দাদাগিরি বন্ধ। চললুম আমি।
তোমার শো-টা কেন এমন অসম্ভব ক্লিক করল বলে মনে হয়?
আমাকে অন্য রকম ভূমিকায় দেখতে পাওয়াটা হয়তো একটা ফ্যাক্টর। এত লোকের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন হচ্ছে, সেটা হয়তো ভালো লাগছে।
কিন্তু আসল কথা তো হলো শো-টা ভালো। ছোটবেলায় আমরা সেই বসে বোর্নভিটা ক্যুইজ কনটেস্ট শুনতাম না। ভালো ক্যুইজ শো বসে শোনা বা দেখার মধ্যে একটা অদ্ভুত অ্যাট্রাকশন আছে। বাড়িতে সবাই বসে একসঙ্গে এনজয় করতে পারে। ডান্স বা গানের রিয়ালিটি শো-তে যেটা নেই। সেখানে তোমার একটা স্পেশাল ট্যালেন্ট দরকার। ওটা দেখে ইমপ্রুভ করার বা বোঝার জন্য।
কোন সৌরভটা রিয়্যাল? ‘দাদাগিরি’রটা? না মাঠেরটা?
‘দাদাগিরি’র সৌরভই রিয়্যাল।
তা হলে মাঠের লোকটা কে ছিল? লর্ডসে যে জামা খুলে ওড়াল!
মাঠের ভেতর অ্যাগ্রেশনটা খেলায় জেতার জন্য করতেই হয়। লর্ডসে যে জামা উড়িয়েছিল সে খেলার মাঠের লোক। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তো আর সে এভাবে জামা ওড়ায় না।
আমার মনে হয় (হাসি) ‘দাদাগিরি’তে আমায় দেখার আগে সবার ধারণা ছিল ব্যক্তিগত জীবনে আমি খুব রুক্ষ, অ্যাগ্রেসিভ টাইপের। আমি বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেও সেটা ভাঙেনি (হাসি)। এখন সবাই ভাবছে, আরে ছেলেটা এ রকম!
সেদিক দিয়ে এই শো-টা তোমার জীবনেও বিরাট ঘটনা। একটা খটকা শুধু আছে। সবাই জানত, খেলা ছাড়ার পর তুমি কমেন্ট্রি করবে। সেটা না করে অ্যাঙ্করিংয়ে চলে গেলে হঠাত্!
এই যে ‘দাদাগিরি’র কনসেপ্টটা ভালো লেগে গেল। আর আমি তো প্রথম থেকেই বলতাম, আর ঘুরে ঘুরে কমেন্ট্রি করাটা আমার পোষাবে না। জীবনে প্রচুর ট্রাভেল করেছি।
এবারের মতো ‘দাদাগিরি’ তো শেষ হয়ে গেল?
হ্যাঁ, নেক্সটা পাঁচ-ছ’মাস আমার একটু ফাঁকা হলো। উফ্ যা যাচ্ছিল। প্রোগ্রামটা আবার হয়তো পরের বছর জুলাই থেকে শুরু হবে।
কোন্ এপিসোডটা তোমার নিজের সবচেয়ে ভালো লাগল?
আমার ফেলুদা এপিসোডটা খুব ভালো লেগেছে। ইরফান-শ্রীশান্থেরটাও দারুণ এনজয় করেছি। কত সব লোকের সঙ্গে নতুন আলাপ হলো। এত সাকসেসফুল সব মানুষ। কত লোককে টিভির পর্দায় বা ফিল্মে দেখার জন্য বসে থাকতাম। চিন্ময় রায় যেমন। তার পর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। প্রসেনজিতের সঙ্গে গত বারো বছরে আমার হাই-হ্যালোর বেশি হয়নি। সেখানে মাত্র গত ক’মাসে চার-পাঁচবার যোগাযোগ হয়ে গেল।
শুরুর দিকে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামার আগে তোমার কিট ব্যাগে মোটিভেশনাল সব লাইন লেখা থাকত। যেগুলো দেখে তুমি নিজেকে উদ্দীপ্ত করতে। অ্যাঙ্করিং-জীবনে তেমন কোনো লাইন-টাইন ছিল?
