মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের পাশে বিসেম্ফারণের তদন্ত নিয়ে আগ্রহ নেই সরকারের
সল্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর বঙ্গবন্ব্দু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের অফিসের কাছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাব সংলগ্ন সড়কে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্যজনকভাবেই চুপচাপ রয়েছে আইন-শৃগ্ধখলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থাও এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও এই মামলার তদন্তে কোনো আগ্রহ নেই। অথচ গত ২১ অক্টোবর মতিঝিলে বাংলার বাণী ভবনের সামনে এমপি ব্যারিসল্টার ফজলে নূর তাপসের গাড়ির কাছে বোমা বিসেম্ফারণের পর পুলিশ ও গোয়েন্দাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। প্রশ্ন উঠেছে, ২১ অক্টোবরের বোমা বিসেম্ফারণের ঘটনা তদন্তে পুলিশ যতটা সক্রিয় ছিল, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের কাছে বোমা বিসেম্ফারণের তদন্তে পুলিশ এতটা নীরব কেন? তাছাড়া সংসদের বিপরীতে রমনা ভবনের সামনে ওই সময় বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশার উপস্থিতি এবং তারই এলাকার লোকজন আহত হওয়ার বিষয়টিও গভীর রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার রহস্যজনক বোমা বিসেম্ফারণে আহত হয় ৪ জন। দুপুর আড়াইটার দিকে রমনা ভবনের বিপরীতে জনাকীর্ণ মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব সংলগ্ন সড়কে বিসেম্ফারণ হয়। এই ক্লাবটিতে সব সময়ই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জমজমাট আড্ডা থাকে। ২৪ ঘণ্টাই সরগরম থাকে ক্রীড়াচক্রটি। ক্লাবের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। এরপরও শত শত মানুষের উপস্থিতিতে কীভাবে বোমার বিসেম্ফারণ হলো, তা নিয়ে রহস্য কাটছে না। বিস্ফোরণের উত্স সম্পর্কে পুলিশ ও গোয়েন্দারা এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু বের করতে পারেননি। ওই বিস্ফোরণে আহত
হয়েছেন বাগেরহাটের কচুয়ার গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু, পথচারী কার্তিক চন্দ্র দাস এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মচারী আবদুর রশিদ। ঘটনার পরপরই বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা আহতদের তার গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
আহতরা সবাই আঘাত পেয়েছেন হাত এবং ঘাড়ে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, আহতের ধরন দেখে বোঝা যায় বিসেম্ফারণের সময় আহতরা আশপাশে বসা ছিলেন অথবা বোমার বিসেম্ফারণ স্থানটি ঘিরে ছিলেন। দাঁড়ানো থাকলে আহতদের পায়ে, পেটে আঘাত লাগত। অনেক সময় বোমা তৈরি অথবা বহনের সময় এ ধরনের আঘাত সৃষ্টি হয়।
বিসেম্ফারণে আহত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু বলেন, নাসির চেয়ারম্যানসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগী দেখে তিনি রিকশায় করে গুলিস্তানে যান। ক্লাবের কাছে নেমে পাশাপাশি হেঁটে গোলাপশাহ্র মাজারের দিকে যেতে একটু সামনে এগুনোর পরই বিকট শব্দে বিসেম্ফারণটি হয়। নাসির চেয়ারম্যানের ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। তিনি এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার ধারণা, ডান দিক থেকে কেউ বোমাটি ছুড়ে মেরেছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী রমনা ভবনের সামনের ফুটপাতে কাপড় বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাব ঘেঁষে হঠাত্ করে একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটোছুটি শুরু করেন। তার ধারণা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভেতরই বিসেম্ফারণটি ঘটেছিল।
ঘটনার সময় রমনা ভবনের সামনে ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা। তিনি ঘটনাস্থলে তার এলাকার পরিচিত দুই আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু এবং নাসির উদ্দিনকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত গাড়িতে তুলে নেন। পরে তাদের নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বোমা বিসেম্ফারণের পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান র্যাব, পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিসেম্ফারক বিশেষজ্ঞ ইউনিটের কর্মকর্তারা। তারা ঘটনাস্থল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও রহস্যজনকভাবেই কোনো বোমা বিসেম্ফারণের আলামত পাননি। বিসেম্ফারণের পর বিসেম্ফারকের চিহ্ন, স্পিল্গন্টারসহ আলামত থাকার কথা। সন্দেহ করা হচ্ছে, বিসেম্ফারণের চিহ্ন মুছে ফেলতে আলামতগুলো কেউ সরিয়ে ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিসেম্ফারণটি হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের দেয়াল ঘেঁষে। ক্লাবের ভেতর রাখা অথবা ছুড়ে মারা কোনো বিসেম্ফারক থেকেও ওই বিসেম্ফারণ হতে পারে। ঢাকা মেডিকেল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে শেখ নজরুল ইসলাম মন্টুর হাত ও কাঁধে, নাসির উদ্দিনের কান ও মাথায়, কার্তিক চন্দ্র দাসের হাত ও বুকে এবং আবদুর রশিদের পেটে কাচের টুকরা পাওয়া গেছে। তাদের শরীরের কোথাও বোমার স্পিল্গন্টার ছিল না।
