ভারতীয় গোয়েন্দারাই কি বাংলাদেশ থেকে ২ নেতাকে ধরে নিয়ে গেছে : উলফার দুই নেতা ১০ দিনের রিমান্ডে : আসামে ১২ ঘণ্টা বন্ধ
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান, র্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান সবাই অস্বীকার করেছেন ইউনাইটেড লিবারেশন ফদ্ধন্ট অব আসাম বা উলফার প্রভাবশালী দুই নেতা পররাষ্ট্র বিষয়ক সম্পাদক শশধর চৌধুরী ও অর্থ সম্পাদক চিত্রাবন হাজারিকাকে বাংলাদেশের পুলিশ কিংবা গোয়েন্দারা আটক করেনি। এ অবস্থায় প্রশ্ন জেগেছে, তাহলে কি ভারতীয় গোয়েন্দারাই এই দুই নেতাকে ঢাকায় অপারেশন চালিয়ে ধরে নিয়ে গেছে? বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন অবশ্য তাদের আটকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উলফার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত এই দু’নেতাকে শনিবার আসামের রাজধানী গৌহাটির
আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের আটকের প্রতিবাদে গতকাল আসামে উলফার ডাকে ১২ ঘণ্টার বন্ধ পালিত হয়েছে। ভারতের মিডিয়া জানিয়েছে, ১ নভেম্বর রাতে ওই দুইজনকে ঢাকা থেকে আটকের পর ৪ নভেম্বর রাতে ত্রিপুরার বিএসএফ আউটপোসেল্ট হাজির করা হয়। এদিকে অফিসিয়াল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার খবরে আরও বলা হয়েছে, উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া এবং সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়, পরেশ বড়ুয়া মাসখানেক আগে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। বর্তমানে চীনের ইউনান প্রদেশে রয়েছেন। আর রাজখোয়া ঢাকা থেকে তার আস্তানা গুটিয়ে বাংলাদেশেই গোপন আস্তানায় চলে গেছেন। উলফার জেনারেল সেক্রেটারি অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ভারত বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে আসছিল যে বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতারা বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছেন। বাংলাদেশ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা সরকার ভারতীয় গোয়েন্দাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগেও অমল দাস নামে এক উলফা নেতাকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। এরপরই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের বলেছিলেন উলফা নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনে নামার জন্য আইন-শৃগ্ধখলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ উলফার দু’নেতা শশধর চৌধুরী ও চিত্রাবন হাজারিকাকে আটকের পর উলফার পক্ষ থেকেই মিডিয়ার কাছে প্রথম তাদের নেতাদের আটকের খবর দেয়া হয়। এরপরই পুলিশের আইজি নুর মোহাম্মদ এ ধরনের আটকের খবর অস্বীকার করায় ভারতীয় কোনো কমান্ডো বাহিনী কিংবা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কোনো বিশেষ ইউনিট এই আটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপে এ জাতীয় অভিযান চালানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ অবশ্য হরহামেশাই ফিলিস্তিনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে হামাস কিংবা তাদের কাছে সন্দেহভাজন লোকদের ধরে নিয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় উলফার দু’নেতাকে আটক করা হয়। দু’দেশের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকায় ভারতের অনুরোধে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি। ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে নিয়ে গিয়ে তাদের গোকুল নগর আউটপোসেল্ট ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। আসাম ট্রিবিউন, দি হিন্দুসহ ভারতীয় মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে উলফার দু’নেতাকে ধরে নেয়ার কাহিনীসহ নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবারই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে আসাম পুলিশের কর্মকর্তারা দু’নেতাকে নিয়ে গৌহাটিতে যান। গৌহাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিসেল্ট্রট কোর্টে শনিবার তাদের হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
আসাম পুলিশের প্রধান শংকর বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উলফার দু’নেতা বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে সারেন্ডার করেছেন। তাদের নামে বস্ল ক্রিমিন্যাল মামলা রয়েছে, এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কিন্তু দুই উলফা নেতা কোর্টে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা আত্মসমর্পণ করিনি। আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না। আমরা সত্যিকার অর্থে জানি না কারা আমাদের বাংলাদেশ থেকে ধরল এবং এখান পর্যন্ত নিয়ে এলো। শশধর চৌধুরী সাংবাদিকদের আরও বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। চিত্রাবন হাজারিকা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সারেন্ডারের ভারতীয় সরকারের গল্প একটি ডাহা মিথ্যা কাহিনী এবং ষড়যন্ত্রের অংশ। বার্তা সংস্থা আইএএনএস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘দুজন উলফা নেতাকে বাংলাদেশের পুলিশ আটক করে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয়। তাদের গোকুলনগর আউটপোসেল্ট নিয়ে বিএসএফের কাছে সারেন্ডার দেখানো হয়। যেহেতু দু’দেশের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই, সে কারণে এ পথ অনুসরণ করা হয়েছে। ’
