Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ৯ নভেম্বর ২০০৯, ২৫ কার্তিক ১৪১৬, ২০ জিলকদ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

রফতানি খাতে ভয়াবহ ধস : সেপ্টেম্বরে আয় কমেছে ২৮ ভাগ

সৈয়দ মিজানুর রহমান
গত সেপ্টেম্বরে দেশে মোট রফতানি আয় কমেছে প্রায় ২ হাজার ৮৮২ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা ২০০৮-এর সেপ্টেম্বরের তুলনায় শতকরা ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে এতো ব্যাপক হারে রফতানি আয় কমার আর নজির নেই। রফতানির প্রধান প্রধান খাত ওভেন গার্মেন্টস, নিটওয়্যার, টেক্সটাইল ফেব্রিক্স, চামড়া, হিমায়িত খাদ্যসহ সব ক্ষেত্রেই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের (২০০৯-১০) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রফতানি আয়ের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট ছাড়িয়ে গেছে। আগের বছরের তুলনায় এবার ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কম। অথচ ২০০৮-০৯ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪১.৭৩ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে মোট রফতানি আয় হয়েছে ১০৬০ দশমিক ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের বছর একই সময়ে এটা ছিল ১৪৭৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাত্ এ বছর একই সময়ে মোট রফতানি আয় কমেছে ৪১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা প্রায়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৭০ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরে একই সময়ে রফতানি হয় ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। রফতানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
জুলাই-সেপ্টেম্বরে নিটওয়্যার রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের। গত অর্থবছরের তুলনায় এটা
৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। এ সময়ে ওভেন গার্মেন্টস খাতে রফতানি আয় এসেছে ১৩৭৬ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ খাতে রফতানি আয় ছিল ১ হাজার ৫২৫ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার। রফতানি আয় কমেছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
টেক্সটাইল ফেব্রিক্স রফতানি হয়েছে ১৯ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৪৬ ভাগ কম। হোম টেক্সটাইল খাতে জুলাই-সেপ্টেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ৬৯ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। এ খাতে রফতানি আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। চা রফতানি হয়েছে শূন্য দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলার। এই খাতে রফতানি আয় কমেছে ৮৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।
চামড়া খাতে গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট রফতানি আয় ছিল ৬০ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার। আর এবারের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি আয় এসেছে ৪৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। কমেছে ২৪ দশমিক ৫৫ ভাগ।
হিমায়িত খাদ্য রফতানি খাতে আয় কমেছে ৩৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত অর্থবছরের ৬০ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের আয় এসেছে ৪৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
সিরামিক খাতে গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে যেখানে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ দশমিক ২৮ শতাংশ, চলতি অর্থবছরে এই খাতে আয় কমে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।
ওষুধ খাতে প্রথম প্রান্তিকে রফতানি আয় এসেছে ১০ দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ ভাগ কম।
নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্টস, হোম টেক্সটাইল, টেক্সটাইল ফেব্রিক্স, চা, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য, ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। কোনো কোনোটির ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮৭ শতাংশের কাছাকাছি চলে গেছে।
ইপিবি’র তথ্যমতে, জুলাই-সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক পণ্য রফতানি হয়েছে ২১৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলারের। এই খাতে রফতানি কমেছে ২১ দশমিক ১০ শতাংশ। আর ম্যানুফেকচারিং পণ্যের রফতানি আয় এসেছে ৩ হাজার ৬১৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের। এই খাতে রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ২ শতাংশ। প্রাথমিক পণ্য ও শিল্পের উত্পাদিত পণ্য দুটিতেই ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
তবে পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, কৃষিজাত পণ্য, টেরি টাওয়েলসহ কয়েকটি পণ্য রফতানিতে আয় কিছুটা বেড়েছে। এ সময়ে পাটজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৮৫ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। কৃষিজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ২১ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলারের। এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
রফতানি আয়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী গতকাল আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা গত মার্চ মাসেই সরকারকে এ বিষয়ে একটি ধারণা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন বেশ কয়েকজন অর্থনীতিবিদ আমাদের ওপর চটে গিয়েছিলেন। তারা সরকারকে উল্টো বুঝিয়েছেন গার্মেন্ট মালিকরা সত্য কথা বলছেন না। আর এটি বুঝিয়ে মন্দা মোকাবিলার প্যাকেজে পোশাক খাতকে না রেখে রাখা হয়েছিল কৃষি ও বিদ্যুত্ খাতকে।’ সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরেও পোশাক খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হবে। কারণ, আমরা পোশাক রফতানির জন্য যে পরিমাণ ইউডি ইস্যু করছি তাতে মনে হচ্ছে মোট রফতানি আয় আরও কমবে।’ বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের ইতিহাসে আর কোনো মাসেই পোশাক রফতানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট ছাড়িয়ে যায়নি। অথচ চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে এই খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তিনি জানান, গত জুলাই থেকেই পোশাক খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি চলছে। জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল মাইনাস ১ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং আগসেল্ট মাইনাস ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোঃ ফজলুল হক জানান, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে শুধু নিটওয়্যার রফতানির হিসাব ধরলে দেখা যাচ্ছে, এই খাতে রফতানি আয় কমেছে ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আমাদের জন্য একটি অশনি সংকেত। এর আগে কখনও এমন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিটখাতে হয়নি বলে জানান তিনি। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিটওয়্যার খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ। তিনি বলেন, পোশাক খাতে রফতানি আয় কমে যাওয়ার অর্থই হলো গোটা রফতানি খাতে ধাক্কা লাগা। আর সেটি গত কয়েক মাস ধরেই স্পষ্ট। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে রফতানির নাজুক পরিস্থিতি যেমন স্বীকার করা হচ্ছে না, তেমনি মন্দা কাটিয়ে রফতানি বাজার ধরে রাখার ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। অথচ আমরা গত কয়েক মাস ধরেই রফতানি আয় কমে যাওয়ার ইঙ্গিত সরকারকে দিয়ে আসছি। তবে সেটি আমলে নেয়া হয়নি বলেই রফতানি খাতে এখন বিপর্যয় নেমে এসেছে।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?