বাপেক্স ১০৭ কোটি টাকার রিগ কিনল ২৫৬ কোটিতে
এম আবদুল্লাহ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) জন্য রিগ কেনা হচ্ছে ২৫৬ কোটি টাকায়। ২০০৩ সালে প্রথম দরপত্রে এ রিগের দর পাওয়া গিয়েছিল ১০৭ কোটি টাকা। তখন দাম বেশি বলে যে রিগ কেনা হয়নি তা-ই এখন কেনা হলো প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকা বেশি দামে। ২০০৬ সালের দ্বিতীয় দরপত্রেও দাম উঠেছিল ১৫২ কোটি টাকা। অস্বাভাবিক দামের কারণে সেটিও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। তার চেয়েও ২০০৮ সালের ক্রয়মূল্য ১০৪ কোটি টাকা বেশি। মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে দামের এ পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চীনা কোম্পানি থেকে কেনা এই রিগের মূল্য অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান সরকার সরবরাহ আদেশ দেয়ার পর রিগটি এখন তৈরির কাজ চলছে। আগামী এপ্রিলের শেষে কিংবা মে মাসের শুরুতে রিগটি বাংলাদেশে আনার জন্য জাহাজীকরণের কথা রয়েছে। ৫০০ মিটারের অধিক গভীরতায় কূপ খনন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক এসি-এসি টাইপ ল্যান্ড ড্রিলিং রিগ ও রিগ যন্ত্রপাতি এবং ৫ ইঞ্চি ব্যসের ৩ হাজার ৬শ’ মিটার ড্রিলিং পাইপ ক্রয় করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ব্দান ও উত্পাদন কোম্পানি বাপেক্সের ‘অপারেশন ক্যাপাবিলিটি স্ট্রেংদেনিং (রিগ প্রকিউরমেন্ট) প্রকল্প’-এর আওতায় রিগ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৮ সালে। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বাপেক্স বোর্ডে প্রাথমিক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পেট্রোবাংলার বোর্ড তা অনুমোদন দেয় ১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ। একই বছরের ৩০ আগসল্ট তা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। তারপর দীর্ঘদিন আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালের ৮ জুন একনেক সভায় মূল পিপি অনুমোদন লাভ করে। তাতে তত্কালীন বাজার দর অনুযায়ী দর প্রাক্কলন করা হয়েছিল মাত্র ৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে টেন্ডারে সর্বনিম্ন দর পাওয়া পাওয়া যায় ১০৭ কোটি টাকা। এ দর অস্বাভাবিক বিবেচিত হওয়ায় তত্কালীন সরকার ক্রয়াদেশ দেয়নি। সিদ্ধান্ত হয় পুনঃদরপত্রের। ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই সংশোধিত পিপি অনুমোদন করে একনেক। এ সময় পুনঃদরপত্র আহ্বান করলে সর্বাধুনিক রিগের দর পাওয়া যায় ১৫২ কোটি টাকা। আগের দরের চেয়ে ৪৫ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়াকে সন্দেহজনক অভিহিত করে তত্কালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ক্রয়াদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও তিনি আপত্তি জানান। বর্ধিত দরে রিগ কিনলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করে জ্বালানি বিভাগ। পুনঃদরপত্র আহ্বানের নির্দেশনা দেয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে।
জোট সরকার বিদায় নিলে বাপেক্স নতুন করে উদ্যোগ নেয় ২০০৮ সলে। ওই বছর
২৭ অক্টোবর বাপেক্সের ২৫১তম বোর্ডসভায় রিগ ক্রয়ের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করা হয়। এবার দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা রিগের দর হাঁকেন ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চীনা কোম্পানি সিচুয়ান হাংগুয়া পেট্রোলিয়াম ইকুইপমেন্ট কোম্পানি এ দর প্রস্তাব করে। সংশোধিত পিপি (আরডিপিপি) পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ২৪ নভেম্বর ২০০৮ আরডিপিপি অনুমোদন পায় একনেকে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রিগ ক্রয়ের জন্য চীনা কোম্পানি সিচুয়ানের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করা হয়। গত ২ এপ্রিল দরপত্রের অনুকূলে এলসি খোলা হয়েছে। চীনা কোম্পানির আমন্ত্রণে গত ১২ থেকে ১৮ জুলাই রিগ ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছে বাপেক্সের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ইতোমধ্যে রিগ তৈরির কাজ ৫০ শতাংশ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মাদ ইমাদুদ্দীন। তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে বাপেক্সের টেকনিক্যাল প্রতিনিধিদল আবার চীন যাবে ট্রেনিং নেয়ার জন্য। আগামী বছরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রিগ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য জাহাজীকরণ করবে বলে সরবরাহকারী কোম্পানি বাপেক্সকে জানিয়েছে।