ঘটনাস্থলে রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণ নিয়ে তারাও গোলক ধাঁধায় পড়েছেন। শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, মামলার তদন্ত চলছে। কারা এই বিসেম্ফারণ ঘটিয়েছে তাদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। সম্ভবত বোতলে ভরা ছুড়ে মারা কোনো বিসেম্ফারক থেকে ওই বিসেম্ফারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রহস্যজনক বোমা বিসেম্ফারণে আহত হয় ৪ জন। দুপুর আড়াইটার দিকে রমনা ভবনের বিপরীতে জনাকীর্ণ মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব সংলগ্ন সড়কে বিসেম্ফারণ হয়। এই ক্লাবটিতে সব সময়ই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জমজমাট আড্ডা থাকে। ২৪ ঘণ্টাই সরগরম থাকে ক্রীড়াচক্রটি। ক্লাবের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। এরপরও শত শত মানুষের উপস্থিতিতে কীভাবে বোমার বিসেম্ফারণ হলো, তা নিয়ে রহস্য কাটছে না। বিস্ফোরণের উত্স সম্পর্কে পুলিশ ও গোয়েন্দারা এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু বের করতে পারেননি। ওই বিস্ফোরণে আহত
হয়েছেন বাগেরহাটের কচুয়ার গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু, পথচারী কার্তিক চন্দ্র দাস এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মচারী আবদুর রশিদ। ঘটনার পরপরই বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা আহতদের তার গাড়িতে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
আহতরা সবাই আঘাত পেয়েছেন হাত এবং ঘাড়ে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, আহতের ধরন দেখে বোঝা যায় বিসেম্ফারণের সময় আহতরা আশপাশে বসা ছিলেন অথবা বোমার বিসেম্ফারণ স্থানটি ঘিরে ছিলেন। দাঁড়ানো থাকলে আহতদের পায়ে, পেটে আঘাত লাগত। অনেক সময় বোমা তৈরি অথবা বহনের সময় এ ধরনের আঘাত সৃষ্টি হয়।
বিসেম্ফারণে আহত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু বলেন, নাসির চেয়ারম্যানসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন রোগী দেখে তিনি রিকশায় করে গুলিস্তানে যান। ক্লাবের কাছে নেমে পাশাপাশি হেঁটে গোলাপশাহ্র মাজারের দিকে যেতে একটু সামনে এগুনোর পরই বিকট শব্দে বিসেম্ফারণটি হয়। নাসির চেয়ারম্যানের ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। তিনি এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার ধারণা, ডান দিক থেকে কেউ বোমাটি ছুড়ে মেরেছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শী রমনা ভবনের সামনের ফুটপাতে কাপড় বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাব ঘেঁষে হঠাত্ করে একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটোছুটি শুরু করেন। তার ধারণা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভেতরই বিসেম্ফারণটি ঘটেছিল।
ঘটনার সময় রমনা ভবনের সামনে ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি অ্যাডভোকেট মীর শওকত আলী বাদশা। তিনি ঘটনাস্থলে তার এলাকার পরিচিত দুই আওয়ামী লীগ নেতা শেখ নজরুল ইসলাম মন্টু এবং নাসির উদ্দিনকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত গাড়িতে তুলে নেন। পরে তাদের নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বোমা বিসেম্ফারণের পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান র্যাব, পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিসেম্ফারক বিশেষজ্ঞ ইউনিটের কর্মকর্তারা। তারা ঘটনাস্থল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও রহস্যজনকভাবেই কোনো বোমা বিসেম্ফারণের আলামত পাননি। বিসেম্ফারণের পর বিসেম্ফারকের চিহ্ন, স্পিল্গন্টারসহ আলামত থাকার কথা। সন্দেহ করা হচ্ছে, বিসেম্ফারণের চিহ্ন মুছে ফেলতে আলামতগুলো কেউ সরিয়ে ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিসেম্ফারণটি হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রের দেয়াল ঘেঁষে। ক্লাবের ভেতর রাখা অথবা ছুড়ে মারা কোনো বিসেম্ফারক থেকেও ওই বিসেম্ফারণ হতে পারে। ঢাকা মেডিকেল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে শেখ নজরুল ইসলাম মন্টুর হাত ও কাঁধে, নাসির উদ্দিনের কান ও মাথায়, কার্তিক চন্দ্র দাসের হাত ও বুকে এবং আবদুর রশিদের পেটে কাচের টুকরা পাওয়া গেছে। তাদের শরীরের কোথাও বোমার স্পিল্গন্টার ছিল না।
ঘটনাস্থলে রমনা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণ নিয়ে তারাও গোলক ধাঁধায় পড়েছেন। শাহবাগ থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, মামলার তদন্ত চলছে। কারা এই বিসেম্ফারণ ঘটিয়েছে তাদের এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। সম্ভবত বোতলে ভরা ছুড়ে মারা কোনো বিসেম্ফারক থেকে ওই বিসেম্ফারণ হতে পারে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