না। শুনলে অবাক হয়ে যাবে, কোনো রিহার্সালও করিনি। ইউ টিউবে মিস্টার বচ্চনের কেবিসি’র কয়েকটা এপিসোড দেখেছিলাম। আর ইংল্যান্ডে অরিজিনাল ইংলিশ ভার্সনটা দেখেছি। প্রিপারেশন বলতে এই।
আমি একটা জিনিস আন্দাজ করেছিলাম যে শো-তে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট হবে হোস্টের সঙ্গে অতিথিদের ইন্টার অ্যাকশন। যে করে হোক, এদের আমাকে খুব হ্যাপি ফ্রেম অব মাইন্ডে রাখতে হবে।
‘দাদাগিরি’র অতিথিরা বেশিরভাগই দেখি তোমায় একটা করে প্রশ্ন করে। সেই স্টাইলে আমিও করছি। তোমার জীবনে সেরা ভিলেন কে? গ্রেগ চ্যাপেল? বুকানন? না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড?
আমার জীবনে কোনো ভিলেন নেই। তুমি যে জীবনের কথা বলছ সেটা পেছনে চলে গেছে।
সৌরভের সেরা পাঁচটি ইনিংসের একটা ‘দাদাগিরি’! অনেকের মুখে শুনছি।
নো। ক্রিকেটের সঙ্গে এর কোনো তুলনাই হয় না। ক্রিকেট হলো রিয়্যাল লাইফ। আমার প্যাশন। ‘দাদাগিরি’ ঠিক লাইফ নয়। একটা এক্সটেশন বলতে পার।
তফাতটা কীসে?
বিশাল তফাত। মাঠে তুমি জান একটা ভুলে মৃত্যু। এগারোটা লোক মিলে তোমায় খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। সেখানে ‘দাদাগিরি’তে উল্টে গোটা ইউনিট মিলে তোমায় হেল্প করছে। তুমি রি-টেকের সুযোগ পাচ্ছ।
সাধারণ গড়পড়তা লোক কিন্তু তোমার জায়গায় ঝুঁকিটাই নিত না। তার হয়তো মনে হতো, কী দরকার বাবা গেম শো’র অচেনা টেরিটরিতে ঢুকে। একটা কথা বলো, এই ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতাটা কোথা থেকে আয়ত্ত হয়?
আমাকে দিয়েছে ক্রিকেট! চৌদ্দ-পনেরো বছর ক্রিকেটে যে কঠিন জীবনের মধ্য দিয়ে গেছি তার গোটাটাই তো ঝুঁকি। একটা সেন্টিমিটারের এপাশে-ওপাশে সেখানে আমার জীবন নির্ভর করে থেকেছে। ক্যাপ্টেন্সি আর একটা কী অসম্ভব রগড়ানি। কখন ওপরে নিয়ে যাবে, কখন ধাম করে ফেলে দেবে কেউ জানে না। এখন ভাবতে বসলে মনে হয়, আই হ্যাভ অলওয়েজ লিভড অন অ্যান এজ। তা বলে কখনোই আমি এগুলোর তোয়াক্কা করিনি। দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়িনি। ট্রাবল কখন শুরু হয় জান? যখন তুমি ভাবতে বস, এই রে না পারলে কী হবে! এসব ভাবতে নেই। আমি বরাবর ভেবে এসেছি, অনিশ্চিত কিছু, তার মানে নতুন সুযোগ।সাফল্যের নতুন সুযোগ?
ঠিক তাই। জেতার আর একটা নতুন সুযোগ।
তুমি নিজেকে মনে মনে কিছু বলেছিলে ‘দাদাগিরি’র চ্যালেঞ্জের মুখে?
বলেছিলাম, দেখো তো চেষ্টা করলে টিভিটা করতে পার কি-না? কঠিন চ্যালেঞ্জ নেয়ার মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ আছে। এক্ষুণি যদি বল, ইন্ডিয়ার তোমাকে দরকার। ওরা তোমায় ছাড়া টেস্ট ম্যাচটা জিততে পারছে না, আমি এখুনি লাফিয়ে উঠে বলব, চলো কোথায় যেতে হবে! দাদাগিরি বন্ধ। চললুম আমি।
তোমার শো-টা কেন এমন অসম্ভব ক্লিক করল বলে মনে হয়?
আমাকে অন্য রকম ভূমিকায় দেখতে পাওয়াটা হয়তো একটা ফ্যাক্টর। এত লোকের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন হচ্ছে, সেটা হয়তো ভালো লাগছে।
কিন্তু আসল কথা তো হলো শো-টা ভালো। ছোটবেলায় আমরা সেই বসে বোর্নভিটা ক্যুইজ কনটেস্ট শুনতাম না। ভালো ক্যুইজ শো বসে শোনা বা দেখার মধ্যে একটা অদ্ভুত অ্যাট্রাকশন আছে। বাড়িতে সবাই বসে একসঙ্গে এনজয় করতে পারে। ডান্স বা গানের রিয়ালিটি শো-তে যেটা নেই। সেখানে তোমার একটা স্পেশাল ট্যালেন্ট দরকার। ওটা দেখে ইমপ্রুভ করার বা বোঝার জন্য।
কোন সৌরভটা রিয়্যাল? ‘দাদাগিরি’রটা? না মাঠেরটা?