অস্বাভাবিক দামে রিগ ক্রয় করা হচ্ছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বাপেক্সের এমডি মুহাম্মাদ ইমাদুদ্দীন দাবি করেন সাশ্রয়ী মূল্যে রিগটি কেনা হচ্ছে। আগের দরের সঙ্গে পার্থক্য সম্পর্কে বাপেক্স এমডি বলেন, ডলারের বিনিময় হারের কারণে দামের পার্থক্য হতেই পারে। ২০০৬ সালের জুলাই-অক্টোবরে টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ছিল গড়ে ৬৯ টাকা। এখনও বিনিময় হার একই। বিনিময় হারে কোনো পরিবর্তন না হলেও দু’বছরের ব্যবধানে ১০৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি কিংবা প্রথম প্রাক্কলনের তুলনায় পৌনে দুইশ’ কোটি টাকা বেশি দামে রিগ কেনার বিষয়ে সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে কী করলে কী হতো এমন প্রশ্ন তোলা অবান্তর। শেষ পর্যন্ত বাপেক্স একটি অনুসন্ব্দান রিগ পাচ্ছে এটাই বড় কথা। এ রিগ পেলে বাপেক্স নতুন নতুন অনুসন্ব্দান কূপ খনন করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ব্দান ও উত্পাদন কোম্পানি বাপেক্সের ‘অপারেশন ক্যাপাবিলিটি স্ট্রেংদেনিং (রিগ প্রকিউরমেন্ট) প্রকল্প’-এর আওতায় রিগ কেনার উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৮ সালে। ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বাপেক্স বোর্ডে প্রাথমিক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পেট্রোবাংলার বোর্ড তা অনুমোদন দেয় ১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ। একই বছরের ৩০ আগসল্ট তা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। তারপর দীর্ঘদিন আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিগত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালের ৮ জুন একনেক সভায় মূল পিপি অনুমোদন লাভ করে। তাতে তত্কালীন বাজার দর অনুযায়ী দর প্রাক্কলন করা হয়েছিল মাত্র ৮১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে টেন্ডারে সর্বনিম্ন দর পাওয়া পাওয়া যায় ১০৭ কোটি টাকা। এ দর অস্বাভাবিক বিবেচিত হওয়ায় তত্কালীন সরকার ক্রয়াদেশ দেয়নি। সিদ্ধান্ত হয় পুনঃদরপত্রের। ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই সংশোধিত পিপি অনুমোদন করে একনেক। এ সময় পুনঃদরপত্র আহ্বান করলে সর্বাধুনিক রিগের দর পাওয়া যায় ১৫২ কোটি টাকা। আগের দরের চেয়ে ৪৫ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়াকে সন্দেহজনক অভিহিত করে তত্কালীন জ্বালানি উপদেষ্টা ক্রয়াদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও তিনি আপত্তি জানান। বর্ধিত দরে রিগ কিনলে ভবিষ্যতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করে জ্বালানি বিভাগ। পুনঃদরপত্র আহ্বানের নির্দেশনা দেয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে।
জোট সরকার বিদায় নিলে বাপেক্স নতুন করে উদ্যোগ নেয় ২০০৮ সলে। ওই বছর
২৭ অক্টোবর বাপেক্সের ২৫১তম বোর্ডসভায় রিগ ক্রয়ের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করা হয়। এবার দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা রিগের দর হাঁকেন ২৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চীনা কোম্পানি সিচুয়ান হাংগুয়া পেট্রোলিয়াম ইকুইপমেন্ট কোম্পানি এ দর প্রস্তাব করে। সংশোধিত পিপি (আরডিপিপি) পেট্রোবাংলা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ২৪ নভেম্বর ২০০৮ আরডিপিপি অনুমোদন পায় একনেকে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি রিগ ক্রয়ের জন্য চীনা কোম্পানি সিচুয়ানের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করা হয়। গত ২ এপ্রিল দরপত্রের অনুকূলে এলসি খোলা হয়েছে। চীনা কোম্পানির আমন্ত্রণে গত ১২ থেকে ১৮ জুলাই রিগ ইয়ার্ড পরিদর্শন করেছে বাপেক্সের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ইতোমধ্যে রিগ তৈরির কাজ ৫০ শতাংশ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মাদ ইমাদুদ্দীন। তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে বাপেক্সের টেকনিক্যাল প্রতিনিধিদল আবার চীন যাবে ট্রেনিং নেয়ার জন্য। আগামী বছরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রিগ ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য জাহাজীকরণ করবে বলে সরবরাহকারী কোম্পানি বাপেক্সকে জানিয়েছে।
অস্বাভাবিক দামে রিগ ক্রয় করা হচ্ছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বাপেক্সের এমডি মুহাম্মাদ ইমাদুদ্দীন দাবি করেন সাশ্রয়ী মূল্যে রিগটি কেনা হচ্ছে। আগের দরের সঙ্গে পার্থক্য সম্পর্কে বাপেক্স এমডি বলেন, ডলারের বিনিময় হারের কারণে দামের পার্থক্য হতেই পারে। ২০০৬ সালের জুলাই-অক্টোবরে টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার ছিল গড়ে ৬৯ টাকা। এখনও বিনিময় হার একই। বিনিময় হারে কোনো পরিবর্তন না হলেও দু’বছরের ব্যবধানে ১০৪ কোটি টাকা বৃদ্ধি কিংবা প্রথম প্রাক্কলনের তুলনায় পৌনে দুইশ’ কোটি টাকা বেশি দামে রিগ কেনার বিষয়ে সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে কী করলে কী হতো এমন প্রশ্ন তোলা অবান্তর। শেষ পর্যন্ত বাপেক্স একটি অনুসন্ব্দান রিগ পাচ্ছে এটাই বড় কথা। এ রিগ পেলে বাপেক্স নতুন নতুন অনুসন্ব্দান কূপ খনন করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