ভারতীয় গোয়েন্দারাই দু’নেতাকে বলেছেন, তারা উলফার সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাতে চান। তবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গুগুই শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আগে আমরা এদের জিজ্ঞাসাবাদ করব, তাদের মামলাগুলো তদন্ত করব, তারপরই কেবল শান্তি আলোচনার বিষয় আসতে পারে। তিনি বলেন, আলোচনার দ্বার খোলা আছে। তবে তাদের আগে সন্ত্রাসের পথ ছাড়তে হবে, তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।
আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তাদের আটকের প্রতিবাদে গতকাল আসামে উলফার ডাকে ১২ ঘণ্টার বন্ধ পালিত হয়েছে। ভারতের মিডিয়া জানিয়েছে, ১ নভেম্বর রাতে ওই দুইজনকে ঢাকা থেকে আটকের পর ৪ নভেম্বর রাতে ত্রিপুরার বিএসএফ আউটপোসেল্ট হাজির করা হয়। এদিকে অফিসিয়াল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার খবরে আরও বলা হয়েছে, উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া এবং সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার স্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়, পরেশ বড়ুয়া মাসখানেক আগে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। বর্তমানে চীনের ইউনান প্রদেশে রয়েছেন। আর রাজখোয়া ঢাকা থেকে তার আস্তানা গুটিয়ে বাংলাদেশেই গোপন আস্তানায় চলে গেছেন। উলফার জেনারেল সেক্রেটারি অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ভারত বিভিন্ন সময় অভিযোগ করে আসছিল যে বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতারা বাংলাদেশে আত্মগোপন করে আছেন। বাংলাদেশ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা সরকার ভারতীয় গোয়েন্দাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগেও অমল দাস নামে এক উলফা নেতাকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। এরপরই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের বলেছিলেন উলফা নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউনে নামার জন্য আইন-শৃগ্ধখলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ উলফার দু’নেতা শশধর চৌধুরী ও চিত্রাবন হাজারিকাকে আটকের পর উলফার পক্ষ থেকেই মিডিয়ার কাছে প্রথম তাদের নেতাদের আটকের খবর দেয়া হয়। এরপরই পুলিশের আইজি নুর মোহাম্মদ এ ধরনের আটকের খবর অস্বীকার করায় ভারতীয় কোনো কমান্ডো বাহিনী কিংবা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কোনো বিশেষ ইউনিট এই আটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপে এ জাতীয় অভিযান চালানোর দৃষ্টান্ত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোশাদ অবশ্য হরহামেশাই ফিলিস্তিনি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে হামাস কিংবা তাদের কাছে সন্দেহভাজন লোকদের ধরে নিয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় উলফার দু’নেতাকে আটক করা হয়। দু’দেশের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তি না থাকায় ভারতের অনুরোধে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি। ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে নিয়ে গিয়ে তাদের গোকুল নগর আউটপোসেল্ট ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। আসাম ট্রিবিউন, দি হিন্দুসহ ভারতীয় মিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে উলফার দু’নেতাকে ধরে নেয়ার কাহিনীসহ নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবারই ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টারে আসাম পুলিশের কর্মকর্তারা দু’নেতাকে নিয়ে গৌহাটিতে যান। গৌহাটির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিসেল্ট্রট কোর্টে শনিবার তাদের হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
আসাম পুলিশের প্রধান শংকর বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উলফার দু’নেতা বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে সারেন্ডার করেছেন। তাদের নামে বস্ল ক্রিমিন্যাল মামলা রয়েছে, এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। কিন্তু দুই উলফা নেতা কোর্টে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা আত্মসমর্পণ করিনি। আত্মসমর্পণের প্রশ্নই আসে না। আমরা সত্যিকার অর্থে জানি না কারা আমাদের বাংলাদেশ থেকে ধরল এবং এখান পর্যন্ত নিয়ে এলো। শশধর চৌধুরী সাংবাদিকদের আরও বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। চিত্রাবন হাজারিকা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সারেন্ডারের ভারতীয় সরকারের গল্প একটি ডাহা মিথ্যা কাহিনী এবং ষড়যন্ত্রের অংশ। বার্তা সংস্থা আইএএনএস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘দুজন উলফা নেতাকে বাংলাদেশের পুলিশ আটক করে ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয়। তাদের গোকুলনগর আউটপোসেল্ট নিয়ে বিএসএফের কাছে সারেন্ডার দেখানো হয়। যেহেতু দু’দেশের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই, সে কারণে এ পথ অনুসরণ করা হয়েছে। ’
ভারতীয় গোয়েন্দারাই দু’নেতাকে বলেছেন, তারা উলফার সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাতে চান। তবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গুগুই শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আগে আমরা এদের জিজ্ঞাসাবাদ করব, তাদের মামলাগুলো তদন্ত করব, তারপরই কেবল শান্তি আলোচনার বিষয় আসতে পারে। তিনি বলেন, আলোচনার দ্বার খোলা আছে। তবে তাদের আগে সন্ত্রাসের পথ ছাড়তে হবে, তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