‘দাদাগিরি’র সৌরভই রিয়্যাল।
তা হলে মাঠের লোকটা কে ছিল? লর্ডসে যে জামা খুলে ওড়াল!
মাঠের ভেতর অ্যাগ্রেশনটা খেলায় জেতার জন্য করতেই হয়। লর্ডসে যে জামা উড়িয়েছিল সে খেলার মাঠের লোক। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে তো আর সে এভাবে জামা ওড়ায় না।
আমার মনে হয় (হাসি) ‘দাদাগিরি’তে আমায় দেখার আগে সবার ধারণা ছিল ব্যক্তিগত জীবনে আমি খুব রুক্ষ, অ্যাগ্রেসিভ টাইপের। আমি বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেও সেটা ভাঙেনি (হাসি)। এখন সবাই ভাবছে, আরে ছেলেটা এ রকম!
সেদিক দিয়ে এই শো-টা তোমার জীবনেও বিরাট ঘটনা। একটা খটকা শুধু আছে। সবাই জানত, খেলা ছাড়ার পর তুমি কমেন্ট্রি করবে। সেটা না করে অ্যাঙ্করিংয়ে চলে গেলে হঠাত্!
এই যে ‘দাদাগিরি’র কনসেপ্টটা ভালো লেগে গেল। আর আমি তো প্রথম থেকেই বলতাম, আর ঘুরে ঘুরে কমেন্ট্রি করাটা আমার পোষাবে না। জীবনে প্রচুর ট্রাভেল করেছি।
এবারের মতো ‘দাদাগিরি’ তো শেষ হয়ে গেল?
হ্যাঁ, নেক্সটা পাঁচ-ছ’মাস আমার একটু ফাঁকা হলো। উফ্ যা যাচ্ছিল। প্রোগ্রামটা আবার হয়তো পরের বছর জুলাই থেকে শুরু হবে।
কোন্ এপিসোডটা তোমার নিজের সবচেয়ে ভালো লাগল?
আমার ফেলুদা এপিসোডটা খুব ভালো লেগেছে। ইরফান-শ্রীশান্থেরটাও দারুণ এনজয় করেছি। কত সব লোকের সঙ্গে নতুন আলাপ হলো। এত সাকসেসফুল সব মানুষ। কত লোককে টিভির পর্দায় বা ফিল্মে দেখার জন্য বসে থাকতাম। চিন্ময় রায় যেমন। তার পর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। প্রসেনজিতের সঙ্গে গত বারো বছরে আমার হাই-হ্যালোর বেশি হয়নি। সেখানে মাত্র গত ক’মাসে চার-পাঁচবার যোগাযোগ হয়ে গেল।
শুরুর দিকে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামার আগে তোমার কিট ব্যাগে মোটিভেশনাল সব লাইন লেখা থাকত। যেগুলো দেখে তুমি নিজেকে উদ্দীপ্ত করতে। অ্যাঙ্করিং-জীবনে তেমন কোনো লাইন-টাইন ছিল?
না। শুনলে অবাক হয়ে যাবে, কোনো রিহার্সালও করিনি। ইউ টিউবে মিস্টার বচ্চনের কেবিসি’র কয়েকটা এপিসোড দেখেছিলাম। আর ইংল্যান্ডে অরিজিনাল ইংলিশ ভার্সনটা দেখেছি। প্রিপারেশন বলতে এই।
আমি একটা জিনিস আন্দাজ করেছিলাম যে শো-তে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট হবে হোস্টের সঙ্গে অতিথিদের ইন্টার অ্যাকশন। যে করে হোক, এদের আমাকে খুব হ্যাপি ফ্রেম অব মাইন্ডে রাখতে হবে।
‘দাদাগিরি’র অতিথিরা বেশিরভাগই দেখি তোমায় একটা করে প্রশ্ন করে। সেই স্টাইলে আমিও করছি। তোমার জীবনে সেরা ভিলেন কে? গ্রেগ চ্যাপেল? বুকানন? না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড?
আমার জীবনে কোনো ভিলেন নেই। তুমি যে জীবনের কথা বলছ সেটা পেছনে চলে গেছে।


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


