Amardesh
আজঃ ঢাকা, সোমবার ৯ নভেম্বর ২০০৯, ২৫ কার্তিক ১৪১৬, ২০ জিলকদ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 জব সার্চ
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মোশতাক ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভণ্ড বিশ্বাসঘাতক : অ্যাটর্নি জেনারেল

সল্টাফ রিপোর্টার
বঙ্গবন্ব্দু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং কারাগারে আটক আসামিদের আইনজীবীদের যুক্তির জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে জানান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিশ্বাসঘাতক, প্রতারক ও ভণ্ড। ১৯৭১ সালেও পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন চেয়েছিলেন। এরকম একজন প্রতারক, ভণ্ড ও বিশ্বাসঘাতক বঙ্গবন্ব্দুর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে রাজনীতি করেছেন। তার একক নেতৃত্বে সেনাবিদ্রোহ হয়েছিল বললে আইনের ব্যাখ্যা পাল্টাতে হবে। তৃতীয় বিচারপতি পুরো মামলা না শুনে রায় দেয়ায় বিষয়টি লিভ টু আপিল গ্রহণের গ্রাউন্ড হতে পারে কিনা এ নিয়েও তিনি আদালতের সামনে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে প্রশ্ন রাখেন। গতকাল বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলামের
নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার ২৫তম কার্যদিবসের শুনানি শেষ হয়েছে। সকাল থেকে পুরো কার্যদিবসটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। আজও তিনি অসমাপ্ত বক্তব্য রাখবেন। তার আগে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বক্তব্য রেখেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শুনানির শুরু থেকে টানা বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মূল পয়েন্টে না গিয়ে আবেগপূর্ণ কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পেপারবুকের পাতা ওল্টানো যায় না। পাতা ওল্টাতে গেলে কান্ন থামানো যায় না। ৩৪ বছর হয়ে গেছে এখনও বিচার সম্পন্ন হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দাবি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নানান শ্রেণী-পেশার মানুষ দাবি করে আসছে। এটা হচ্ছে জনগণের ইমোশন। অ্যাটর্নি জেনারেল প্রশ্ন রেখে বলেন, আদালত কি সাধারণ জনগণের ইমোশনের বাইরে? আদালতের দেখানো উচিত ধনী, গরিব সবাই হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সমান। খুন করে কেউ পার পায় না। তাহলেই আদালতের মর্যাদা মানুষের কাছে বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, মেজর (অব.) বজলুল স্লদার আইনজীবী ব্যারিসল্টার আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানিকালে শুধু একবার বলেছিলেন, বিভিন্ন দেশ এই ঘটনার বিচার পর্যবেক্ষণ করছে। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আদালত তাকে মামলার সংশ্লিষ্ট পয়েন্টের বাইরে বাড়তি কথা না বলতে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানির সূচনা বক্তব্যে আরও বলেন, বঙ্গবন্ব্দু যখন নিহত হন তখন বয়স ছিল ৫৫ বছর ৪ মাস ১৮ দিন। তাকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের একটি চেতনাকে হত্যা করা হয়েছে। এই চেতনা ছিল আধুনিক গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া। কয়েকজন পলাতক আসামির বিষয়ে বর্ণনা করার সময় আদালত থেকে এক বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, তারা আপিলে আছেন কিনা। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তারা আপিলে নেই, তারপরও অবস্থানটা বললাম, যাতে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে। আদালতের অপর এক বিচারপতি তখন বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই।
উল্লেখ্য, হাইকোর্ট বিভাগের তৃতীয় বিচারপতি তিন পলাতক আসামিকে কোন কোন গ্রাউন্ডে খালাস দিয়েছেন সেগুলো উপস্থাপন করে বক্তব্য রেখে বজলুল স্লদার আইনজীবী যখন বলতে চেয়েছিলেন তারা মুক্তি পেলে একই গ্রাউন্ডে অন্য আসামিরা সুযোগ পাবে না কেন—তখন আদালত কড়া ভাষায় বলেছিলেন, যেসব আসামি আপিলে নেই তাদের বিষয়ে এখানে উপস্থাপন করতে দেয়া যায় না। অনুপস্থিত কারও বিষয়ে এই আদালত কোনো কিছু বলতে দিতে পারে না।
৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত লিভ মঞ্জুরের গ্রাউন্ডের ৫টি পয়েন্টের বাইরে বক্তব্য রাখার পর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি এখন প্রথম পয়েন্টে যাচ্ছি। লিভ মঞ্জুরের ৫টি পয়েন্টের প্রথম পয়েন্ট হচ্ছে সব আসামির বিষয়ে শুনানি না করে পুরো মামলায় রায় দেয়া আইনসঙ্গত হয়েছে কিনা।
অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে জানান, এই মামলার আসামিরাও মোশতাকের অনুসারী গ্রেট গাদ্দার। এ জন্য এরা একেক সময় একেক কথা বলছেন। নিম্ন আদালতে বিচার চলাকালে তারা বলতে পারতেন সেনা আইনে বিচার হবে। ফৌজদারি আইনে বিচার চলবে না। এতদিন পর এখন তারা আপিল বিভাগে এসে বলছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগসেল্টর ঘটনায় সাধারণ ফৌজদারি আইনে বিচার চলে না। সেনা আইনে বিচার হওয়া দরকার ছিল।
হাইকোর্ট বিভাগের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতির রায় গ্রহণ করা না করার বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত যুক্তি প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কি লিভ টু আপিল মঞ্জুরের গ্রাউন্ড হতে পারে? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগসেল্টর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১৯৭১ সালের সব অর্জন নষ্ট করে দিয়েছে। তখন আদালত থেকে এক বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেন, এত আবেগপ্রবণ হলে চলবে না। অপর এক বিচারপতি বলেন, আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ বসে শুনানি করে লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেছেন। আপনি কি তার বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দিয়েছিলেন? অ্যাটর্নি জেনারেল এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে আবারও নিজের সাবমিশনে চলে যান। তিনি বলেন, যে মুহূর্তে তৃতীয় বিচারপতি রায়ে স্বাক্ষর করেছেন সে মুহূর্তে হাইকোর্ট বিভাগের রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তৃতীয় বিচারপতির চূড়ান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের রায় নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা যে প্রশ্ন তুলেছেন, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয় বিচারপতি আইনসঙ্গতভাবেই ৬ জনের বিষয়ে শুনানি করে রায় দিয়েছেন। বাকি ৯ জনের বিষয়ে বিচারপতি মোঃ রুস্লল আমিন ও বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক অভিন্ন অভিমত দেয়ায় তৃতীয় বিচারপতি তাদের বিষয়টি শুনানি করেননি। শুধু যাদের বিষয়ে এই দুই বিচারপতি ভিন্ন ভিন্ন অভিমত দিয়েছেন তাদেরটা শুনানি করে পুরো রায় দিয়েছেন। এতে বেআইনি হওয়ার কিছুই নেই।
শুনানিতে অন্যান্যের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল মুবিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজা বেগম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কামরুল হক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার দিলওয়ারুজ্জামান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফজিলাতুননেসা বাপ্পি, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আলতাফ হোসাইন। এছাড়া সরকার পক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, ব্যারিসল্টার ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামি পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট খান সাইফুর রহমান, সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান, ব্যারিসল্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও তাদের সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?